আষাঢ় শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশী থেকে শুরু হচ্ছে জয়া পার্বতী ব্রত। এবছর এই ব্রত পালিত হবে ২৭ জুলাই থেকে ১ অগস্ট পর্যন্ত।
2
13
গুজরাত ও পশ্চিম ভারতে বিশেষ ভক্তি সহকারে পালিত এই পাঁচ দিনের ব্রতকে গৌরী ব্রত বা আলুনা ব্রত নামেও ডাকা হয়।
3
13
কথিত আছে, এক ব্রাহ্মণ রমণীর স্বামীকে সাপে কাটার পর তিনি গভীর ভক্তি সহকারে মহাদেবের আরাধনা করে স্বামীর প্রাণ ফিরিয়ে আনেন। সেই ভক্তি ও নিষ্ঠার স্মারক হিসেবেই জয়া পার্বতী ব্রত পালনের প্রচলন।
4
13
দাম্পত্য ভালোবাসা, বিশ্বাস ও নারীশক্তির প্রতীক হিসেবে গুজরাতে শতাব্দীপ্রাচীন এই ব্রত আজও নিষ্ঠাভরে পালিত হয়।
5
13
প্রথম দিন, অর্থাৎ ২৭ জুলাই প্রদোষ পুজোর শুভ মুহূর্ত সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিট থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।
6
13
দেবী পার্বতীর আরাধনায় এই ব্রত পালন করেন বিবাহিতা ও অবিবাহিতা উভয় শ্রেণির মহিলারাই।
7
13
অবিবাহিতা মেয়েরা শিবের মতো গুণসম্পন্ন স্বামী পাওয়ার আশায়, আর বিবাহিতা মহিলারা স্বামীর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও সুখী দাম্পত্যের জন্য এই ব্রত রাখেন। পরিবারের সমৃদ্ধি কামনাতেও অনেকে এই ব্রত পালন করেন।
8
13
ব্রতের প্রথম দিন একটি মাটির পাত্রে গমের বীজ (জোয়ারা) বপন করে পুজোর স্থানে রাখা হয়। পরের পাঁচ দিন প্রতিদিন সকালে সেই বীজে জল দেওয়া হয় এবং পাত্রটির পুজো করা হয়।
9
13
এই সময় তুলো দিয়ে তৈরি একটি মালা বা 'নাগলা' সিঁদুর দিয়ে সাজিয়ে দেবীকে নিবেদন করা হয়।
10
13
ব্রতের পঞ্চম রাতে হয় জয়া পার্বতী জাগরণ, যেখানে মহিলারা সারারাত জেগে শিব-পার্বতীর ভজন ও আরতি গেয়ে কাটান।
11
13
ষষ্ঠ দিন, যাকে গৌরী তৃতীয়া বলা হয়, সেই জোয়ারা নদী বা জলাশয়ে বিসর্জন দিয়ে লবণ ও গম সহযোগে পূর্ণ আহার গ্রহণ করে ব্রত ভাঙা হয়।
12
13
এই পাঁচ দিন লবণ সম্পূর্ণ বর্জন করতে হয়। গম ও অধিকাংশ সবজিও এড়িয়ে চলার নিয়ম। আমিষ খাবার ও ডিম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
13
13
পুজো বা নিয়মকানুন এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়, এবং এই সময় কারও সঙ্গে ঝগড়া বা কটু কথা বলা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়।