জীবনের অনেক পরীক্ষা দিয়েছি আমরা সকলেই। স্কুল, কলেজ, চাকরি ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু বেশিরভাগ জায়গায়ই পাস করার নূন্যতম নম্বর ৩৩ বা ৩৩ শতাংশ পেতেই হবে পাস করার জন্য।
2
14
কেন এই অদ্ভুত নিয়ম? ৩৩-এর বদলে ৪০ বা ৫০ রাখলে কী ক্ষতি হতো? কবে থেকে ভারতে চালু হল ৩৩-এর নিয়ম। এর জন্য আমাদের কিছুটা ইতিহাস ঘাঁটতে হবে।
3
14
একটি তত্ত্ব অনুযায়ী, ব্রিটিশ বাবুরা ইংল্যান্ডে যখন পরীক্ষা দিতেন তখন তাদের পাস করার জন্য নূন্যতম ৬৫ পেতেই হতো। কিন্তু তাদের মনে হয়েছিল ভারতীয়রা এই নম্বর তুলতে পারবে না।
4
14
তাই ভারতীয় পড়ুয়াদের জন্য পাস করার নম্বর অর্ধেক করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, ৩২.৫ শতাংশ পেলেই পাস। দশমিকের ঝামেলা এড়াতে ৩৩ করা হয়। কিন্তু সত্যিই কি এই কারণে ৩৩ শতাংশকে পাস করার জন্য নূন্যতম নম্বর ধরা হয়?
5
14
১৮৫৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উড'স ডেসপ্যাচ নামক শিক্ষা পরিকল্পনা ভারতে পাঠায় ক্যালকাটা, বম্বে এবং মাদ্রাজে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করার জন্য। লন্ডনের অনুকরণে সেই শিক্ষা ব্যবস্থা ভারতে চালুও করা হয়।
6
14
কিন্তু ভারতীয় পড়ুয়াদের জন্য পাস করার নূন্যতম নম্বর কত হবে সেই সংক্রান্ত নির্দেশিকা ছিল না। সমস্যার সমাধানে চালু করা হয় ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট, ১৮৫৭। পরীক্ষার নিয়ম তৈরির জন্য সনদকে পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করা হয়।
7
14
নিয়ম অনুযায়ী, ভাষাগত বিষয়ে মোট নম্বরের এক তৃতীয়াংশ অর্থাৎ, ৩৩ শতাংশ এবং অঙ্কে এক চতুর্থাংশ অর্থাৎ, ২৫ শতাংশ। একটি বিষয়েও ফেল করা যাবে না।
8
14
১৮৫৭ সালের মার্চ মাসে, যখন দেশে বিদ্রোহ দানা বাঁধছিল, ছাত্রছাত্রীরা কলকাতার সেনেট হাউসের ভিতরে ভারতের প্রথম ম্যাট্রিক পরীক্ষায় বসেছিল। বিষয়গুলির মধ্যে ছিল ভাষা, ইতিহাস ও ভূগোল, গণিত, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান।
9
14
নিয়মকানুন ছিল কঠোর। কোনও সামগ্রিক গড় ছিল না, ছাত্রছাত্রীদের প্রতিটি বিষয়েই পাশ করতে হতো। লক্ষণীয় যে, খুব অল্প সংখ্যক ছাত্রছাত্রীই প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছিল।
10
14
ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিষয়টি সহজ ছিল না। বাংলা, পার্সি এবং উর্দু ভাষায় পাসের হার কমতে থাকে। বই পৌঁছয় দেরিতে। প্রশ্নপত্র ছিল বেশ কঠিন। শত শত পড়ুয়া ভাষায় পাস করতে পারছিলেন না।
11
14
বোর্ড পরিস্থিতি বুঝে পদক্ষেপ করে। ১৮৬১ সালের ৫ জানুয়ারি সিন্ডিকেট অস্থায়ী ভাবে পাস নম্বর কমিয়ে দেয়। বাংলায় ২০ এবং পার্সি ও উর্দুতে ১০০ এর মধ্যে ২৫ নম্বর নির্ধারিত করা হয় পাস করার জন্য।
12
14
কিন্তু কর্তৃপক্ষ দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের খোঁজ করছিলেন। সব বিষয়ের মোট নম্বর অদ্ভুত ভগ্নাংশে আসতে শুরু করে। এরপরেই এক তৃতীয়াংশ নম্বর অর্থাৎ ৩৩ শতাংশের নিয়ম চালু করা হয়। সব পরীক্ষায় এই নিয়ম চালু করা হল।
13
14
কোনও সরকারি চিঠি, কার্যবিবরণী বা নথিপত্রে ব্রিটিশদের নির্ধারিত ৬৫ শতাংশের নম্বরের মানদণ্ড অর্ধেক করার কথা কখনও উল্লেখ করা হয়নি। অনার্স এবং সিভিল সার্ভিসে ৬০-৬৫ শতাংশ নম্বর ব্যবহৃত হতো, কিন্তু সাধারণ পাসের ক্ষেত্রে? সম্পূর্ণ স্থানীয় ভাবে বিষয়টি পরিচালিত হত।
14
14
প্রথম কয়েক বছর একটু অগোছালো ভাবে কাজ চললেও, ধীরে ধীরে ৩৩ শতাংশ থিতু হয়ে যায় বিষয়টি। পড়ুয়ারাও এই নম্বর কাঠামোর সঙ্গে ধীরে ধীরে নিজেদের মানিয়ে নেয়। পাঠ্যবইয়ের ঘাটতি এবং কঠিন প্রশ্নপত্রের সময় নেওয়া বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তই এটিকে রূপ দিয়েছিল।