ভারত - ২ ( রায়ান উইলিয়ামস, আকাশ মিশ্র) 

হংকং - ১ (এভারটন)

আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, 'চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে।' ভারত-হংকং ম্যাচের ক্ষেত্রে যেন এটি ভীষণভাবে প্রযোজ্য। এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ার থেকে ছিটকে যাওয়ার পর টুর্নামেন্টের প্রথম জয়। ঘরের মাঠে প্রথম জয় খালিদ জামিলের। সেরা ম্যাচটি খেলল ভারতীয় দল। মঙ্গলবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে হংকংকে ২-১ গোলে হারাল খালিদের দল। উদ্বুদ্ধ ফুটবল ভারতের। খালিদ সাধারণত রক্ষণাত্মক মনোভাবের কোচ। কিন্তু মঙ্গল রাতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অ্যাটাকিং ব্র্যান্ড অফ ফুটবল মেন ইন ব্লুদের। চলতি টুর্নামেন্টে জঘন্য পারফরম্যান্স ছিল ভারতের। দূরবীন দিয়ে গোল করার লোক খুঁজতে হয়। মানোলো মার্কুয়েজ থেকে খালিদ জামিল। জমানা বদলালেও বদলায়নি বিরক্তিকর ফুটবল। কিন্তু এদিন গতিশীল ফুটবল খেলে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয় মনবীর, লিস্টনরা।

ভারতের জার্সি গায়ে চাপিয়েই অভিষেকে গোল পেলেন রায়ান উইলিয়ামস। ম্যাচের ৪ মিনিটে ভারতকে এগিয়ে দেন। ডানদিক থেকে মনবীর সিংয়ের ক্রস, চলন্ত বলে ডান পায়ের শটে গোল। ভারতের জার্সিতে প্রথম টাচেই স্কোরশিটে নাম তুললেন উইলিয়ামস। মাঠে যতক্ষণ ছিলেন, নজর কাড়েন। কোচির জহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই ফোর্থ গিয়ারে ভারত। সমর্থনের অভাব ছিল না। দারুণ বিল্ড আপ। দুই উইংয়ে,‌ মাঝমাঠে। নিজেদের মধ্যে ছোট ছোট পাস খেলে গোলমুখে পৌঁছে যায় ভারতীয় ফুটবলাররা। তরল ফুটবল। অনেকদিন পর ভারতীয় দলের খেলা দেখতে ভাল লাগল। প্রথমার্ধে গোলের ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। বিরতিতে অন্তত তিন গোলে এগিয়ে যেতে পারত ভারত। কিন্তু জোড়া সুযোগ মিস ছাংতের। মনবীরের থেকে বল পেয়েও বক্সের মধ্যে থেকে বাইরে মারেন। প্রথমার্ধের শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল ভারত। 

যে গতিতে প্রথম ৪৫ মিনিট শেষ হয়, একইভাবে বিরতির পর শুরু করে খালিদের দল। ম্যাচের ৫০ মিনিটে ২-০ করেন আকাশ মিশ্র। রাহুল বেকের লম্বা থ্রো থেকে ডান পায়ের শটে গোল আকাশের। জাতীয় জার্সিতে ৩০তম ম্যাচে প্রথম গোল পেলেন। চোটের জন্য দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি মাঠ ছাড়েন রায়ান উইলিয়ামস এবং আনোয়ার আলি। তাতে কিছুটা প্রভাব পড়ে দলের খেলায়। এদিন বেশ কিছুক্ষণ মাঝমাঠে খেলতে দেখা যায় আনোয়ারকে। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে ব্যবধান কমায় হংকং। গোল করেন এভারটন কাবাগো। ব্যবধান কমানোর পর ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করে হংকং। কিন্তু অটুট ভারতের রক্ষণ। সঙ্গে বহাল প্রতি আক্রমণ। পরিবর্ত ফুটবলার হিসেবে নেমে নজর কাড়েন আশিক কুরুনিয়ান। জোড়া গোলের সুযোগ ছিল তাঁর সামনে। কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাব। গোটা ম্যাচে আধিপত্য বেশি ছিল ভারতের। আক্রমণও। দেশের জার্সিতে অভিষেক হয় বিজয় ভারগিজের। 

 এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারে গ্রুপ সিতে তিনটে হারে এবং দুটো ম্যাচ ড্র করে ভারত। এএফসি এশিয়ান কাপের দৌড় থেকে আগেই ছিটকে গিয়েছিল। হংকং ম্যাচ ছিল শুধুই নিয়মরক্ষার। তবে ক্ষতে কিছুটা প্রলেপ দিতে জয় দিয়ে শেষ করতে চেয়েছিল মেন ইন ব্লু-রা। তাতে সফল খালিদ জামিলের দল। এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ার পর্বে অত্যন্ত হতাশাজনক রেজাল্ট ভারতীয় দলের। যার ফলে চারিদিক থেকে সমালোচনার মুখে পড়েন খালিদ। হংকংয়ের বিরুদ্ধে প্রথম পর্বে হেরেছিল ভারত। তখন কোচ ছিলেন মানোলো মার্কুয়েজ। স্টেফান পেরেইরা ফিগুইরেডোর একমাত্র পেনাল্টিতে ম্যাচ হারে ভারত। এবার জবাব দিল খালিদের দল। ভারতের সঙ্গে শেষ ১২ সাক্ষাতে মাত্র একবার হেরেছিল হংকং। কিন্তু এদিন পাশা বদলায়। এটাই খালিদের অধীনে ভারতীয় ফুটবলের টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে।