আজকাল ওয়েবডেস্ক: চোট-আঘাতের জেরে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে দূরে থাকার পর আবারও নেইমারের সামনে খুলে গেল ব্রাজিলের জাতীয় দলে ফেরার দরজা।
বিশ্বকাপের আগে শেষ ফিফা উইন্ডোতে আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলির জন্য প্রাথমিক দলে রাখা হয়েছে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে। চলতি মাসেই ফ্রান্স এবং এবং ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল।
দুই শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে এই প্রস্তুতি ম্যাচ বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত দল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। ব্রাজিলের হেড কোচ কার্লো অ্যান্সেলত্তি এই ফিফা উইন্ডোকে শেষ প্রস্তুতির সুযোগ হিসেবেই ব্যবহার করতে চাইছেন।
ফলে নেইমারের জন্য এই প্রাথমিক দলে সুযোগ পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে একের পর এক চোটের কারণে তিনি জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন।
বর্তমানে নিজের ছোটবেলার ক্লাব সান্তোস এফসিতে খেলছেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলার। চলতি বছরে মাঠে ফেরার পর ধীরে ধীরে ফর্মের ঝলক দেখাতে শুরু করেছেন তিনি।
ভেলো ক্লাবের বিরুদ্ধে ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন নেইমার। এরপর নোভোরিজোন্টিনো এবং ভাস্কো দা গামার বিরুদ্ধে প্রথম একাদশেই নামানো হয় নেইমার জুনিয়রকে।
তবে জাতীয় দলে ফেরা তাঁর জন্য সহজ হবে না। ব্রাজিলিয়ান লিগে কোচ অ্যান্সেলত্তি মিরাসোলের বিরুদ্ধে সান্তোসের ম্যাচে নেইমারকে খুঁটিয়ে দেখার পরিকল্পনা করেছিলেন।
কিন্তু শারীরিক চাপ কমানোর কারণে সেই ম্যাচের দলে রাখা হয়নি তাঁকে। ফলে এখন জাতীয় দলের কোচিং স্টাফকে নিজের ফিটনেস প্রমাণ করার জন্য নেইমারের সামনে কার্যত একটাই সুযোগ, করিন্থিয়ান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচে ভাল ফুটবল উপহার দেওয়া।
মিরাসোল ম্যাচে নেইমারের অনুপস্থিতি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। কারণ, সেই ম্যাচ দেখতে উপস্থিত থাকার কথা ছিল কোচ অ্যান্সেলত্তি এবং ব্রাজিলের টিম ডিরেক্টর রদ্রিগো কাইতানোর।
কিন্তু পেশির ক্লান্তির কারণে শেষ পর্যন্ত মাঠে নামেননি নেইমার। যদিও সান্তোস এফসি জানিয়েছে, আগাম সতর্কতা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সরকারের তরফে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ব্রাজিলের হয়ে খেলতে গিয়ে হাঁটুর লিগামেন্টে গুরুতর চোট পান নেইমার। সে কারণে এক বছরেরও বেশি সময় আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বাইরে থাকতে হয় তাঁকে এবং ক্লাব ফুটবলেও ছন্দ হারান তিনি।
সৌদি আরবের ক্লাব আল- হিলালের হয়ে খেলার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সান্তোসে ফিরে আসেন নেইমার। তবে এরপরও ধারাবাহিকভাবে ম্যাচ খেলার মতো ফিটনেস এখনও পুরোপুরি ফিরে পাননি তিনি।
গোল করার ক্ষমতার ঝলক দেখা গেলেও দীর্ঘ সময় মাঠে থাকার ধারাবাহিকতা এখনও গড়ে ওঠেনি। আগামী ২৬ মার্চ বস্টনে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে এবং ৩১ মার্চ অরল্যান্ডোতে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল।
তার আগে ১৬ মার্চ চূড়ান্তত দল ঘোষণা করা হবে। কার্লো অ্যান্সেলত্তি ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, শুধুমাত্র সম্পূর্ণ ফিট এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের শারীরিক চাহিদা সামলাতে সক্ষম খেলোয়াড়দেরই দলে নেওয়া হবে।
ফলে নেইমারের সীমিত ম্যাচ খেলা এবং ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন থাকায় তাঁর চূড়ান্ত দলে থাকা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে নেইমার না থাকলেও ব্রাজিলের আক্রমণভাগে প্রতিযোগিতা বেড়েছে।
সম্প্রতি, ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনহা, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি, এন্ড্রিক, ম্যাথিউস কুনহা এবং জোয়াও পেদ্রোর মতো ফুটবলাররা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করছেন।
তবুও নেইমারের অভিজ্ঞতা এবং অবদান এখনও গুরুত্বপূর্ণ। ১২৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৭৯ গোল করে তিনি এখনও ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা।
