আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০০২-এর পুনরাবৃত্তি হল না ২০২৬-এ। নিউ জার্সিতে গ্রুপ ‘আই’-এর ম্যাচে সেনেগালকে ১-৩ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ফ্রান্স। 

প্রথমার্ধে নিষ্প্রভ ও ছন্দহীন ফ্রান্সকে বিরতির পর যেন নতুন প্রাণ দিলেন কিলিয়ান এমবাপে। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ফরাসি অধিনায়ক। সেই গোলের মাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে নিজের গোলসংখ্যা ৫৭-তে নিয়ে গিয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা অলিভিয়ের জিরুর রেকর্ডে ভাগ বসান রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড। 

এরপর ৮২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পরিবর্ত হিসেবে নামা ব্র্যাডলি বারকোলা। তবে হাল ছাড়েনি সেনেগাল। ইব্রাহিম এমবায়ের গোলে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় আফ্রিকার দলটি।

কিন্তু শেষ কথা বলেন সেই এমবাপেই। অ্যাডেড টাইমের ষষ্ঠ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে কামান দাগা শটে ৩-১ করেন তিনি। সেই গোলেই জিরুকে পেছনে ফেলে ফ্রান্সের ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট পরেন তিনি। এমবাপের জোড়া গোল ও বারকোলার গোলে শেষ পর্যন্ত সেনেগালকে ১-৩ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে ফ্রান্স।

ম্যাচের শুরুতে বরং সেনেগালই ছিল বেশি আক্রমণাত্মক। ২৫ মিনিটে নিকোলাস জ্যাকসনের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এগিয়ে যাওয়া হয়নি আফ্রিকার দলটির। প্রথমার্ধে ফ্রান্সকে বিবর্ণই দেখিয়েছে। সেনেগালের গোল লক্ষ্য করে শটই নিতে পারেনি। প্রথমার্ধেই এমবাপের পেনাল্টির আবেদন নাকচ হয়ে যায়। ভিআরএ-তে দেখা যায় সাদিও মানের ট্যাকলের সময়ে এমবাপের সঙ্গে শারীরিক সংঘর্ষই হয়নি।  বিরতির আগে গোলের সোনার সুযোগ নষ্ট করে সেনেগাল। দ্বিতীয়ার্ধে অন্য ছবি। খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় ফ্রান্স। 

একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে ফ্রান্স। ক্রমাগত আক্রমণের পুরস্কার পায় ৬৬ মিনিটে। মাইকেল ওলিসের পাস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক এমবাপে। এরকম গোল দেখার জন্যই হাজার মাইল হেঁটে আসা যায়। 

এই গোলের ফলে বিশ্বকাপে এমবাপের গোলসংখ্যা হয় ১৩। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসের গোল ১৬টি। গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিল সেনেগাল। একবার ফ্রান্সের জালেও বল জড়িয়েছিল তারা, কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। এরপর ম্যাচের ৭৯ মিনিটে পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা ব্র্যাডলি বারকোলা মাত্র তিন মিনিটের মাথায় ২-০ করেন ফ্রান্সের অনুকূলে। 

কিন্তু আফ্রিকান সিংহরা দমে যাওয়ার বান্দা নন। অ্যাডেড টাইমে ইব্রাহিম ২-১ করেন। তার কিছুক্ষণ পরেই এমবাপে কামান দাগেন। সেনেগালের গোলকিপার শরীর ছুঁয়েও বলের নাগাল পাননি। ফ্রান্স এগিয়ে যায় ৩-১-এ। এই গোলের ফলে ক্লোসে ও এমবাপের মধ্যে ব্যবধান এখন দু'গোলের। চলতি বিশ্বকাপেই হয়তো নতুন রেকর্ড গড়বেন ফ্রান্সের ক্যাপ্টেন। নিউ জার্সির রাত তাই শুধু ফ্রান্সের জয়ের গল্প নয়, এমবাপের ইতিহাস লেখার রাতও বটে।