মোহনবাগান এসজি ৫ (রবসন ২, ম্যাকলারেন, মনবীর, দিমিত্রি)

 

মহামেডান ১(কিমা)

 

কৌশিক রায়: রবিবার ইডেনে ইন্ডিয়া বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইতিমধ্যেই পূর্বাভাস মিলেছে রানের ঝড় উঠবে। দুই দলেই একাধিক হিটার রয়েছে। কিন্তু তার আগে শনিবারেও ছোটখাটো ঝড় বয়ে গেল যুবভারতীতে। এই ঝড় গোলের ঝড়। দুর্বল মহামেডানকে সামনে পেয়ে ক্ষতবিক্ষত করে বাড়ি পাঠালেন বাগান ফুটবলাররা। 

 

খাতায় কলমে না হয় পাঁচ গোলের মালা পরিয়েছে মোহনবাগান, কিন্তু সারা ম্যাচ জুড়ে বাগান ডিফেন্স এবং মাঝমাঠের কাছে মহামেডান নাকানিচোবানি খেল। গোল পার্থক্য বাড়ানোই যে প্রধান লক্ষ্য তা এদিন প্রথম একাদশেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন লোবেরা। শুরু থেকেই সাদা কালো ব্রিগেডের বক্সে ঝাঁঝালো আক্রমণ শুরু হয়। 

 

খেলার শুরুতেই ডানদিক থেকে আক্রমণে উঠে এসে গোল। লক্ষ্য করে শট রাখেন কামিংস। পরের আক্রমণেই রবসনের শট আটকে দেন শুভজিৎ। ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টারের বেশিরভাগ খেলাটাই হচ্ছিল মহামেডানের বক্সে। কিন্তু স্রোতের বিপরীতে গিয়ে প্রথম গোল খায় মোহনবাগানই। ১২ মিনিটের মাথায় কর্নার থেকে চমৎকার হেডে গোল করেন কিমা। ব্যস ওইটুকুই। এই মহামেডান এতটাই দুর্বল, গোল খাওয়াটা ছিল মাত্র সময়ের অপেক্ষা, আর হলও এক্কেবারে তাই। 

 

পিছিয়ে পড়ে সবুজ মেরুনের আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়ে। তারই ফলস্বরূপ ১৮ মিনিটে বাঁদিক থেকে ঢুকে আসা রবসনের শট ক্রসপিসে লেগে বেরিয়ে যায়। ইকুয়ালাইজার আসে ২২ মিনিটে। গোলদাতা সেই রবসন রবিনহো। বাঁদিক থেকে উঠে আসে কামিংসকে পাস বাড়ান ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। 

 

জেসনের চমৎকার ব্যাকহিল ধরে রবিনহোর গোলার মতো শট আটকানোর ক্ষমতা ছিল না শুভজিতের। বাগান দ্বিতীয় গোল পায় ২৭ মিনিটে। ডানদিক থেকে গোল লক্ষ্য করে শট রাখেন মনবীর। তাঁর শট মহামেডান ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে রিবাউন্ড বল পান রবসন। কিপারকে মেপে নিয়ে ডান পায়ের কার্লারে তিনি এগিয়ে দেন মোহনবাগানকে। 

 

লোবেরা প্রথম ম্যাচের আগেই বলেছিলেন ১-০ জেতার থেকে ৬-২ জিততে বেশি পছন্দ করেন তিনি। সেই মানসিকতাই এদিন দেখা যাচ্ছিল সবুজ মেরুন ফুটবলারদের মধ্যে। ৩৫ মিনিটে আসে মোহনবাগানের তৃতীয় গোল। গোলদাতা জেমি ম্যাকলারেন। শিকারির মতো বক্সে অপেক্ষা করে থাকেন অজি স্ট্রাইকার। রাইট ব্যাক আমে রানাওয়াডের ক্রস হেড করেন জেসন কামিংস। 

 

মহামেডান কিপার শুভজিতের হাত থেকে বল বেরিয়ে যেতেই ছোট্ট টোকায় গোল করে যান বাগান সমর্থকদের প্রিয় ম্যাকা। কিন্তু ৩৯ মিনিটে আচমকাই ধাক্কা খায় সবুজ মেরুন ব্রিগেড। দু'গোল করে হ্যাটট্রিকের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা রবসনের আচমকা চোট লাগে। তাঁর জায়গায় মাঠে আসেন পেত্রাতোস। দ্বিতীয়ার্ধেও একই জায়গা থেকে খেলা শুরু করেছিল মোহনবাগান। ৪-১ করতেও বেশি সময় লাগেনি। ৬২ মিনিটে অভিষেকের ক্রস থেকে হেডে ব্যবধান আরও বাড়ান মনবীর। 

 

পঞ্চম গোল আসে দিমির পা থেকে। বাগান সমর্থকদের প্রিয় দিমি গড আগেই দেখতে পেয়েছিলেন শুভজিৎ বক্স থেকে খানিকটা বাইরে রয়েছেন। ৭০ মিনিটে প্রায় ২৮ গজ দূর থেকে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। তবে এরপরেও আরও দুটো গোল হতে পারত। 

 

আক্রমণ বাড়াতে পরিবর্তন করে লিস্টন, সাহাল এবং কিয়ানকে নামিয়েছিলেন লোবেরা। জেমি ম্যাকলারেন কিয়ানের ক্রস থেকে সহজ হেড এবং দিমির পাস থেকে ফাঁকায় বাড়ানো বল থেকে গোল মিস করেন। এই জয়ের পরেই তিন ম্যাচে নয় পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠে গেল মোহনবাগান। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জামশেদপুর এফসি।