আজকাল ওয়েবডেস্ক: লখনউ সুপার জায়ান্টস ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের ম্যাচে মুকুল চৌধুরীর দুরন্ত পারফরম্যান্সের পর সামনে এল এক অবিশ্বাস্য সংগ্রামের গল্প।

এলএসজি ব্যাটারের সাফল্যের পেছনে তাঁর বাবা দলীপ চৌধুরীর লড়াই বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে। সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দলীপ জানান, মুকুলের জন্মের দিন থেকেই ছেলেকে ক্রিকেটার বানানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি।

তিনি জানান, সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে তাঁকে নিজের বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে, ঋণ নিতে হয়েছে। এমনকী, জেলে যেতে হয়েছেও বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ইডেন গার্ডেন্সে আইপিএলের ম্যাচে একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন মুকুল।

সাতটি ছক্কা মেরে দলকে শেষ বলে জয়ের পথে পৌঁছে দেন তিনি। যা রাতারাতি তাঁকে সংবাদ শিরোনামে এনে দেয়। মুকুলের প্রসঙ্গে দলীপ বলেন, ‘২০০৩ সালে আমি গ্র্যাজুয়েশন করি এবং সেই বছরই বিয়ে করি। তখনই ঠিক করেছিলাম, যদি আমার ছেলে হয়, তাকে ক্রিকেটার বানাব। পরের বছর মুকুল জন্মায়, আর ছোটবেলা থেকেই আমি ঠিক করে নিই, যেভাবেই হোক ওকে ক্রিকেটার বানাব। এত মানুষ যদি পারে, আমার ছেলে পারবে না কেন?’

তবে এই পথ মোটেই সহজ ছিল না বলে জানিয়েছেন দলীপ। প্রথমে রাজস্থান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস পরীক্ষার জন্য ছ’বছর চেষ্টা করেও সফল হননি দলীপ। সরকারি চাকরি না হওয়ায় এরপর রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় নামলেও সেখানেও স্থায়ী আয়ের পথ তৈরি করতে পারেননি।

২০১৬ সালে সিকার শহরের এসবিএস ক্রিকেটহাবে মুকুলকে ক্রিকেটে ভর্তি করে দেন। সেখান থেকেই ব্যাট হাতে মুকুলের হাতেখড়ি হয়। দলীপ বলেন, ‘ওকে ভর্তি করানোর পর বুঝলাম, আমার কাছে যথেষ্ট টাকা নেই। নিয়মিত আয়ও ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে নিজের বাড়ি বিক্রি করি। ২১ লক্ষ টাকা পাই, তারপর একটি হোটেল শুরু করি এবং আরও ঋণ নিই।’

তিনি জানান, আর্থিক চাপ ক্রমশ বাড়ছিল একটা সময়ের পর। ঋণের কিস্তি সময়মতো শোধ করতে না পারায় আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমি সময়মতো কিস্তি দিতে পারিনি। ঋণের দায়ে আমাকে জেলেও যেতে হয়েছে। কিন্তু আমি কখনও প্রতারণা করিনি।’ তবে ছেলের এই কৃতিত্বে আজ তিনি গর্বিত বলেই জানিয়েছেন দলীপ।