আজকাল ওয়েবডেস্ক: ব্যাটের পর আউটফিল্ডে। রবিবাসরীয় সন্ধেয় দুই দলের মধ্যে পার্থক্য রিঙ্কু সিং। এদিন চারিদিকে ছেয়ে যান নাইটদের সহ অধিনায়ক। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে নাটকীয় পরিণতি। শেষ ওভারে লখনউযের প্রয়োজন ছিল ১৭ রান। প্রথমে জোড়া নো বল, তারপর শর্ট বল। শেষ ওভারে ভিলেন কার্তিক ত্যাগী। গোটা ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে লখনউ সুপার জায়ান্টসের পার্থক্য রিঙ্কু সিং। ব্যাট হাতে ৫১ বলে ৮৩ রান করার পর পাঁচটি ক্যাচ। শেষ দুই বলে ৭ রান প্রয়োজন ছিল লখনউ-এর। পঞ্চম বলে রান পাননি। শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ সুপার ওভারে নিয়ে যান সামি। চলতি আইপিএলের প্রথম সুপার ওভার। সুনীল নারিনকে বল দেন রাহানে। প্রথম বলেই বোল্ড নিকোলাস পুরান। বলের লাইন মিস করেন। তিন বলেই শেষ লখনউ। বাউন্ডারিতে পাওয়েলের হাতে ধরা পড়েন মার্করাম। সুপার ওভারে কেকেআরের প্রয়োজন ছিল ২ রান। ব্যাট হাতে নেমে প্রথম বলেই চার রিঙ্কুর। পোয়েটিক জাস্টিস। এদিন উইনিং স্ট্রোক নেওয়া উচিত ছিল তাঁরই। প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটের বিনিময়ে ১৫৫ রান তোলে কেকেআর। জবাবে ৮ উইকেটে এই রানে পৌঁছে যায় লখনউ। তারপর আইপিএলের দ্রুততম সুপার ওভারে জয় নাইটদের। জোড়া জয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে আট নম্বরে উঠে এল কেকেআর। ১৫৯ রানের পর ১৫৫ রান তাড়া করতে ব্যর্থ লখনউ সুপার জায়ান্টস। জোড়া জয় কলকাতা নাইট রাইডার্সের। রাজস্থান রয়্যালসের পর লখনউ সুলার জায়ান্টস। 

টসে জিতে কেকেআরকে ব্যাট করতে পাঠান ঋষভ পন্থ। শুরুতেই হোঁচট খায় নাইটরা। মাত্র ৩১ রানে ৪ উইকেট হারায়। পাওয়ার প্লের শেষে ৩ উইকেটে ৩১ রান ছিল নাইটদের। আবার ব্যর্থ অজিঙ্ক রাহানে। জোড়া শূন্যের পর ১০ রানে ফেরেন। শূন্যতে ফেরেন টিম সেইফার্ট। বিতর্কিত আউট হন অঙ্গকৃষ রঘুবংশী। দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন ক্যামেরুন গ্রিন। ২১ বলে ৩৪ রান করে আউট হন। তিনটে ছক্কা হাঁকান। কিন্তু রাতটা ছিল রিঙ্কু সিংয়ের। তিন বছর আগের আইপিএলের সেই রাতকে মনে করান। সেদিন গুজরাট টাইট্যান্সের বিরুদ্ধে যশ দয়ালের শেষ ওভারে পাঁচ ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জিতিয়েছিলেন রিঙ্কু সিং। এদিন দিগবেশ রাঠির শেষ ওভারে পার্থক্য গড়ে দেন। হাঁকান চার ছক্কা। ২৬ রান নেন। রাজস্থান রয়্যালসের পর লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে অর্ধশতরান। কেকেআরকে ম্যাচে ফেরান রিঙ্কু। আইপিএলে নিজের সর্বোচ্চ রান করেন রাহানের ডেপুটি। ৫১ বলে ৮৩ রানে অপরাজিত থাকেন রিঙ্কু। ইনিংসে ছিল ৫টি চার, ৭টি চার। ২০ ওভারের শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান তোলে কেকেআর। শুরুতেই ৫ উইকেট নিয়ে নাইটদের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন মহসিন খান। প্রথম ছয়ের মধ্যে পাঁচটি তাঁর শিকার ছিল। কিন্তু শেষ দুই ওভারে দলকে লড়াইয়ে ফেরান রিঙ্কু।

এই উইকেটে রান তাড়া করা সহজ হবে না জানা ছিল। শুরুতেই দুর্ধর্ষ ক্যাচে মিচেল মার্শকে প্যাভিলিয়নে পাঠান রোভমান পাওয়েল। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৭ রান যোগ করেন আইডেন মার্করাম এবং ঋষভ পন্থ।১০ ওভারের শেষে ১ উইকেট হারিয়ে লখনউযের রান ছিল ৬৩। ব্যাট হাতে ম্যাচ ঘোরানোর পর ফিল্ডার হিসেবেও খেলার রং বদলে দেন রিঙ্কু। বাউন্ডারি লাইনে দুর্ধর্ষ ক্যাচ নিয়ে মার্করামকে ফেরান রাহানের ডেপুটি। ২৭ বলে ৩১ রান করেন প্রোটিয়া তারকা। যতক্ষণ ঋষভ পন্থ ছিল, আশা ছিল। ৩৮ বলে ৪২ রান করে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন পন্থ। এটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। এরপর আয়ুশ বাদনি (২৪) কিছুটা চেষ্টা করে, কিন্তু যথেষ্ঠ ছিল না। তবে শেষদিকে টেলএন্ডারদের লড়াইয়ে খেলা সুপার ওভার পর্যন্ত গড়ায়।