আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফিনিশার হিসেবে বরাবরই সুনাম রয়েছে রিঙ্কু সিংয়ের। খুব যে সেটা প্রমাণ করার সুযোগ পেয়েছেন তেমন না। তবে যখনই পেয়েছেন, প্রমাণ করেছেন। তিন বছর আগে গুজরাট টাইটানসের বিরুদ্ধে শেষ ওভারে ২৯ রান প্রয়োজন ছিল কেকেআরের। সবাই ধরেই নিয়েছিল ম্যাচটা হারছে নাইটরা। কিন্তু সবাইকে অবাক করে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে জ্বলে উঠেন ২৫ বছরের এক অনামী ক্রিকেটার। যশ দয়ালকে পাঁচটি ছক্কা হাঁকিয়ে কেকেআরকে ম্যাচ জেতান বাঁ হাতি। বিশ্ব ক্রিকেটে ফিনিক্স পাখির মতো উত্থান রিঙ্কু সিংয়ের। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ এবং ফ্যানদের মনে নিজের নাম খোদাই করে ফেলেন। সেই সময় সর্বভারতীয় ক্রিকেট ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বীরেন্দ্র শেহবাগ জানিয়েছিলেন, 'ক্রিকেটের ইতিহাসে আগে এমন কোনওদিন হয়নি। রিঙ্কু সিং আর কখনও এটা করতে পারবে না।' তারকা ক্রিকেটারের এই প্রক্রিয়া শুনেছিলেন রিঙ্কু। সেই নিয়ে মন্তব্যও করেন। তবে আবারও যে তার কাছাকাছি পৌঁছে যাবেন, সেটা কেউ ভাবতে পেরেছিল কি?
সত্যিই এমন ইনিংসের পুনরাবৃত্তি ঘটানো যেকোনও ক্রিকেটারের স্বপ্ন। বাস্তবে হওয়াও কঠিন। বীরুর মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন নাইটদের ফিনিশার। রিঙ্কু বলেন, 'যদি পাঁচটা ছক্কা মারা যায়, তাহলে পৃথিবীতে আরও কিছু হতেই পারে। আমি স্যারের মন্তব্য দেখেছি, এবং সেটা আমার খুবই ভাল লেগেছে।' সেদিন রিঙ্কুর চরিত্রের সঙ্গে এমএস ধোনি এবং শচীন তেন্ডুলকারের তুলনা টানেন শেহবাগ। তবে দাবি করেছিলেন, এমন ইনিংস একবারই খেলা সম্ভব। তিন বছর পর বীরুর কথা ভুল প্রমাণিত করেন রিঙ্কু।
লখনউয়ের বিরুদ্ধে ঘোর সমস্যায় পড়ে নাইটদের ব্যাটিং। পাওয়ার প্লের ঠিক শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩১ রান ছিল কেকেআরের। সেই জায়গা থেকে দলকে টেনে তোলেন রিঙ্কু। একদিকে উইকেট হারালেও, অন্যপ্রান্তে মাটি কামড়ে পড়ে ছিলেন নাইটদের সহ অধিনায়ক। শেষ দুই ওভারে জ্বলে ওঠেন। পুরোপুরি পরিকল্পিত ইনিংস। ১৯তম ওভারে মহম্মদ সামিকে জোড়া ছক্কা এবং ছয় হাঁকান রিঙ্কু। শেষ ওভারে চারটি ছয়। মোট ২৬ রান। ৫১ বলে ৮৩ রান করেন। আইপিএলে তাঁর সর্বোচ্চ স্কোর। স্ট্রাইক রেট ১৬৩। তাঁর ব্যাটে ভর করে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান তোলে কেকেআর। ভুল প্রমাণ করেন বীরেন্দ্র শেহবাগকে। দেখিয়ে দেন, দু'বছর আগের কীর্তির পুনরাবৃত্তি ঘটানোর ক্ষমতা রয়েছে তাঁর।
















