আজকাল ওয়েবডেস্ক: এবার এসআইআর শুনানিতে তলব করা হল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ঝুলন গোস্বামীকে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ভোটার তালিকার নথিতে ঝুলনের বাবার নাম নিয়ে অসঙ্গতি ছিল।
সে কারণে তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, ঝুলন গোস্বামী এবং তাঁর দুই ভাইবোনকে নোটিশ পাঠানো হয়। কারণ বিভিন্ন নথিতে তাঁদের বাবার নাম আলাদা আলাদা ভাবে নথিভুক্ত ছিল বলে জানা গিয়েছে।
কোথাও বাবার নাম উল্লেখ ছিল ‘নিশিথ রঞ্জন গোস্বামী’, আবার কোথাও লেখা ছিল ‘নিশিথ গোস্বামী’। এই অসামঞ্জস্যের কারণেই চলতি ভোটার তালিকা যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শুনানিতে ডাকা হয় ঝুলন এবং তাঁর দুই ভাইবোনকে।
জানা গিয়েছে, গত ২৭ জানুয়ারি ঝুলনকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল চাকদায়। কিন্তু উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগ চলার জন্য তিনি হাজির থাকতে পারেননি। তবে তাঁর দুই ভাইবোন শুনানিতে ছিলেন বলেই জানা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, এসআইআরের শুনানিতে তলব করা হয়েছে প্রাক্তন ফুটবলার মেহতাব হোসেনকেও। ১ ফেব্রুয়ারি বারুইপুরের কাছে মল্লিকপুরের আবদুশুকুর হাইস্কুলে হাজির হতে বলা হয়েছে প্রাক্তন ফুটবলারকে।
বুধবার রাতে বিএলওর ফোন পান। জানানো হয়, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম থাকলেও, মায়ের নামে ভুল আছে। সেই কারণে মেহতাবকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে।
কিন্তু বেঙ্গল সুপার লিগের সঙ্গে যুক্ত আছেন তারকা ফুটবলার। দল ফাইনালে উঠলে ১ ফেব্রুয়ারি শুনানিতে হাজির থাকতে পারবেন না তিনি। সেক্ষেত্রে চিঠি দিয়ে ২ ফেব্রুয়ারি শুনানিতে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানাবেন।
এসআইআরের শুনানিতে ডাক পেয়ে বিরক্ত তারকা ফুটবলার। মেহতাব বলেন, ‘এটা আর সহ্য করা যাচ্ছে না। বাঙালিদের নিত্য হয়রানির মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। সবারই কাজকর্ম থাকে। আমার অফিস আছে, তারপর ফুটবল আছে। তারমধ্যে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে শুনানিতে অংশ নেওয়া সহজ নয়। আমরা ফাইনালে উঠলে ১ ফেব্রুয়ারি আমি শুনানিতে যেতে পারব না। সেক্ষেত্রে ২ তারিখ যাওয়ার কথা বলব।’
নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর পরিবার, অমর্ত্য সেনকেও এসআইআরের শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মেহতাব। তিনি মনে করেন, এমন হওয়া কাম্য নয়। পরিস্থিতি বিবেচনা করা উচিত সকলের।
প্রসঙ্গত, এর আগে মহম্মদ সামিকেও এসআইআরের শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু বাংলার হয়ে ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকায় প্রথম শুনানিতে যেতে পারেননি। দ্বিতীয়বার হাজিরা দেন।
সামি কলকাতা পুরসভার ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার। কিন্তু সেই সময় রাজকোটে বাংলার হয়ে খেলতে ব্যস্ত ছিলেন। তাই শুনানিতে হাজিরা দিতে পারেননি।
পরিবারের তরফে জানানো হয়েছিল, যাদবপুরের কার্জননগর স্কুলের শুনানিতে ডাকা হয়েছিল সামিকে। তবে খেলা শেষে বাড়ি ফেরার পর নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাবতীয় নথি জমা দেবেন।
৮ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজকোটে ছিলেন সামি। ঘরোয়া ক্রিকেটে বিজয় হাজারে ট্রফিতে বাংলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। ৯ থেকে ১১ জানুয়ারির মধ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় হাজিরা দেওয়ার সুযোগ ছিল তাঁর কাছে। কিন্তু পারেননি। সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফির গ্রুপ পর্বের ম্যাচের দু’দিন আগে শেষপর্যন্ত শুনানিতে যোগ দেন।
