আজকাল ওয়েবডেস্ক:ভারতের একদিনের ক্রিকেটে ইতিমধ্যেই অন্যতম ধারাবাহিক ব্যাটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন শ্রেয়স আইয়ার।
এবার টি-টোয়েন্টিতেও নিজের ধারাবাহিকতা নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন তিনি।
পাঞ্জাব কিংসের তিনি শুধু নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানই নন, বরং অধিনায়ক হিসেবেও দলকে একাধিক জয় এনে দিয়েছেন এই মরশুমে।
তবে এই পরিবর্তনের পিছনে রয়েছে এক গভীর লড়াই। শ্রেয়স আইয়ার নিজেই জানিয়েছেন, সমালোচকদের কটাক্ষ তাঁকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে এবং প্রমাণ করার মানসিকতাই তাঁর সাফল্যের চাবিকাঠি।
এক সময় শর্ট বল খেলার দুর্বলতা নিয়ে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল পাঞ্জাব ক্যাপ্টেনকে।
এমনকি অনেকেই বলেছিলেন, এই সমস্যা তিনি কখনও কাটিয়ে উঠতে পারবেন না। কিন্তু সেই মন্তব্যগুলোই তাঁকে আরও কঠোর পরিশ্রমে বাধ্য করে।
শ্রেয়স আইয়ার বলেন, ''আমি এমন কথা একদমই সহ্য করতে পারি না যে তুমি এটা পারবে না বা সম্ভব নয়। তখন আমার মনে হয় আমাকে প্রমাণ করতে হবে যে আমি পারি।''
তিনি আরও জানান, চোটের পর অনেকেই তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।
কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জই তাঁকে আরও শক্তিশালী করেছে। তাঁর কথায়, ''লোকে যখন বলে তুমি আগের মতো আর ফিরতে পারবে না, তখন আমি নিজেকেই প্রশ্ন করি, কেন পারব না?''
শর্ট বল নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে আইয়ার বলেন, ''আগে আমি শুধু বলটাকে ঠেলে দিতাম বা সিঙ্গল নিতাম। এখন যদি শর্ট বল আমার জোনে পাই, আমি সেটাকে ছক্কা মারার চেষ্টা করি।''
তিনি জানান, দীর্ঘদিনের কোচ প্রবীন আমরে এবং অভিষেক নায়ারের সঙ্গে কাজ করে তিনি নিজের ব্যাটিংয়ে অনেক পরিবর্তন এনেছেন।
পাশাপাশি অনুশীলনে তিনি এখন প্রায় ৫০ ওভার ব্যাটিং এবং ৩০০-র বেশি বল খেলার উপর জোর দিচ্ছেন। শ্রেয়স আইয়ার বলছেন, ''বোলার বল করার ঠিক আগে আমি দ্রুত নিজের পজিশনে চলে আসার চেষ্টা করি।'' উদাহরণ হিসেবে এবি ডি ভিলিয়ার্স, রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির ব্যাটিং ছন্দের কথাও উল্লেখ করেন।
সমালোচনার জবাব দেওয়া থেকে শুরু করে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলা, সব মিলিয়ে শ্রেয়স আইয়ারের এই পরিক্রমা এখন ভারতীয় ক্রিকেটে এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছে।















