আজকাল ওয়েবডেস্ক: আরও একটি হার। হল না সবুজ বিপ্লব। মরণ-বাঁচন ম্যাচেও মুখ থুবড়ে পড়ল কলকাতা নাইট রাইডার্স। শুক্রবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গুজরাট টাইট্যান্সের কাছে ৫ উইকেটে হার নাইটদের। প্লে অফের লড়াইয়ে থাকতে এদিন জিততেই হত। কিন্তু খাতা খুলতে ব্যর্থ। যেমন জঘন্য ব্যাটিং, তেমন বোলিং। তেমন পরিকল্পনাহীন ক্রিকেট। সব বিভাগেই কলকাতাকে টেক্কা দেয় গুজরাট। এই ম্যাচ থেকে প্রাপ্তি ক্যামেরুন গ্রিন এবং বরুণ চক্রবর্তী। দলকে বৈতরণী পার না করাতে পারলেও বেগুনি জার্সিতে প্রথম অর্ধশতরান গ্রিনের। অন্যদিকে চলতি আইপিএলে প্রথম উইকেট পেলেন বরুণ। এদিনের জোড়ায় আইপিএলে উইকেটের সেঞ্চুরি। তবে তাতে দলের অবস্থান বদলায়নি। পাঁচ হারে এখনও টেবিলের লাস্টবয় কেকেআর। অন্যদিকে জয়ের হ্যাটট্রিক গুজরাটের। শুভমন গিলের কাছে আত্মসমর্পণ নাইটদের বোলারদের। গুজরাট অধিনায়ক আউট হওয়ার পর ম্যাচে ফেরার তেমন সুযোগ ছিল না। শেষ ওভারে ৫ রান প্রয়োজন ছিল। অনায়াসে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় গুজরাট। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারের শেষে ১৮০ রানে অলআউট নাইটরা। শেষ ওভারের প্রথম বলে গ্লেন ফিলিপস আউট হওয়ার পর ম্যাচে ফেরার একটা হালকা সুযোগ ছিল। কিন্তু ২ বল বাকি থাকতে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। চলতি আইপিএলে ঘরের মাঠে প্রথম জয় গুজরাটের।
টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েছিলেন। কিন্তু ভবিষ্যতে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের দলে জায়গা পাকা করার দিকে আরও একধাপ এগোলেন শুভমন গিল। পরের টি-২০ সিরিজের দল নির্বাচনের আগে গুজরাট টাইট্যান্সের অধিনায়কের কথা ভাবতেই হবে বোর্ডের নির্বাচকদের। পাওয়ার প্লেতেই এগিয়ে যায় গুজরাট। ৬ ওভারের শেষে ১ উইকেটের বিনিময়ে ৭১ রান ছিল। এদিন গিলে ম্লান গ্রিন। তবে একটুর জন্য শতরান হাতছাড়া করেন। ৫০ বলে ৮৬ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন গিল। বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ৪টি ছয়, ৮টি চার। নাইটরা হারলেও দিনটি ছিল ক্যামেরুন গ্রিনের। ৫৫ বলে ৭৯ রান করার পর দুটো দারুণ ক্যাচ নেন। ফেরান দলের দুই সেরা ব্যাটার শুভমন গিল এবং জস বাটলারকে। কিন্ত লাভ হয়নি। ২৭ বলে অর্ধশতরানে পৌঁছে যান গিল। আইপিএলে ২৯তম অর্ধশতরান। বিরাট কোহলিকে টপকে চলতি আইপিএলে কমলা টুপি দখল করলেন গিল।
আহমেদাবাদে আবার নাইটদের ব্যাটিং বিপর্যয়। টপ এবং মিডল অর্ডার ডাহা ব্যর্থ। নাইটদের সম্মানজনক রানে পৌঁছে দেন ক্যামেরুন গ্রিন। মোদির রাজ্যে সবুজ বিপ্লব। বেগুনি জার্সিতে প্রথম অর্ধশতরান গ্রিনের। ২৫.২০ কোটি দিয়ে এবার অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারকে নেয় কেকেআর। কিন্তু চার ম্যাচের ব্যর্থতায় সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছিলেন। শেষমেশ স্বস্তি। ৫৫ বলে ৭৯ রান করে নাইটদের ইনিংসের শেষ বলে আউট হন। তবে অনায়াসেই দুশো রানের গণ্ডি পার করতে পারত কেকেআর। কিন্তু পরিকল্পনাহীন ব্যাটিং। পাওয়ার প্লেতে জঘন্য পারফরম্যান্স। প্রথম দুই ওভারে জোড়া উইকেট। টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অজিঙ্ক রাহানে। কিন্তু প্রথম বলেই শূন্য রানে ফেরেন কেকেআরের নেতা। রান পাননি ছন্দে থাকা অঙ্গকৃষ রঘুবংশীও (৮)। ফিন অ্যালেনের জায়গায় এদিন নাইটদের হয়ে হাতেখড়ি হয় টিম সেইফার্টের। শুরুটা ভাল করলেও ১৯ রানে আউট হন। পাওয়া প্লের শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩৭ রান ছিল নাইটদের।
মাঝের ওভারে গ্রিন শো। যদিও শুরুটা করেন রোভমান পাওয়েল। এদিন পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে নামানো হয়। ফায়দা তোলার চেষ্টা করেন। ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারের ২০ বলে ২৭ রান মোমেন্টাম ফেরায়। দলকে টানেন গ্রিন। পাওয়ার প্লে শেষ হতেই ঝড় তোলেন। পাত্তা পাননি রশিদ খানও। যেভাবে এগোচ্ছিলেন, শতরানের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু শেষদিকে দারুণ প্রত্যাবর্তন গুজরাটের। বরং, নাইটরা গিলদের কামব্যাক উপহার দেয় বললে ভুল হবে না। শেষদিকে মুড়িমুরকির মতো উইকেট হারায় কেকেআর। অন্য প্রান্তে দর্শক গ্রিন। ১৫ থেকে ১৯ ওভারের মধ্যে মাত্র চারটে বল খেলার সুযোগ পান অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার। নায়ক হয়ে মাঠ ছাড়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু শেষ দুই ওভারে তাঁর স্ট্রাইক রোটেট করার সিদ্ধান্ত গুজরাটকে সুবিধা করে দেয়। শেষের কয়েকটা ওভারে অধিকাংশ স্ট্রাইক নেওয়া উচিত ছিল গ্রিনের। কিন্তু সেটা করেননি। ঠেলে দেন টেলএন্ডারদের। দুশোর গণ্ডি পার করতে পারলে ম্যাচের রেজাল্ট অন্যরকম হলেও হতে পারত।















