আজকাল ওয়েবডেস্ক: আরও একবার ব্যাটিং বিপর্যয়। লখনউয়ের একানা স্টেডিয়ামে নাইটদের ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামল। ব্যর্থ টপ এবং মিডল অর্ডার। মহসিন খানের কাছে আত্মসমর্পণ। ৪ ওভার বল করে ২৩ রানে ৫ উইকেট নেন লখনউয়ের পেসার। একমাত্র ক্যামেরুন গ্রিন এবং রিঙ্কু সিং কিছুটা লড়াই করে। বাকিরা এলেন এবং গেলেন। রবিবাসরীয় রাতে নাইটদের আকাশে একমাত্র উজ্জ্বল নক্ষত্র রিঙ্কু। যখন ব্যাট করতে আসেন, শোচনীয় অবস্থা কেকেআরের। একাই লড়লেন। দলকে কিছুটা ফেরালেন ম্যাচে। অন্তত এই পিচে লড়াই করার মতো জায়গায় নিয়ে যান। ১৬ ওভারে একশো রানে পৌঁছয় কেকেআর। সেখান থেকে ২০ ওভারের শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে নাইটদের রান ১৫৫। ব্যাক টু ব্যাক অর্ধশতরান কেকেআরের সহ অধিনায়কের। আইপিএলে সর্বোচ্চ রান রিঙ্কুর। শেষ দুই ওভারে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। ২০২৩ সালে গুজরাট টাইটানসের বিরুদ্ধে যশ দয়ালের শেষ ওভারে পাঁচ ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জিতিয়েছিলেন। এদিন দিগবেশ রাঠির শেষ ওভারে চারটে ছয় মারেন। নেন ২৬ রান। ৫১ বলে ৮৩ রানে অপরাজিত রিঙ্কু। ইনিংসে ছিল ৫টি ছয়, ৭টি চার।

প্রশংসা করতে হবে ঋষভ পন্থ-এর নেতৃত্বের। বুদ্ধি করে বোলিং পরিবর্তন করেন লখনউয়ের অধিনায়ক। বিশেষ করে ১১তম ওভারে মহসিনকে আনার চাল সুপারহিট। একই ওভারে জোড়া উইকেট। ফেরান ক্যামেরুন গ্রিন এবং অনুকূল রায়কে। প্রথম ৬ উইকেটের মধ্যে পাঁচটি মহসিনের। এদিন টসে জিতে কেকেআরকে ব্যাট করতে পাঠান পন্থ। শুরুতেই বিপত্তি। শুরুটা মন্থর হয় কেকেআরের। ১০ বল খেলে মাত্র ১ রান ছিল রাহানের। তারপর একটি ছয় মারা ছাড়া কোনও অবদান নেই। ১৫ বলে ১০ রান করে আউট। টানা তিন ম্যাচে ব্যর্থ নাইটদের অধিনায়ক। দ্বিতীয় ওভারে প্রথম উইকেট হারায় নাইটরা। দলের ৩ রানে ফেরেন টিম সেইফার্ট। নিজের খাতা খুলতে পারেননি। ৩ বলে শূন্য রানে ফেরেন। ফিন অ্যালেনকে বসিয়ে সেইফার্টকে খেলানো হয়। কিন্তু এখনও ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে পারেননি নিউজিল্যান্ডের তারকা। ব্যাক টু ব্যাক ব্যর্থতা। পাওয়ার প্লের শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩১ রান ছিল নাইটদের। যা আগের দুই ম্যাচের থেকেও খারাপ। শেষ দুই ম্যাচে পাওয়ার প্লের শেষে যথাক্রমে ৩৬ এবং ৩৭ রান ছিল কেকেআরের। কিন্তু এদিন সেই রান পর্যন্তও পৌঁছতে পারেনি। 

এদিন বিদেশিদের মধ্যে টিম সেইফার্ট, ক্যামেরুন গ্রিন, রোভমান পাওয়েল এবং সুনীল নারিনকে প্রথম একাদশে রাখা হয়। প্রথম একাদশে সুযোগ পায়নি ১৮ কোটির মাথিসা পথিরানা। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের তালিকায় রাখা হয় বরুণ চক্রবর্তীকে। কিন্তু এদিন মহম্মদ শামি, মহসিন খান, প্রিন্স যাদবদের আঁটোসাঁটো বোলিংয়ে নড়তে পারেনি নাইটরা। তবে অঙ্গকৃষ রঘুবংশীর আউট নেহাতই দুর্ভাগ্যজনক। বোলারের থ্রোয়ে বাঁধা দেওয়ার জন্য আউট দেওয়া হয় অঙ্গকৃষকে। অদ্ভুত ঘটনা। তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের পর প্রতিবাদ করে নাইট শিবির। ডাগ আউটে চতুর্থ আম্পায়ারের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় হেড কোচ অভিষেক নায়ারকে। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। 

ঘটনাটি ঠিক কী ঘটেছিল? মিড অনে একটি বল খেলে রান নিতে ছোটেন অঙ্গকৃষ। কিন্তু মাঝপথে তাঁকে ফেরত পাঠান গ্রিন। উইকেটের সোজাসুজি ফেরার চেষ্টা করেন। কিন্তু সামির থ্রোয়ের মাঝে চলে আসেন। আপেক্ষিক দৃষ্টিতে দেখে মনে হয়, দিক পরিবর্তন করে বোলারের থ্রোয়ের লাইনে আসেননি অঙ্গকৃষ। কিন্তু আবেদন করে লখনউ। তৃতীয় আম্পায়ারের সাহায্য নেওয়া হয়। আউট দেন। সিদ্ধান্তে একেবারেই খুশি ছিলেন না রঘুবংশী।