আজকাল ওয়েবডেস্ক: কান্নারও বোধহয় আলাদা আলাদা রং থাকে। কোনও কান্না স্বপ্নপূরণের, কোনও কান্না আবার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার।  
মিশরের বিরুদ্ধে পেনাল্টি নষ্ট করে মেসি ভেবেছিলেন, তিনি হয়তো নিজের দলের কাঁধে বাড়িয়ে দিয়েছেন চাপের পাহাড়। সেই অপরাধবোধ থেকে বেরিয়ে আসার পরে যখন মিশরকে হারিয়ে নীল-সাদা জার্সিধারীরা পরের পর্বে পৌঁছেছিল, তখন তাঁর চোখের জল ছিল আনন্দের, বেঁচে থাকার, লড়াই জিতে ফেরার। সেই কান্নায় ছিল মুক্তির আলো।

কিন্তু মেটলাইফের ফাইনালটা ছিল অন্যরকম। গল্পটা বদলে গেল। এবার বাঁধ ভাঙল এক রাজাধিরাজের অসহায়তায়। ফাইনালের শেষ বাঁশি বেজে যাওয়ার পর মেসির চোখের জল ছিল অনেককিছু হারানোর কান্না। 

এই মেটলাইফ যেন মেসির আবেগের এক অদ্ভুত ঠিকানা হয়ে উঠেছে। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার সেই পরাজয়ের পরও এই মাঠে কেঁদেছিলেন তিনি। সময় বদলেছে, প্রতিপক্ষ বদলেছে, কিন্তু মেসির চোখের জলের গল্প যেন একই থেকে গিয়েছে।

দিয়েগো মারাদোনার ছায়াকে অতিক্রম করে নিজের ছায়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে পারত। সেই সুযোগও ছিল। ইতিহাস কখনও কখনও কাউকে সম্পূর্ণ হতে দেয় না। মেসিও টানা দু'বার বিশ্বজয়ের খেতাব জিততে পারলেন না। 

ফাইনালের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে ছন্দহীন দেখাল। যে দল নক আউটে অসম্ভবকে সম্ভব করে বারবার ফিরে এসেছিল, যে দলকে দেখে মনে হয়েছিল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা মৃত্যুর মুখ থেকেও জয় ছিনিয়ে আনতে পারে, সেই দলই এদিন অচেনা হয়ে গেল। 

আর মেসি? যিনি একসময় স্পেনের মাঠে ফুটবলের নতুন ভাষা লিখেছিলেন, সেই বুলফাইটিংয়ের দেশের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মেসি দেখলেন নিজের স্বপ্নের দুর্গ ভেঙে পড়তে।

ম্যাচের বেশিরভাগ সময় তিনি ছিলেন নীরব দর্শক।  অতিরিক্ত সময়ে যখন ফেরান তোরেসের গোলে পিছিয়ে আর্জেন্টিনা, তখন কয়েক মুহূর্তের জন্য জেগে উঠেছিলেন সেই পুরনো মেসি। চোখে জ্বলে উঠেছিল শেষ লড়াইয়ের আগুন। কিন্তু ততক্ষণে গল্পের শেষ পাতা লেখা হয়ে গিয়েছে।

সব রূপকথার শেষ অধ্যায় সুখের হয় না। কখনও কখনও তূণে সমস্ত অস্ত্র থাকলেও  নায়ক পরাজিত হন। ফেরান তোরেসের  গোল কেবল ফাইনালের ফল বদলায়নি, তা ভেঙে দিয়েছে কোটি মানুষের বিশ্বাস। মানুষ মনে করত, মেসি থাকলে শেষ মুহূর্তে অলৌকিক কিছু ঘটবেই। সে তো আর দেখা গেল না। 

মেসির কান্না পরাজয়ের চেয়েও হয়তো বড় কিছু। মেসি কাঁদলেন। আর সেই কান্নায় কেঁদে উঠল পৃথিবী। কখনও কখনও রাজাদেরও মাথা নত করতে হয়। আজ সেরকমই এক দিন ছিল।  

রাজত্ব হাতছাড়া হল, মুকুট উঠল অন্যের মাথায়। মেটলাইফ আবারও মেসিকে কাঁদতে দেখল। আমরা বুঝলাম মেসিও রক্তমাংসেরই মানুষ।