মোহনবাগান এসজি ৩ (ম্যাকলারেন, সাহাল, কামিংস)
পাঞ্জাব এফসি ২ (নগুসি,রামিরেজ)
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ম্যাচ জয় হল বটে। কিন্তু মন ভরল কী? মোহনবাগান সমর্থকরাই ভাল বলতে পারবেন। ধারেভারে মোহনবাগান অনেক বেশি এগিয়ে থাকলেও এদিন সমানে সমানে লড়াই দল দু’দলের মধ্যে।
মাস্ট উইন ম্যাচে মোহনবাগানের ত্রাতা সাহাল, কামিংস এবং সর্বোপরি বিশাল কাইথ। এদিন পাঞ্জাবকে হারিয়ে লিগ জয়ের রাস্তা খোলা রইল মোহনবাগানের কাছে। এদিন ম্যাচের শুরু থেকে পাঞ্জাবকে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক দেখাচ্ছিল।
আপুইয়ার না থাকাটা যে বাগানের মাঝমাঠে যে বড়সড় প্রভাব ফেলেছে তা বোঝা যাচ্ছিল স্পষ্ট। দীপক টাংরি ছিলেন বটে, কিন্তু তিনি ছিলেন ডিফেন্সিভ মোডে। ম্যাচের প্রথম ধাক্কাও দেয় পাঞ্জাবই।
খেলার ১২ মিনিটের মাথায় মাপা ক্রসে দলকে এগিয়ে দেন ড্যানিয়েল রামিরেজ। আলবার্তো মাঝে ছিলেন বটে, কিন্তু তাঁকে পার করে বল রামিরেজের পায়ে আসে। তাঁকে মার্কিংও করেননি শুভাশিস।
কাইথকে হেলায় কাটিয়ে গোল করে যান তিনি। সেট টিমের একজন না থাকাটা এদিন প্রভাব ফেলেছিল মোহনবাগানের বল পজিশনের ক্ষেত্রেও। তবে ম্যাচ চলাকালীন আরও একটা বড় ধাক্কা খায় সবুজ মেরুন।
গোল খাওয়ার পরেই পা ধরে বসে পড়েন আলবার্তো। লোবেরা তাঁকে নিয়ে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাননি। ১৮ মিনিটেই ডবল চেঞ্জ করেন তিনি। মনবীরকে নামিয়ে তাঁর জায়গায় আনেন মেহতাব সিংকে এবং চোট পাওয়ার আলবার্তোর জায়গায় আসেন দিমি পেত্রাতোস।
আক্রমণে দিমি নামার পর ঝাঁঝ বাড়ে বাগানের। ফলও মেলে হাতেনাতে। ৩০ মিনিটে ম্যাকলারেনের দুর্ধর্ষ গোলে সমতা ফেরায় মোহনবাগান। বাঁদিক থেকে বাড়ানো বলে একক দক্ষতায় পাঞ্জাবের ডিফেন্ডারকে মাটি ধরান ম্যাকা।
ফার্স্ট পোস্টে রাখা গোলার মতো শট অর্শদীপ আটকাতে পারেননি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ ফলাফলেই। যদিও পাঞ্জাবের আক্রমণের ঝাঁঝ অনেক বেশি ছিল, সুযোগও বেশি তৈরি করেছিল তাঁরাই।
দ্বিতীয়ার্ধেও চিত্রটা একই রকম। শুরু থেকেই বল দখলে রেখে আক্রমণ শানাচ্ছিল পাঞ্জাব। গোল আসতেও বেশি সময় লাগেনি। ওয়ান-টু খেলে রামিরেজের বাড়ানো বল ধরে ছোট্ট ভলিতে বল জালে জড়িয়ে দেন নগুসি।
ম্যাচের বয়স তখন ৬০ মিনিট। সমতা ফেরাতে আক্রমণে জোর দেন লোবেরা। টাংরির জায়গায় নামান সাহালকে। রবসনের জায়গায় আসেন জেসন কামিংস।
৭৩ মিনিটে সমতা ফেরান সেই সাহালই। বক্সের বেশ খানিকটা বাইরে থেকে দুরন্ত শটে অর্শদীপকে পরাস্ত করেন তিনি। সাহালের একক দক্ষতায় ম্যাচে ফেরে সবুজ মেরুন। অর্শদীপের কিছু করার ছিল না।
গোল পেয়ে দুই দলই জেতার জন্য ঝাঁপিয়েছিল। শেষে বাজিমাত করল হোম টিমই। ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে কামিংসের মাপা ফ্রি-কিক গোলে ঢুকে যায়। তবে কামিংসের গোল নিয়ে বিতর্কও রয়েছে।
রিপ্লেতে দেখা যায়, কামিংসে ফ্রি-কিকে হেড করার জন্য টম আলড্রেড লাফিয়েছেন। বল ধরার জন্য এগিয়ে এসেছেন অর্শদীপও। আলড্রেডের হাতে সোজা পাঞ্জাব কিপারের মুখে লাগে।
ফাউলের আবেদন করে পাঞ্জাব এফসি। যদিও রেফারি ফাউল না দিয়ে গোলের বাঁশি বাজান। তর্কাতর্কি করার জন্য উল্টে হলুদ কার্ড খেতে হয় অর্শদীপকে।
এদিন পাঞ্জাব ম্যাচ জেতার পর মোহনবাগানের পয়েন্ট ৮ ম্যাচ খেলে ১৭। তারা রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। একই সংখ্যক ম্যাচ খেলে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে মুম্বই এফসি।















