ব্রাজিল ৩ (ম্যাথিউস কুনহা ২, ভিনিসিয়াস জুনিয়র)
হাইতি ০
আজকাল ওয়েবডেস্ক: হাইতিকে হারিয়ে বিশ্বকাপে জয়ে ফিরল ব্রাজিল। সাম্বা শোয়ের নায়ক ম্যাথিউস কুনহা এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ম্যান ইউ ফরোয়ার্ড জোড়া গোল করলেও দুটি অ্যাসিস্টই ভিনির।
পাশাপাশি, একটি গোল করে গেলেন তিনি। মরক্কো ম্যাচে ড্র করার পাশাপাশি এদিনের জয় যে শিবিরে স্বস্তি এনে দিয়েছে তা ফুল টাইমে ফুটবলারদের হাবেভাবেই বোঝা গেল। স্কটল্যান্ড ম্যাচে অনেকটাই স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে নামতে পারবেন খোদ অ্যান্সেলত্তিও।
তবে প্রথমার্ধে তিন গোল করলেও দ্বিতীয়ার্ধে বারবার সুযোগ নষ্ট করলেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডরা। কখনও সেটা হাইতি ডিফেন্স আটকাল, কখনও সেটা ব্রাজিল আক্রমণভাগ নষ্ট করল, আর বাকিটা অফসাইডের ফাঁদ দেখা গেল বারবার।
এই সুযোগ নষ্টের খেসারত পরে না দিলেই হল।শনিবারের ম্যাচ জয় ব্রাজিলের কাছে শুধু তিন পয়েন্ট নয়। বিশ্বকাপে এগোনোর জন্য যে আত্মবিশ্বাসটা দরকার ছিল সেটা খানিকটা হলেও ফিরে এসেছে সেলেকাও শিবিরে।
ম্যাথিউস কুনহাকে প্রথম একাদশে নামিয়ে অ্যান্সেলত্তি যে চালটা চেলেছিলেন সেটাই কাজে লেগে গেল এদিন। প্রথমার্ধেই ম্যান ইউ ফরোয়ার্ডের দু’গোল ব্রাজিলকে এগিয়ে দিল গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে।
এদিন ম্যাচের শুরু থেকে প্রত্যাশা মতোই ডিফেন্সিভ এবং ফিজিক্যাল ফুটবল খেলছিল হাইতি। আধিপত্য ব্রাজিলের থাকলেও বড় চেহারার হাইতি ডিফেন্স বেশ বিপাকে ফেলছিল রাফিনহাদের।
১২ মিনিটের মাথায় অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায় রাফিনহার গোল। বাড়ানো লং বল ধরে ডানদিক থেকে কিপারের মাথার ওপর দিয়ে হাইতির জালে বল ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু লাইন্সম্যান পতাকা তুলে দেন।
অবশেষে সাম্বা ড্যান্স দেখা গেল ২৩ মিনিটে। বাঁদিক থেকে ঢুকে গোল লক্ষ্য করে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের শট হাইতি কিপার সেভ দিলে রিবাউন্ড থেকে গোল করতে ভুল করেননি ম্যাথিউস কুনহা।
কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে সিগনেচার স্টাইলে সেলিব্রেশন করেন। ব্রাজিলের দ্বিতীয় গোলটাও এল সেই কুনহার পা থেকেই। তবে এবারে কোনও জটলা নয় দুরন্ত শটে গোল করলেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
ভিনিসিয়াসের বাড়ানো বল ধরে বাঁ-পায়ের গোলার মতো শটে ২-০ করেন কুনহা। ব্রাজিলের তিন নম্বর গোল এল ভিনিসিয়াসের পা থেকে। লুকাস পাকেতার বাড়ানো বলে হাইতি কিপারকে একপ্রকার মাটিতে ফেলে ফার পোস্টে কার্লারে গোল, ছবির মতো মুভ।
প্রথম ৪৫ মিনিটেই এদিন দুটি অ্যাসিস্ট এবং একটি গোল করে ফেলেন রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার। তবে এর মধ্যেও চিন্তা দেখা গেল ব্রাজিল শিবিরে। প্রথমার্ধেই চোট পেয়ে মাঠে ছাড়েন রাফিনহা।
মরক্কো ম্যাচের তুলনায় এদিন অনেকটাই চনমনে লাগছিল তাঁকে। তার মধ্যেই চোট পেলেন। অ্যান্সেলত্তিও তাঁকে নিয়ে কোনও রিস্ক নিতে চাননি। অস্বস্তি হচ্ছে দেখেই তাঁকে তুলে নিয়ে রায়ানকে মাঠে নামান।
দ্বিতীয়ার্ধে উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটেনি সেরকম। কাউন্টার অ্যাটাকে বেশ কয়েকবার সুযোগ পেয়েছিল দুই দলই। কর্নার থেকে ব্যাক হেডে প্রায় একটা গোল করে ফেলেছিল হাইতি। রিকার্ডো আডের হেড বাঁচান অ্যালিসন।
এদিন বিশ্বকাপ অভিষেক হল এনড্রিকের। তিনি মাঠে নামতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে গোটা স্টেডিয়াম। গোলও করে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু তা অফসাইডের জন্য বাতিল হয়।
অন্যদিকে, রাফিনহার হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। খুব গুরুতর চোট কিনা তা এখনও কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে স্কটল্যান্ড ম্যাচের বার্সা তারকা ফিট হয়ে যাবেন বলেই আশাবাদী ব্রাজিল শিবির।















