আজকাল ওয়েবডেস্ক: গঞ্জালো হিগুয়েনকে মনে আছে? ২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানির বিরুদ্ধে যিনি অফসাইড থেকে গোল করেছিলেন। তার চার বছর পরে বিশ্বকাপ ফাইনালে সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেছিলেন। সেই হিগুয়েন খেলে গিয়েছিলেন কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। 
সেই হিগুয়েনকে দেখলে এখন চেনাই যাবে না। 
 ২০২২ সালে ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর বেশিরভাগ সময়ই আড়ালে ছিলেন তিনি। একসময়ে মেসি-রোনাল্ডোর সঙ্গে তাঁর নাম উচ্চারিত হত। রিয়াল মাদ্রিদ ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রাক্তন এই তারকা স্ট্রাইকারকে নিয়ে দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে তেমন কোনও আলোচনা দেখা যায়নি।
তবে সম্প্রতি এক ভক্তের সঙ্গে তোলা তাঁর একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নতুন করে আলোচনার ঝড় ওঠে। 

ছবিটি শেয়ার করে এক ব্যক্তি লেখেন, ''এটা এআই নয়। গতকাল আমার বন্ধুর ভাই এই মানুষটির সঙ্গে দেখা করেছে। তিনি এখন ক্লান্ত, যেন জীবনের ভার বইছেন। তবুও আমি তাঁকে সমর্থন করি।''

ছবিতে দেখা যায়, দীর্ঘ দাড়ি-গোঁফে বদলে যাওয়া হিগুয়েনকে। মেলানো যায় না কেরিয়ারের মধ্যগগনে থাকা হিগুয়েনের সঙ্গে। 
কলকাতায় ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচ খেলতে এসেছিলেন তিনি। যুবভারতী লাগোয়া হোটেলে  তাঁর সঙ্গে  ছবি তোলার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল। 

সেই সুদর্শন হিগুয়েন এখন পুরোদস্তুর বদলে গিয়েছেন।  খেলোয়াড়ি জীবনের পরিচিত চেহারার সঙ্গে তাঁর বর্তমান রূপ মেলানো অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অনেকে প্রথমে তাকে চিনতেই পারেননি।
ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ মন্তব্য করেন, দেখে 'গৃহহীন' মনে হচ্ছে।  আবার অনেকে ধারণা করেন তিনি হয়তো মানসিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন।  তবে এগুলো দাবিই।  


ফুটবল কেরিয়ারে হিগুয়েন ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। কখনও প্রশংসায়, কখনোও সমালোচনায়। বিশেষ করে ২০১৪ বিশ্বকাপ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল মিস করার কারণে তাঁকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। যদিও তাঁর সতীর্থ মেসি তখন প্রকাশ্যে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
ক্লাব পর্যায়ে তিনি ছিলেন দারুণ সফল। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ১৯০ ম্যাচে ১০৭ গোল করেন তিনি। নাপোলি, জুভেন্টাস, এসি মিলান, চেলসি হয়ে ইন্টার মায়ামিতে খেলেন। কেরিয়ারের শেষ অধ্যায় তিনি কাটান ইন্টার মায়ামিতে।
সব মিলিয়ে ক্লাব কেরিয়ারে তাঁর পরিসংখ্যান ৫৩০ ম্যাচে ২৭৯ গোল। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ৭৫ ম্যাচে তিনি ৩১ গোল করেছেন।
বর্তমানে ফুটবল থেকে দূরে থাকলেও হিগুয়েনের নাম এখনও ভক্তদের স্মৃতিতে রয়েছে। কখনও সাফল্যের জন্য, আবার কখনও বিতর্কিত মুহূর্তগুলোর জন্য।