আজকাল ওয়েবডেস্ক: তরুণ ওপেনার বৈভব সূর্যবংশীর ঝোড়ো ব্যাটিং এবং পেসারদের দুরন্ত বোলিংয়ে ভর করে জিম্বাবোয়েকে ৩৫ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করল ভারত।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারতের ইনিংসের ভিত গড়ে দেন বৈভব সূর্যবংশী। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম শতরানের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ৪৯ বলে ৮১ রান করে আউট হন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৪টি ছক্কা। ওয়েসলি মাধেভেরের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে লং-অফে ব্র্যাড ইভান্সের দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচে ফিরে যান এই তরুণ ব্যাটার।
সূর্যবংশীর বিদায়ের পরও ভারতের রান তোলার গতি কমেনি। ঈশান কিশান ২৯, অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার ২৭ এবং রিঙ্কু সিং মাত্র ১৪ বলে অপরাজিত ২৫ রান করে দলের স্কোরকে বড় জায়গায় পৌঁছে দেন। ভারত করে ৫ উইকেটে ১৯২ রান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমেই বড় ধাক্কা খায় জিম্বাবোয়ে। ইনিংসের প্রথম বলেই ব্রায়ান বেনেটকে ফিরিয়ে দেন মায়াঙ্ক যাদব।
এরপর যশ ঠাকুর জিম্বাবোয়ের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। ডিয়ন মায়ার্সকে ফেরানোর পর অধিনায়ক সিকন্দর রাজাকেও শূন্য রানে আউট করেন তিনি। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ডাক দেখেন রাজা। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা থাকলেও রায়ান বার্ল প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেই সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দেন।
অন্যদিকে, অভিষেক হওয়া অশোক শর্মাও নজর কেড়েছেন। ঈশান কিশানের একটি সহজ ক্যাচ হাতছাড়া হওয়ায় শুরুতে উইকেট না পেলেও পরে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে বোল্ড করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম উইকেট তুলে নেন।
জিম্বাবোয়ের হয়ে একাই লড়াই চালিয়ে যান রায়ান বার্ল। ওয়েসলি মাধেভেরের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ৬০ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। মাধেভেরে ২৮ রান করার পর মায়াঙ্ক যাদব সেই জুটি ভাঙেন। বার্ল ৪২ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করলেও অন্য প্রান্ত থেকে পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ায় দলকে জয়ের পথে নিয়ে যেতে পারেননি।
ভারতের হয়ে মায়াঙ্ক যাদব, যশ ঠাকুর, রবি বিষ্ণোই এবং অশোক শর্মা নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখেন। জিম্বাবোয়ের প্রতিরোধ থেমে যায় ৭ উইকেটে ১৫৭ রানে।
৩৫ রানে ম্যাচ জিতে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের দখলে নেয় ভারত। এর আগে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরে ভারত হার মানে। সেই হতাশা কাটিয়ে এই সিরিজে তরুণ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স, পেস বোলারদের ধারাবাহিক সাফল্য এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ফিরে পাওয়া ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিল।
















