আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাম্প্রতিক ক্যাগ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিতে বাড়ছে স্কুলছুট পড়ুয়ার সংখ্যা। এর মধ্যে ছাত্রদের পাশপাশি রয়েছে ছাত্রীরাও। তাদের স্কুলমুখী করতে এ বার উদ্যোগী রাজ্য সরকার। রাজ্যে নারীশিক্ষার প্রসারের জন্য গত সরকারের আমলে চালু প্রকল্পকেই নতুন রূপে নিয়ে এসেছে বিজেপি সরকার।
2
8
গত ২৯ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী 'কন্যাশ্রী' প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করেন। পরিবর্তিত নাম 'কন্যারত্ন'। আগামী ১৪ অগস্ট রাজ্য জুড়ে পালিত হবে 'কন্যারত্ন' দিবস। কোনও যোগ্য পড়ুয়াই যাতে আর্থিক সঙ্কটের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সমস্যার সম্মুখীন না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত।
3
8
তবে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রকল্পের সবরকম আর্থিক সুবিধা অপরিবর্তিতই রাখা হবে। উচ্চ প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত ছাত্রীরা এই আর্থিক সুবিধা পাবেন। মূলত তিনটি ধাপে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। কে-১, কে-২ এবং কে-৩ এই তিনটি ধাপে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।
4
8
কে-১ ধাপের অন্তর্ভুক্ত ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি মেয়েরা। অর্থাৎ যারা অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে পাঠরত। পড়ুয়াদের প্রতি বছর ১০০০ টাকা বার্ষিক বৃত্তি দেওয়া হবে।
কে-২ ধাপের অন্তর্ভুক্ত হবেন ১৮ বছর বয়সি মহিলারা। যাঁরা উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ এবং একইসঙ্গে অবিবাহিত। তাঁদের বার্ষিক ২৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
কে-৩ ধাপে যে মেধারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্য বিভাগে পাঠরত, তাঁরা আবেদন করতে পারবেন।
5
8
তবে এ ক্ষেত্রে রয়েছে কিছু বিশেষ শর্ত। আবেদনকারী ছাত্রীদের রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা থাকতে হবে। পাশাপাশি, কোনও স্বীকৃত স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠরত হতে হবে। রয়েছে পারিবারিক আয়ের প্রয়োজনীয় শর্তও। মেধাবী ছাত্রীদের পরিবারের বার্ষিক আয় ১,২০,০০০ টাকার কম হতে হবে। তবে এই শর্ত প্রযোজ্য নয় যাঁরা বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন বা যাঁদের ৪০ শতাংশ প্রতিবন্ধকতাসম্পন্ন, অনাথ বা জুভেনাইল জাস্টিস হোমে বসবাসকারী।
6
8
আগ্রহীদের নিজেদের স্কুল বা কলেজ থেকে 'কন্যারত্ন' প্রকল্পের আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে হবে। আবেদনপত্র সংগ্রহের জন্য কোনও অর্থমূল্য জমা দিতে হবে না। ফর্মপূরণের ক্ষেত্রে নিজেদের সমস্ত তথ্য এবং জমা দিতে হবে।
7
8
পাশাপাশি, ফর্মে নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ডিটেলস জানাতে হবে। কারণ প্রকল্পের টাকা পড়ুয়াদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি-র মাধ্যমে সরাসরি পাঠানো হবে।
8
8
ফর্মপূরণ করে তা স্কুল কলেজের প্রধানের কাছে জমা দিতে হবে। তাঁরা একটি অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ এবং ফর্ম নম্বর দেবেন পড়ুয়াদের। ওই প্রাপ্ত ফর্ম নম্বরের ভিত্তিতেই প্রকল্পের নিজস্ব পোর্টালে গিয়ে তাঁদের আবেদনের স্টেটাস সম্পর্কে জানতে পারবেন।