আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে আইপিএল যাত্রা শুরু করবে লখনউ সুপার জায়ান্টস।‌ এবার নতুন জার্সিতে দেখা যাবে মহম্মদ সামিকে। তার আগে সমালোচকদের একহাত নিলেন তারকা পেসার। তাঁকে টি-২০ বোলার হিসেবে ভাবা হয় না। ভারতীয় দল বাছাইয়ের সময় তাঁর নাম ধর্তব্যের মধ্যেই আনা হয় না। কিন্তু ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে নিজের ধারাবাহিকতা তুলে ধরলেন সামি। জানান, গত পাঁচ-ছয় বছরে টি-২০ ক্রিকেটে ১৩০ উইকেট নিয়েছেন। তাসত্ত্বেও এই ফরম্যাটে তিনি ব্রাত্য। কথা উঠলেই, তাঁর নাম খারিজ করে দেওয়া হয়। বোর্ড, ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ এবং ফ্যানদের দেওয়া ট্যাগে বীতশ্রদ্ধ তিনি।

একটি ইউ টিউব চ্যানেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সামি জানান, বাকিদের তুলনায় টি-২০ তে তাঁর পরিসংখ্যান ভাল। কিন্তু এই ফরম্যাটে বাকিদের মতো সম্মান পান না। সামি বলেন, 'আইপিএল প্রসঙ্গে যদি কথা বলতে হয়, আমার অতীত রেকর্ড দেখতে পারো। আইপিএলে কোনও ভারতীয় বোলার আমার কাছাকাছি আসে না। কিন্তু তাসত্ত্বেও আমাকে টি-২০ বোলার ধরা হয় না। শেষ ৫-৬ বছরের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখো। আমার ১৩০ উইকেট আছে। একজন বোলারের থেকে আর কি চাওয়া যেতে পারে?' নিজের পরিসংখ্যান তুলে ধরে সমালোচকদের একহাত নেন বাংলার পেসার। 

ভারতীয় দলের হয়ে একসময় টেস্ট এবং একদিনের ক্রিকেটে নিয়মিত সদস্য ছিলেন সামি। ২০২৩ একদিনের বিশ্বকাপে মুখ্য ভূমিকা নেন। টুর্নামেন্টের একনম্বর উইকেট শিকারি হন। কিন্তু ভারতের টি-২০ দলে সুযোগ পাননি। শেষবার গত ফেব্রুয়ারিতে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে ভারতের জার্সিতে খেলেন সামি। আগের বছর জুন থেকে দেশের জার্সিতে কোনও ফরম্যাটেই খেলেননি। শুধুমাত্র ঘরোয়া ক্রিকেট এবং আইপিএলে খেলেন। তবে অবসরের কোনও ভাবনা নেই, জানিয়ে দেন তারকা পেসার। 

এই প্রসঙ্গে সামি বলেন, 'আমি যেদিন ক্লান্ত হয়ে পড়ব, অবসর নেব। তবে এই মুহূর্তে আমি অবসরের কথা ভাবছি না। কারণ এমন ভাবনা একজনকে দমিয়ে দেয়।' বাংলার পেসার আরও একবার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র তাঁর হবে। সামি বলেন, 'মনে এই ভাবনা আশা মানে, তুমি ইতিমধ্যেই ক্লান্ত। ক্লান্তি এলেই একঘেয়েমি চলে আসে। আমি এটা আগেও বলেছি। আমার যেদিন ঘুম থেকে উঠে সবকিছু একঘেয়ে লাগবে, সেদিন আমি ক্রিকেট ছেড়ে দেব। কিন্তু এখনও আমি সেই জায়গায় যাইনি। আমি খেলাটা উপভোগ করছি। রেজাল্টও পাচ্ছি।' বাংলার হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ৬৭ উইকেট নেওয়ার পরও জাতীয় দলে সুযোগ মেলে না।