আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইডেনে ফিরলেন মহম্মদ সামি। বৃহস্পতিবার কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে খেলবে লখনউ সুপার জায়ান্টস। ক্রিকেটের নন্দনকানন তারকা পেসারের হোম গ্রাউন্ড। সদ্য সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ম্যাচ জয়ী পারফরম্যান্স করেন। ৯ রানে জোড়া উইকেট তুলে নেন। সঙ্গে ১৮টি ডট বল। চোট-আঘাত সারিয়ে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বাদ পড়ার গ্লানি মুছে আবার স্বমহিমায় সামি। ইডেনে নিজের সেরাটা দিতে চান। সামি বলেন, 'আমি মজদুর। আমার একমাত্র কাজ বল করা।' পেশাদারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও একাধিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। এত কিছুর পরও এই ধারাবাহিকতা। সাফল্যের চাবিকাঠি কি? তারকাকে পেসার জানান, মাটিতে পা রেখে চলার ফল পেয়েছেন তিনি।
সামি বলেন, 'জীবনে ওঠা-নামা থাকবেই। চোটও থাকবে। কিন্তু সর্বত্র মাটিতে পা রেখে চলতে হবে। অতিরিক্ত কিছু তাড়া করতে যাওয়া দুর্বলতা। এখন সবাই সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে পড়ে আছে।' জাতীয় দলে ব্রাত্য হলেও, ঘরোয়া ক্রিকেটে সফল সামি। রঞ্জি ট্রফিতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিদের তালিকায় ছিলেন। ৩৭ উইকেট নেন। গড় ১৬.৭২। সামির দাপটেই সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছয় বাংলা। নিজের লড়াই প্রসঙ্গে সামি বলেন, 'আমার চাষীর পরিবারে জন্ম। আমি নিজের শিকড় ছাড়িনি। প্লেয়ার হিসেবে এখনও আমার খিদে আছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবার ফেরার ইচ্ছা থাকলে, নিজের মধ্যে সেই খিদে থাকা দরকার।'
ইডেনে নামবেন নাইটদের বিরুদ্ধে। উত্তরপ্রদেশে জন্ম হলেও, বাংলাকে নিজের কর্মভূমির অ্যাখ্যা দেন তারকা পেসার। দীর্ঘ বছর ইডেনে খেলেছেন। নাইটদের বিরুদ্ধে এটা যে তাঁকে কিছুটা সুবিধা দেবে, সেটা স্বীকার করে নেন। সামি বলেন, 'আমার কাছে ঘরোয়া ক্রিকেট অন্যান্য ফরম্যাটের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। আমি সবসময় সেটাকে গুরুত্ব দিই। আমি উত্তরপ্রদেশে জন্মালেও, আমার কর্মভূমি বাংলা। যতদিন পারব, আমি বাংলার হয়ে খেলব। ইডেন গার্ডেনে খেললে সবসময় একটা হোম অ্যাডভান্টেজ থাকে। পিচ এবং কন্ডিশন চেনা। এখানে আমি এত সময় কাটিয়েছি। স্থানীয় হিসেবে কেকেআরের বিরুদ্ধে কিছুটা সুবিধা পাব।' এখনও জয়ের খোঁজে নাইটরা। সেখানে আগের ম্যাচ জিতে মোমেন্টাম ফিরে পেয়েছে লখনউ। সামির ছন্দ বিপাকে ফেলতে পারে রাহানেদের।
আইপিএলের শুরুতেই একটি নজির গড়েন মহম্মদ সামি। দল হারলেও রেকর্ড বাংলার পেসারের। আগের সপ্তাহে একানা স্টেডিয়ামে প্রথম বলেই কেএল রাহুলকে শূন্য রানে ফেরান। সঙ্গে সঙ্গে আরও একবার রেকর্ডবুকে নাম তোলেন। আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে পাঁচবার প্রথম বলে উইকেট নেওয়ার অনন্য কীর্তি স্থাপন করেন। আইপিএলের ১৮ বছরের ইতিহাসে এই নজির কারোর নেই। চার ওভারে ২৮ রানে ১ উইকেট নেন সামি। প্রথম ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে ৬ উইকেটে হারে লখনউ সুপার জায়ান্টস। কিন্তু নিজের ছন্দ অব্যাহত রাখেন তারকা পেসার।















