আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে হারের পরে পুরনো ছবি আবার ফুটে উঠল আইপিএলে। লখনউয়ের কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে দলের ক্যাপ্টেন ঋষভ পন্থ ও হেড কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ছবি ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর সেই ঘটনার পরে সঞ্জীব গোয়েঙ্কাকে তোপ দেগেছেন ললিত মোদি। 

ললিত মোদি কড়া ভাষায় এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেন, ''ফুটবল লিগের মালিকরা খেলোয়াড়দের প্রতি সম্মান, দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টি এবং পেশাদারিত্ব দেখান। অন্যদিকে আইপিএল মালিকরা প্রায়ই নিজেদের প্রচার এবং শিরোনামের পিছনে ব্যস্ত থাকেন। কঠিন পরাজয়ের পর সরাসরি বাউন্ডারি লাইনের ধারে অধিনায়কদের প্রকাশ্যভাবে তিরস্কার করেন।'' 
দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে লখনউ সুপার জায়ান্টসের হারের পর গর্জে উঠলেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা।‌ আবার প্রকাশ্যে। মাঠে দাঁড়িয়ে। বদলে যায় শুধু উল্টো দিকের চরিত্র। সেদিন ছিলেন কেএল রাহুল। এদিন ঋষভ পন্থ। সঙ্গে জাস্টিন ল্যাঙ্গার। বুধবার দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে ৬ উইকেটে হারের পর দলের অধিনায়ক এবং কোচের ওপর আবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। আবার সেই মাঠে দাঁড়িয়ে, ক্যামেরার সামনে। প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ১৪১ রান করে লখনউ। সমীর রিজভি এবং ট্রিস্টান স্টাবস দিল্লিকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। 

?ref_src=twsrc%5Etfw">April 2, 2026

লখনউয়ের হারের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে গোয়েঙ্কার সঙ্গে আলোচনা করতে দেখা যায় পন্থ এবং ল্যাঙ্গারকে। পন্থকে যথেষ্ঠ বিব্রত দেখায়। আলোচনায় জড়িয়ে পড়েন ল্যাঙ্গারও। এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ওঠে এক বছর আগের কথা। ২০২৪ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে হারের পর মাঠে দাঁড়িয়েই প্রকাশ্যে কেএল রাহুলের ওপর চড়াও হতে দেখা গিয়েছিল গোয়েঙ্কাকে। এদিন আবার সেই অতীত ফেরে। হারের জন্য হতাশা ব্যক্ত করেন লখনউয়ের অধিনায়ক। পন্থ বলেন, ''১৪০ রান করলে জয়ের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে বিপক্ষ স্বাভাবিক ক্রিকেট খেললেই জিতে যায়। পাওয়ার প্লেতে কয়েকটা উইকেট পেলেই বিপক্ষ চাপে পড়ে যেত।''

যদিও বিতর্কিত অধ্যায়ের পরে এক্স হ্যান্ডলে সঞ্জীব গোয়েঙ্কা লিখেছেন, ''এটা একটা দীর্ঘ মরশুম আর এমন মুহূর্তগুলোই অর্থপূর্ণ কিছু গড়ে তোলার ইঙ্গিত দেয়। আমাদের অধিনায়ক এবং দলের উপরে আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে যে তারা দারুণ ভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। একানা স্টেডিয়ামে আমাদের সমর্থকদের ধন্যবাদ—আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরব। এই মরশুমে লখনউ ও আইপিএলের গল্প এখনও অনেক বাকি।'' 

ললিত মোদি অবশ্য বড় প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন তুলে ধরছেন। তিনি লিখেছেন, ''দীর্ঘমেয়াদী পরিকাঠামোতে বিনিয়োগ করার থেকে তাৎক্ষণিক খ্যাতি অর্জনের জন্য অর্থ উড়িয়ে দেওয়া? সত্যিকারের ভক্ত-কেন্দ্রিক সংস্কৃতি, যেখানে ভালো স্টেডিয়াম অভিজ্ঞতা আছে? টেকসই মডেল, প্রতিযোগিতামূলক সামঞ্জস্য এবং কিছুটা পেশাদার আচরণ, কম নাটক, বেশি ব্র্যান্ড গঠন?'' 

ললিত মোদির এহেন মন্তব্য কার উদ্দেশে সেটা অনেকেই বুঝতে পারছেন।