আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল জগতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বিশ্বকাপ মঞ্চে দেশের হয়ে মাঠ কাঁপানোর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মাত্র ২৫ বছর বয়সে মারা গেলেন প্রতিভাবান মিডফিল্ডার জেইডেন অ্যাডামস। দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দল 'বাফানা বাফানা' এবং ঘরোয়া ক্লাব মামেলোডি সানডাউনসের এই তারকার আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ফুটবল বিশ্ব। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো থেকে শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়ামন্ত্রী সকলেই এই তরুণ ফুটবলারের মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়া, শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী গায়টন ম্যাকেঞ্জি গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, তিনি জেইডেন অ্যাডামসের মৃত্যুর খবরে স্তম্ভিত এবং মর্মাহত। তিনি সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষকে এই কঠিন সময়ে কোনও  ধরনের জল্পনা-কল্পনা না ছড়ানোর অনুরোধ করেছেন এবং অ্যাডামসের পরিবারকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেই পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সম্প্রতি শেষ হওয়া ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার রূপকথার মতো যাত্রার অন্যতম সারথি ছিলেন জেইডেন। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই তিনি মাঠে নেমেছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা এবারই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিল, যদিও রাউন্ড অব ৩২-এ সহ-আয়োজক দেশ কানাডার কাছে হেরে তাদের বিদায় নিতে হয়। বিশ্বকাপের গ্রুপ 'এ'-তে চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জেইডেন তাঁর ঠাকুমার মৃত্যুর খবর পেয়েছিলেন, কিন্তু সেই চরম মানসিক কষ্টের মধ্যেও দেশের জার্সিতে মাঠে নেমে ১-১ ড্র করতে অবদান রেখেছিলেন।

জেইডেন অ্যাডামসের ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল স্টেলেনবোশ এফসি-র হয়ে। এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি মামেলোডি সানডাউনস ক্লাবে যোগ দেন, যেখানে তিনি লিগ খেতাব এবং আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বাদ পান। ২০২৩ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের সেমিফাইনালে পৌঁছানো দক্ষিণ আফ্রিকা দলেরও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন তিনি। সাউথ আফ্রিকান ফুটবল প্লেয়ার্স ইউনিয়ন এই প্রতিভাবান ফুটবলারের অকাল প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে বলেছে, জেইডেনের চলে যাওয়া দেশের ফুটবল অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি, কারণ তাঁর সামনে এখনও অনেক কিছু দেওয়ার বাকি ছিল। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জেইডেনের পরিবার ও সতীর্থদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, বিশ্ব ফুটবল সম্প্রদায় বাফানা বাফানা ও মামেলোডি সানডাউনসের এই তরুণ তারকাকে সবসময় মিস করবে।