আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঘরের মাঠে স্পিনারদের বিরুদ্ধে ধরাশায়ী হয়েছে টিম ইন্ডিয়া। ২২ নভেম্বর গুয়াহাটিতে শুরু দ্বিতীয় টেস্ট। একদিন বিশ্রামের পর মঙ্গলবার থেকে পরের টেস্টের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। এদিন কলকাতায় হয় প্র্যাকটিস। পাঁচদিনের ম্যাচ হলে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ইডেনে খেলা চলার কথা। কিন্তু তিনদিনে ম্যাচ শেষ হয়ে যায়। কলকাতায় রয়ে গিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। এদিন নেট প্র্যাকটিসে অভিনব পদ্ধতি দেখা গেল। নেটে স্পিনারদের মুখোমুখি হতে দেখা যায় সুদর্শন এবং ধ্রুব জুরেলকে। টার্নিং বলের মোকাবিলা করতে এক পায়ে প্যাড পরে খেলতে দেখা যায় দুই তরুণকে। যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এদিন ইডেন গার্ডেনে প্রায় তিন ঘণ্টার ঐচ্ছিক প্র্যাকটিস ছিল ভারতীয় দলের। সাধারণত এমন চিত্র সচরাচর দেখা যায় না।
ডান পায়ের প্যাড খুলে নেন সুদর্শন। একাধিকবার ফ্রন্ট ফুটে খেলতে দেখা যায় বাঁ হাতিকে। ইডেনে খেলেননি সাই। গুয়াহাটিতেও দলে জায়গা পাবেন কিনা সেই নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কিন্তু প্রস্তুতিতে কোনও খামতি নেই। ফ্রন্ট প্যাড ছাড়া বাঁ হাতি স্পিনার এবং অফস্পিনারদের বিরুদ্ধে ব্যাট করলে শিন বোনে চোট পাওয়ায় সম্ভাবনা থাকে। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খেলতে হয় তাঁকে। এই ট্রেনিং পদ্ধতি ওল্ড স্কুলের। যেখানে ফ্রন্ট প্যাডের থেকে ব্যাট বেশি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। সাধারণত প্রথম লাইন অফ ডিফেন্স হিসেবে ব্যাটারররা ফ্রন্ট ফুট ব্যবহার করে। যার ফলে এলবি ডব্লু হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। নেটে ফ্রন্ট প্যাড সরিয়ে দিলে, ব্যাটের আশ্রয় নিতেই হয়।
এইধরনের প্র্যাকটিসের আরও একটি কারণ রয়েছে। বর্তমানে বাঁ হাতিদের ব্যাকফুটে খেলার প্রবণতা বেশি। কারণ স্পিনারদের বল পড়তে পারে না তাঁরা। এই প্র্যাকটিস তাঁদের ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে স্পিনের মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে। সাইয়ের মতো জুরেলকেও ডান পায়ের প্যাড ছাড়া ব্যাট করতে দেখা যায়। ইডেনের প্রধান পিচে রিভার্স সুইপ প্রাকটিস করতে দেখা যায় তাঁকে। স্পিনারদের বলে আউট হওয়ার ঝুঁকি কমানোর প্রস্তুতি সারে দুই ভারতীয় তারকা। ঐচ্ছিক প্র্যাকটিস চলাকালীন সুদর্শনের ওপর কড়া নজর রাখেন গৌতম গম্ভীর। চোটের জন্য দ্বিতীয় টেস্টে খেলার সম্ভাবনা কম শুভমন গিলের। তাঁর জায়গায় খেলতে পারেন সাই। পেসারদের বিরুদ্ধে তেমন স্বচ্ছন্দ দেখায়নি বাঁ হাতিকে। নেটে আকাশদীপের বলে একাধিকবার খোঁচা দেন। নেট বোলারদের মুভমেন্টও সমস্যায় ফেলে তাঁকে। প্রাকটিসের বিরতিতে একাধিকবার গম্ভীর এবং ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাককে সুদর্শনের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। মাত্র ছ'জন এদিনের অনুশীলনে হাজির ছিল। তারমধ্যে ছিলেন দলের সবচেয়ে সিনিয়র সদস্য রবীন্দ্র জাদেজা। নেটে সবচেয়ে বেশি ব্যাট করেন তিনিই। গিলের চোটের কথা ভেবে নিয়ে আসা হয়েছে নীতিশ রেড্ডিকে। সোমবার বিকেলেই শহরে চলে আসেন তিনি। কিন্তু মঙ্গলবার টিম ইন্ডিয়ার অনুশীলনে যোগ দেননি। টেস্টে নিজের নামের পাশে একটি শতরান রয়েছে। গুয়াহাটিতে ভারতীয় অলরাউন্ডারের খেলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
