আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে রায়পুরে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ঈশান কিষানের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
তাঁর মতে, ঈশানের নির্ভীক মানসিকতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে অশ্বিন জানান, ইশানের এই আগ্রাসী দৃষ্টিভঙ্গি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
বরং ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে যে মানসিকতা ঈশান দেখিয়ে আসছেন, তারই প্রতিফলন। রায়পুরে মাত্র ৩২ বলে ঝোড়ো ৭৬ রান করে ম্যাচের রাশ নিজের হাতে তুলে নেন ঈশান কিষান।
তাঁর এই ইনিংসের সুবাদে ভারত সাত উইকেটে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে খুব সহজেই ২০৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ফেলে। সিরিজে বর্তমানে ২-০ ব্যবধানে লিড নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া।
নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘অ্যাশ কি বাত’-এ অশ্বিন ঈশানের রায়পুরের ঝলককে সাম্প্রতিক ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর দুরন্ত পারফরম্যান্সের সঙ্গে তুলনা করেন।
অশ্বিন বলেন, ‘দারুণ ইনিংস! ঈশান কিষানের ব্যাটিং দেখে শুধু ‘ওয়াও’ বলাই যায়। যাঁরা সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে ওকে দেখেছেন, তাঁরা সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পারবেন। সেখানেও ঠিক এভাবেই ব্যাট করেছিল ও। কোনও চাপ নেই, বাড়তি ভাবনা নেই, আছে শুধু আগ্রাসন আর স্বাধীনতা।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আজও চাইলে ঈশান একটু ধীরে খেলতে পারত আর শতরান করতে পারত। কিন্তু তা করেনি। নিজের শটের ওপর ভরসা রেখে আগ্রাসন বজায় রেখেছে। এই নির্ভীক মানসিকতাই ঈশান কিষানকে বাকিদের থেকে আলাদা করে।’
ম্যাচের শুরুতেই চাপে পড়া ভারতীয় দলের হয়ে ব্যাট করতে নেমে এক মুহূর্তও দেরি না করে পাল্টা আক্রমণে যান ঈশান। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের একের পর এক মেরে জয়ের ভিত গড়ে দেন।
মাত্র ১৫.২ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে রান তাড়া করে ফেলে ভারত। রায়পুরে কিউয়ি বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা করেছেন সূর্যকুমার যাদব ও ঈশান কিষান।
খেলা শেষে জয়ের রহস্য ফাঁস করেছেন ভারতের দুই নায়ক। খেলা শেষে ভারত অধিনায়ক বলেন, ‘আমি জানি না, মধ্যাহ্নভোজে ঈশান কী খেয়েছিল? কিন্তু ওকে যেভাবে মারতে দেখলাম, তা অনেকদিন দেখিনি। ৬ রানে ২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরেও যে ওভাবে আক্রমণ করা যায়, তা ভাবা যাচ্ছে না। ঈশান আমাদের কাজ অনেক সহজ করে দিয়েছিল।’
তিনি নিজেও এই ম্যাচে রানে ফিরেছেন। ১৪ মাস পর অর্ধশতরান করেছেন সূর্য। সূর্যর কথায়,‘আমি আগেও বলেছি, নেটে খুব ভাল ব্যাট করছিলাম। গত দু–তিন সপ্তাহ পরিবারের সঙ্গে কাটিয়েছি। মন ভাল আছে। খেলা উপভোগ করছি। একটা বড় রান দরকার ছিল। সেটা এই ম্যাচে এল।’
নিউজিল্যান্ডকে ২০৮ রানে আটকে দেওয়ার জন্য বোলারদের কৃতিত্ব দিয়েছেন সূর্য। তিনি বলেন, ‘যা শিশির পড়ছিল, তাতে মনে হচ্ছিল ওরা ২২০–২৩০ রান করবে। কিন্তু কুলদীপ, বরুণ, শিবমরা মাঝের ওভারে উইকেট নিল। ওদের ২০৮ রানে আটকে রাখার জন্য বোলারদের কৃতিত্ব দিতেই হবে।’
এদিকে, দু’বছর পর জাতীয় দলে ফিরে ম্যাচের সেরা হয়েছেন ঈশান। তিনি জানালেন, ৬ রানে ২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরেও ভয় পাননি। ঈশান বলেন, ‘আমি শুধু বল দেখে খেলেছি। ঝুঁকি নিইনি। আড়া ব্যাটে খেলতে যাইনি। ঠিক করেছিলাম, মারার বল পেলে মারব। জানতাম, শিশির পড়ছে। নিজের উপর ভরসা রেখেছি। দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে ভাল লাগছে।’
জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরেছিলেন ঈশান। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন। ঝাড়খণ্ডকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। এরপরই জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন।
ঈশান বলেছেন, ‘আমি নিজের ইচ্ছায় ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরেছি। নিজেকে তৈরি রাখার চেষ্টা করেছি। রান করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। সেটাই হয়েছে। নিজের রাজ্যকে চ্যাম্পিয়ন করেছি। ভাল খেলার পুরস্কারও পেয়েছি।’
