আজকাল ওয়েবডেস্ক: যেদিন বিরাট কোহলির ব্যাট কথা বলবে না, রোহিত শর্মার গাণ্ডীব 'বোবা' থেকে যাবে, একের পর এক উইকেট হারিয়ে বিপন্ন ভারত, সেদিন লোকেশ রাহুল ধরা দেবেন ত্রাতা হিসেবে। 

দেশকে ভদ্রস্থ জায়গায় পৌঁছে দিয়ে আবার উইকেটের পিছনে তিনি দাঁড়াবেন পুরো পঞ্চাশ ওভার। দিনের শেষে তাঁকে নিয়ে কালি খরচ হবে না, তাঁকে নিয়ে চলবে না বীরপুজো। লোকেশ রাহুল থেকে যাবেন পিছনের সারিতেই। 

বুধবার রাজকোটে লোকেশ রাহুল না থাকলে ভারত দুশো রান করত কিনা সন্দেহ। কিন্তু তিনি তো রাহুল। মনে করিয়ে দেন কর্নাটকনিবাসী আরেক রাহুলকে। তিনিও তো ব্যাট করার পাশাপাশি উইকেট কিপিং করেছেন সাদা বলে। দলকে টেনে গিয়েছেন। তার পরেও সব আলো শুষে নিয়েছেন অন্যরা। রাহুল দ্রাবিড় থেকে গিয়েছেন পিছনে। 

রাজকোটে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া ভারতকে শেষমেশ রাহুল পৌঁছে দিলেন ২৮৪ রানে। নিজে অপরাজিত থেকে গেলেন ১১২ রানে। রাজকোটের রাহুল আখ্যান মনে থাকবে অনেকদিন। বিরাট-রোহিত-গিলরা ব্যর্থ হলেও ভারতকে টেনে নিয়ে যাওয়ার লোক রয়েছে এই দলে। পঞ্চাশ ওভারের বিশ্বকাপের আগে গৌতম গম্ভীরকে নির্ভরতা দিয়ে গেলেন লোকেশ রাহুল। 

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০-এ এগিয়ে থেকে ভারত খেলতে নামে রাজকোটে। টস জিতে নিউজিল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায় ভারতকে।

দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শুভমন গিল জুটিতে ৭০ রান করেন। রোহিত ২৪ রানে ফিরে গেলেন যেখানে ফিল্ডার দাঁড়িয়েছিলেন সেখানে ক্যাচ দিয়ে। গিল ৫৬ রান করেন। কিন্তু সেই ভুল শট নির্বাচনে ফিরতে হল ভারত অধিনায়ককে। বিরাট কোহলি নেমেই চার মারলেন। দর্শকদের উল্লাস বাড়ল। আবার কোহলির ব্যাট হয়তো বিরাট হয়ে উঠবে। ব্যাট করতে নামার আগে ভাল খবর পেয়েছিলেন কোহলি। ওয়ানডে ক্রিকেটে সেরা ব্যাটারের পালক জুড়েছিল তাঁর মুকুটে। কোহলি ম্যাজিক চলল না এদিন। মাত্র ২৩ রানে বল টেনে আনলেন উইকেটে। শ্রেয়স আইয়ারও ফিরলেন মাত্র ৮ রানে। ৪ উইকেটে ১১৮ রান।

এই অবস্থায় লোকেশ রাহুল দলকে টানার কাজ শুরু করলেন। এদিকে অন্যপ্রান্ত থেকে যে চলে যাচ্ছে উইকেট। কিন্তু লক্ষ্যে অবিচল রাহুল। জ্যামিসনকে ছক্কা মেরে সেঞ্চুরি করলেন তিনি। তার পরে ব্যাট আকাশের দিকে তুলে চলে রাহুলের সেলিব্রেশন। রাহুল বলতেই পারেন, তিনিই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মালিক। চাপের মুখে সেঞ্চুরি পেলে এমন মনে হওয়াই যে স্বাভাবিক। 

নিন্দুকদের ধেয়ে আসা সমালোচনা একসময়ে ক্ষতবিক্ষত করেছিল তাঁকে, অনেকেই প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন রাহুলকে নিয়ে। এর আগে ক্রিকেট মাঠে রাহুল বিভিন্ন ভঙ্গিমায় ধরা দিয়েছেন। চোখ বন্ধ করে কানে আঙুল দিয়ে রয়েছেন তিনি। রাহুল বোধহয়, বোঝাতে চেয়েছিলেন, বাইরের সমালোচনা তাঁকে স্পর্শ করে না। তাঁর কানে ঢোকে না সে সব। রাজকোটে মুখে আঙুল দিয়ে আকাশের দিকে ব্যাট দেখান। 

এদিন কখনও সিঙ্গলস নিয়ে স্কোরবোর্ড রোটেট করেছেন, কখনও বাউন্ডারি মেরে রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। রাহুল ছিলেন বলেই দিনের শেষে ভারতকে ভদ্রস্থ দেখাচ্ছে। রাজকোটের পিচে মনে হচ্ছে ভারত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে কিউয়িদের। বোলারদের কোর্টে এখন বল।