আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত বছরের শেষ দিকে একটি  অনুষ্ঠানে ভারতের টি–টোয়েন্টি অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব দর্শক–ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেখানে এক ছাত্র ২০২৫ সালে তাঁর টি–টোয়েন্টি পারফরম্যান্স (১৯ ইনিংসে ২১৮ রান) নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি হাস্যরস ও আত্মবিশ্বাস মিশিয়ে মন্তব্য করেন, ''আমার ১৪ জন সৈনিক আমাকে ঢেকে দিচ্ছে… যেদিন আমি জ্বলে উঠব, সেদিন কী হবে তারা জানে।'' 

এই মন্তব্য ঘিরে তখন থেকেই আলোচনা শুরু হয় তাঁর ফর্ম ও নেতৃত্ব নিয়ে।

সমালোচকদের মতে, অধিনায়ক হিসেবে দল সাফল্য পেলেও তাঁর ব্যাটিং ফর্ম দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নের মুখে। ৩৫ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত রয়েছে, যেখানে তিনি ইতিমধ্যেই ১১৩টি ম্যাচে ৩,২৭২ রান করেছেন।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অধিনায়কত্ব নেওয়ার পর তিনি যেন ব্যাটসম্যান পরিচয়ের চেয়ে নেতৃত্বের ভূমিকাতেই বেশি মনোযোগী হয়ে পড়েন। ফলে ব্যাটিংয়ের ধার কিছুটা কমে যায় বলেও দাবি উঠেছে। একইসঙ্গে তাঁর আগ্রাসী মন্তব্যগুলো নিয়েও বিভিন্ন মহলে ভিন্নমত তৈরি হয়।

২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সময় তৎকালীন কোচ রাহুল দ্রাবিড় মন্তব্য করেছিলেন, সুর্যকুমারকে মাঠের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের বাইরে শট খেলার ক্ষেত্রেও উন্নতি করতে হবে। বিশেষ করে তাঁর সিগনেচার শট ‘সুপলা শট’  নিয়েও প্রতিপক্ষ দলগুলো পরিকল্পনা তৈরি করে বলে বিশ্লেষণে উঠে আসে।

শোনা যায়, দলীপ ট্রফিতে অর্শদীপ সিংয়ের বিরুদ্ধে নেটে অনুশীলনের সময়েও তিনি ওই শট নিয়ে অতিরিক্ত আগ্রাসী ছিলেন, যা নির্বাচক মহলেও আলোচনার জন্ম দেয়।

অন্যদিকে নেতৃত্ব বাছাই নিয়েও ভারতীয় ক্রিকেটে নানা সময় ভিন্ন মত সামনে এসেছে। ২০২৪ সালে ক্যারিবিয়ান সফরের পর অধিনায়কত্ব নিয়ে আলোচনার সময়ে হার্দিক পাণ্ডিয়ার নামও সামনে ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোচ গৌতম গম্ভীর ও নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকরের সিদ্ধান্ত এবং অভ্যন্তরীণ সমর্থনের ভিত্তিতে নেতৃত্বের দায়িত্ব পান সূর্যকুমার।

দলের ভিতরে সম্পর্ক ও সমীকরণ নিয়েও বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর ও হার্দিক পাণ্ডিয়ার মধ্যে দূরত্বের কথাও ক্রিকেট মহলে শোনা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়।

২০২৫ এশিয়া কাপেও ভারতের খেতাব জয়ের পর তাঁর ব্যক্তিগত ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষে হাত না মেলানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হলেও অধিনায়কের অবস্থান ছিল দৃঢ়। তিনি তখন মন্তব্য করেন, ''আমি ফর্মে নেই মানে এই নয় যে আমি খারাপ খেলছি।''

তবে সমালোচকদের মতে, দীর্ঘ সময় রান না পাওয়া সত্ত্বেও তিনি সমস্যার গভীরে না গিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থান বজায় রেখেছেন।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়কে ঘিরে ভারতের সাফল্য থাকলেও তাঁর ব্যাটিং অবদান নিয়ে আলোচনা সীমিত ছিল বলেও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। একইভাবে আইপিএলেও তাঁর পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী না যাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।

তবু সমর্থকদের একাংশ মনে করেন, সূর্যকুমারের মতো ব্যাটসম্যানের ক্ষেত্রে “একটি বড় ইনিংসই সব সমালোচনার জবাব দিতে পারে।” এমন বিশ্বাস এখনও ক্রিকেট মহলে টিকে আছে।