আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আমেরিকাতেই বিশ্বকাপ খেলবে ইরান। জানিয়ে দিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো। 


পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত পরিস্থিতিতে ফুটবল বিশ্বকাপ খেলতে আমেরিকায় ইরানের দল পাঠানো নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। ভ্যাঙ্কুভারে আয়োজিত ফিফা কংগ্রেসের ভাষণে ফিফা সভাপতি বলেছেন, ইরান ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে এবং তাদের ম্যাচগুলি আমেরিকাতেই হবে। তাঁর কথায়, ‘‌একটা বিষয় স্পষ্ট করতে চাই। আর তা হল, আসন্ন বিশ্বকাপে ইরান খেলবে এবং তা আমেরিকাতেই।’‌ 


এটা ঘটনা, সংঘাত পরিস্থিতিতে আমেরিকায় ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন তেহরান। গ্রুপ পর্বে তাদের তিনটি ম্যাচই রয়েছে আমেরিকায়। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের কর্তারা ফিফার কাছে আবেদন করেছিল, তাদের ম্যাচগুলি অন্য দুই আয়োজক দেশ কানাডা বা মেক্সিকোয় সরিয়ে দেওয়া হোক। কিন্তু ফিফা বিশ্বকাপের সূচিতে কোনওরকম রদবদল করতে রাজি নয়।। 


এটা ঘটনা, এশিয়ার অন্যতম সেরা দল হিসাবে গত বছর বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ইরান। এই নিয়ে টানা চার বার ফুটবল বিশ্বকাপ খেলবে ইরান। সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলি তাদের খেলার কথা লস অ্যাঞ্জেলেস এবং সিয়াটেলে। 


ফিফা কংগ্রেসেও ইরানকে নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। ইরানের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল টরন্টোয় পৌঁছলে তাঁদের এক জনকে কানাডায় ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রতিবাদে ইরানের তিন প্রতিনিধিই ফিফা কংগ্রেসে যোগ দেননি। ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, কানাডার অভিবাসন দপ্তরের অপমানজনক আচরণের প্রতিবাদে তিন প্রতিনিধিই দেশে ফিরে যান। ইরানের প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংস্থার সভাপতি মেহদি তাজ, সচিব হেদায়েত মোমবানি ও সহ–সচিব হামেদ মোমেনি।


এটা ঘটনা, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত পরিস্থিতির মধ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, ‘‌বিশ্বকাপে ইরানের জাতীয় দলকে স্বাগত। কিন্তু আমি মনে করি না, এই পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওদের এখানে আসা উচিত।’ তার জবাবে ইরানের ফুটবল দলের পক্ষে বলা হয়েছিল, ‘‌কেউ ইচ্ছা হলেই ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিতে পারে না। বাদ দিতে হলে এমন একটি দেশকে বাদ দেওয়া উচিত, যারা শুধু আয়োজক। অথচ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সব দলকে নিরাপত্তা দিতে পারে না।’ আবার কয়েক দিন আগে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমেদ দোনিয়ামালি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত এবং রাজনৈতিক সব কিছু খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর ইরানের উপর নতুন শর্ত চাপিয়ে আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও বলেন, ‘ইরানের ফুটবলারদের বিশ্বকাপ খেলতে আমেরিকায় আসা নিয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। ইরানের খেলোয়াড়দের নিয়ে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু দলের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) কেউ থাকতে পারবেন না।’‌ 


এতকিছুর পরও ইরান যে খেলতে আসবেই তা নিয়ে কোনও নিশ্চয়তা নেই।