ভারত ও পারস্যের (আধুনিক ইরান) মধ্যে বাণিজ্যের ইতিহাস বহু প্রাচীন। আরব সাগরের সামুদ্রিক পথ এবং মধ্য এশিয়ার স্থলপথ উভয় রুটেই বাণিজ্য চলত। ব্যবসায়ীরা মশলা, বস্ত্র, মুক্তো এবং মূল্যবান ধাতু বিনিময় করতেন। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছিল। মোঘল যুগে বহু বণিক ও পর্যটক আর কখনও ইরানে ফেরেননি।
2
7
বিহারের কিষাণগঞ্জে ইরানিয়দের একটি ছোট ও স্বতন্ত্র সম্প্রদায় বাস করে। এরাই কিষাণগঞ্জে ‘লিটল ইরান’ নামে পরিচিত একটি এলাকা গড়ে তোলেন। তাঁরা যে ছোট ছোট বসতিতে বসবাস করেন, সেগুলিকে ইরানি বস্তি বলা হয়।
3
7
কিষাণগঞ্জের ইরানি সম্প্রদায় তাদের পারস্য বংশোদ্ভূত হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের ভারতীয় বলে মনে করে। ভারতীয় ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে।
4
7
আজাদ ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের মতে, এই সম্প্রদায়টি ১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে বিহারের পূর্ণিয়া থেকে এসে কিষাণগঞ্জে বসতি স্থাপন করে। শুরুতে তারা খাফিলায় (কাফেলা) ঘুরে এবং খেমা (তাঁবু) খাটিয়ে যাযাবর জীবনযাপন করত। বর্তমানে তারা রত্নপাথরের ব্যবসাতেও সক্রিয়। কলকাতা ও জয়পুরের মতো শহর থেকে পাথর সংগ্রহ করে।
5
7
সংখ্যালঘু হওয়া সত্ত্বেও, সম্প্রদায়টি স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি সংরক্ষণ করেছে। তারা হিন্দি ও উর্দুর সঙ্গে মিশ্রিত একটি ফার্সি উপভাষায় কথা বলে।
6
7
তাদের রন্ধনশৈলীতে বিহারী ও পারস্য ঐতিহ্যের সংমিশ্রণ দেখা যায়। খাবারে মাংসের প্রাধান্য থাকে। প্রায়শই পারস্য রন্ধনরীতি ব্যবহার করে খাবার প্রস্তুত করা হয় এবং সুগন্ধি মশলার ব্যবহার করা হয়।
7
7
গত বছর কিষাণগঞ্জের ইরানি সম্প্রদায়ের ৩০ জনকে বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর (এসআইআর) অধীনে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য সরকারি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।