আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্পিনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ব্যাটারদের দুর্বলতা প্রকট হয়ে দেখা গিয়েছে। 

১২৪ রান তাড়া করতে নেমে ৯৩ রানে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস। ৩০ রানে হার মানে ভারত। 

ভারতের প্রাক্তন অফস্পিনার হরভজন সিং তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে বলেছেন, এই ধরনের পিচ দীর্ঘ ফরম্যাটের সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়। ভাজ্জির মত, বিরাট কোহলি ও শচীন তেণ্ডুলকররাও এই পিচে বাঁচতে পারতেন না। 

ইডেনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেই ঐতিহাসিক টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন হরভজন। সেই প্রাক্তন অফস্পিনার বলছেন, ''টেস্ট ক্রিকেটের প্রয়াণ ঘটেছে। টেস্ট ক্রিকেটের আর কিছু বাকি নেই বলেই মনে হয়..বিশেষ করে ইন্ডিয়ান টেস্ট ক্রিকেটে। ইংল্যান্ডে খেলাগুলো ঠিকঠাক হয়েছে। ওখানে পিচের চরিত্র নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আমাদের ছেলেদের প্রশংসা করেছি। সত্যিকারের ক্রিকেট বলতে যা বোঝায়, তাই হয়েছিল ইংল্যান্ডে। বল অপ্রত্যাশিতভাবে ঘুরেছে। কী করতে হবে, সেই ধ্যান ধারণাও ছিল না ব্যাটারদের কাছে। টেকনিক যত ভালই হোক না কেন---শচীন তেণ্ডুলকর বা বিরাট কোহলিও এই পিচে বাঁচত না। একটা বল হঠাৎই লাফিয়ে উঠেছে। আরেকটা গড়িয়ে যাচ্ছে। বল আচম্বিতেই এমন ঘুরেছে যে ব্যাটাররা আউট হয়ে গিয়েছে। এখানে স্কিলটাই সব নয়। পিচই সব স্থির করে দেয়। এটা নতুন কোনও ঘটনা নয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই এমন ঘটে চলেছে।'' 

ইডেন গার্ডেন্সে ভারত হার মানে ৩০ রানে। তিন ঘণ্টাও ব্যাট করতে পারেননি ভারতের তারকা ব্যাটাররা। 

ভারতীয়দের মধ্যে ওয়াশিংটন সুন্দর সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন। শেষের দিকে অক্ষর প্যাটেল পাল্টা মারের খেলা শুরু করেন। দুটো ছক্কা হাঁকিয়ে বুকের উপরে চেপে বসা পাহাড়টা সরিয়ে নিয়েছিলেন প্রায়। কিন্তু শেষ মেশ তাঁর জন্য শেষ হাসি তোলা ছিল না।  

মহম্মদ কাইফের মতো প্রাক্তন ক্রিকেটার মনে করেন, গৌতম গম্ভীর জমানায় ভারতীয় দলের সাজঘরে খোলামেলা ভাবটাই আর নেই এখন। সবাই ভয়ে ভয়ে রয়েছেন। ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফ বলেছেন, গৌতম গম্ভীরের নেতৃত্বে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট এমন এক আবহাওয়া তৈরি করে রেখেছে যেখানে ব্যাটিংয়ের জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তা টেস্ট ব্যাটসম্যানদের অগ্রগতিকে বাধা দিচ্ছে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে। 

কেউ বলছেন খোলামেলা ভাব নেই। কেউ বলছেন পিচের জন্যই ভারতীয় তারকা ব্যাটাররা উইকেটে টিকতে পারেননি। এর মধ্যেই ভাজ্জি বলে দিলেন, মাস্টার ব্লাস্টার, কোহলিরাও এই পিচে খেলতে পারতেন না।