আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ চলছে সংঘাত। আমেরিকা–ইজরায়েল বনাম ইরান। আর এই কারণেই ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কট করেছে ইরান। খামেনেইয়ের মৃত্যুর প্রতিবাদে এই বয়কট। তবে ইরান এখনও ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েনি। তাদের এই প্রতিযোগিতায় খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। জানিয়েছেন এএফসি কর্তা। 


সোমবার এএফসি–র সচিব দাতো উইন্ডসন জন জানিয়েছেন, ইরান বিশ্বকাপে খেলবে না, এমন কথা তাঁরা শোনেননি। তিনি বলেছেন, ‘‌ওরা আমাদের সদস্য দেশ। আমরা চাই ওরা খেলুক। আমরা যতদূর জানি, ইরান খেলছে। এটা খুব আবেগপ্রবণ একটা সময়। অনেকে অনেক কথা বলছে। দিনের শেষে ইরান ফেডারেশনই ঠিক করবে ওরা খেলবে কি না। এখনও পর্যন্ত ইরান জানিয়েছে যে, ওরা বিশ্বকাপে খেলতে আসছে।’‌


প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দোনিয়ামালি একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘‌এই দুর্নীতিগ্রস্ত শাসক আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে। সেটা মাথায় রেখে কোনও পরিস্থিতিতেই আমরা বিশ্বকাপে খেলতে যাব না। আমাদের শিশুরা নিরাপদ নয়। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ খেলার কথা মাথায় রাখাই উচিত নয়।’‌ 


তিনি আরও বলেছিলেন, ‘‌ওরা ইরানের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব দেখিয়েছে। গত আট–ন’মাসে দু’বার আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। তাই ওই দেশে আমাদের উপস্থিত থাকার কোনও দরকার নেই।’‌ 


এরপরেই ইরানের ফুটবলারদের একপ্রকার হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘বিশ্বকাপে ইরানের জাতীয় দলকে স্বাগত। কিন্তু আমি মনে করি না, এই পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওদের এখানে আসা উচিত।’


ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাব দেয় ইরানও। বলা হয় বিশ্বকাপ একটি ঐতিহাসিক এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। এর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। কোনও ব্যক্তি বা দেশ নয়। ইরানের জাতীয় দল তার শক্তি এবং সাহসী ফুটবলারদের জন্য ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করেছে। সে কারণে প্রতিযোগিতার যোগ্যতা অর্জনকারী দলগুলির মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে। কেউ ইচ্ছা হলেই ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিতে পারে না। বাদ দিতে হলে এমন একটি দেশকে বাদ দেওয়া উচিত, যারা শুধু আয়োজক। অথচ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সব দলকে নিরাপত্তা দিতে পারে না। এটা ঘটনা, বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলি ইরানের খেলার কথা লস অ্যাঞ্জেলেস এবং সিয়াটেলে।