আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনা নিজেদের সহজাত খেলা খেলতে পারেনি। পুরো ম্যাচ জুড়ে লিওনেল স্কালোনির দল স্পেনকে তেমন কোনও চ্যালেঞ্জই জানাতে পারেনি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনা একটি শটও নিতে পারেনি। 

ম্যাচের ৯৩ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখার পরই নিউমেরিক্যাল অ্যাডভান্টেজের সুবিধা পায় স্পেন। 

তবে ম্যাচের ফলের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার অস্বাভাবিক পারফরম্যান্স নিয়েও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাঠে নামার আগে টানেলে সতীর্থদের উদ্দেশে কথা বলছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সেখানে তিনি বলেন, "শান্ত থাকো সবাই। যা হয়েছে, সব ভুলে যাও। অন্য কিছু নয়, শুধু খেলাটার দিকেই মন দাও।"

মেসির এই বক্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। অনেকের ধারণা, ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে এমন কিছু ঘটেছিল, যার প্রভাব পড়ে দলের পারফরম্যান্সে। ম্যাচে এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড এবং লিয়ান্দ্রো পারেদেস-সহ কয়েকজন ফুটবলারের আবেগ নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনাও সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন সমর্থক লিখেছেন, "মেসি কেন বললেন, যা হয়েছে সব ভুলে যাও? আসলে কী ঘটেছিল?" আরেকজনের মন্তব্য, "পুরো ম্যাচটাই ছিল অদ্ভুত। এখন এই ভিডিও সামনে আসার পর আরও অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।" 

অন্য একজন বলেছেন, "আর্জেন্টিনা যেন খেলতেই চায়নি। না ছিল প্রেসিং, না আক্রমণ, না রক্ষণ। কিছু একটা ঘটেছিল বলেই মনে হচ্ছে।"

এদিকে, ম্যাচের আগে এনজো ফার্নান্দেজকে আবেগাপ্লুত অবস্থায় দেখা যায়। কয়েকজনের দাবি প্রাণবন্ত ফার্নান্দেজকে সেদিন কাঁদতে দেখা গিয়েছিল, যা তাদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।

তবে এসব জল্পনার মধ্যে সম্ভাব্য একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বস্ত সাংবাদিক হার্নান কাস্তিয়ো। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি জানান, ম্যাচের আগে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ এতটাই আবেগঘন ছিল, কারণ মেসি সতীর্থদের জানিয়েছিলেন, এটি সম্ভবত আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচ। 

৩৯ বছর বয়সী মেসি এখনও জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা করেননি। তবে এটি তাঁর শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

ফাইনালে পরাজয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মেসি লিখেছেন, "এই পরাজয়ের কষ্ট অনেক গভীর, এই ক্ষত সারতে সময় লাগবে। তবে ইতিবাচক দিকগুলোও সঙ্গে থাকবে। কঠিন সব ম্যাচে আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি। পুরো দেশের সমর্থন, দলের পরিশ্রম ও আত্মত্যাগ আমাদের আবারও বিশ্বের সেরাদের কাতারে নিয়ে এসেছে।"