আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের গোলটা হয়েই গিয়েছিল। স্টেডিয়ামের আলো ঝলমলে রাতে বল জালে জড়াতেই তিনি ভেবেছিলেন, আজ তিনিই নায়ক। কালো চশমা পরে মাঠের ভিতরেই উদযাপন শুরু হয়ে গিয়েছিল। ইরানের রিজার্ভ বেঞ্চ আনন্দে আত্মহারা। যেন এক মুহূর্তেই ভাগ্য বদলে গিয়েছে।

তারপর ভিএআর। আনন্দ থেকে এক মুহূর্তে হতাশা। ধরা পড়ল অফসাইড। গোল বাতিল। ধারাভাষ্যকাররা বললেন, ইরান ডিনায়েড। খেলার শেষ বাঁশির পরে ইরান ১ মিশর ১। 
মিশরের কোচ এসে ইরানের কোচকে অভিনন্দন জানালেন। কিন্তু ইরান কোচের মুখ থমথমে। কারণ তিনি জানেন, এখন আর সবকিছু নিজের হাতে নেই। রবিবার পর্যন্ত অপেক্ষা। আরও কত পারমুটেশন-কম্বিনেশন। কত হিসেব-নিকেশ, কত অন্য ম্যাচের ফল, সব মিলিয়ে নির্ধারিত হবে বিশ্বকাপে ইরানের ভাগ্য।

ম্যাচ শেষ হতেই আর রাখঢাক না রেখে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ইরানের অধিনায়ক মেহদি তারেমি। 
বিশ্বকাপে নানা ভোগান্তির জন্য সরাসরি ফিফা ও অন্যতম আয়োজক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করলেন তিনি। মেহেদি তারেমির দাবি, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই ইরানের সঙ্গে ‘অন্যায়’ করা হয়েছে।

ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার জন্য এবারের বিশ্বকাপের শুরু থেকেই মাঠের বাইরের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে ইরানকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের ক্যাম্প হওয়ার কথা থাকলেও তা সরিয়ে নেওয়া হয় মেক্সিকোর তিজুয়ানায়। 

 প্রতিটি ম্যাচের দু' দিন আগে মার্কিন মুলুকে গিয়ে খেলবে ইরান। ম্যাচ শেষে ফিরে আসবে মেক্সিকোয়।   পরে ফিফা জানিয়ে দেয় ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আবার ফিরে আসতে হবে তাদের। 

ব্যাপক সমালোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলে জানানো হয়, ম্যাচের আগের দিন যেতে পারবে ইরান, কিন্তু ম্যাচ শেষেই আবার ফিরে যেতে হবে। এ ছাড়া দলের বেশ কয়েকজন স্টাফ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাও পাননি।

এই প্রতিকূলতার মধ্যেই মিশরের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে নামে ইরান। জয় পেলেই ‘রাউন্ড অব ৩২’ নিশ্চিত হয়ে যেত তাদের। ম্যাচে শেষ দিকে ২-১ গোলে এগিয়েও গিয়েছিল তারা, কিন্তু অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়ে যায়। মেহেদি তারেমি বলেন,
''এটা একটি জঘন্য বিশ্বকাপ। ফিফার উচিত ছিল সব সমস্যার সমাধান করা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে শুরু থেকেই তারা সেটি করতে পারেনি। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের পর ইনফান্তিনো আমাদের ড্রেসিংরুমে এসে বলেছিলেন, এ তো কেবল শুরু। অথচ গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পথে, আর আমাদের লজিস্টিক দলের কোনও সদস্যই এখানে নেই। কারণ তারা ভিসা পাননি।''

তিজুয়ানা থেকে বারবার যাতায়াতের বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইরান অধিনায়ক। তিনি বলেন,
''আমরা তিজুয়ানার মানুষকে ভালবাসি, মেক্সিকোকেও ভালবাসি। তাঁরা খুবই আন্তরিক। কিন্তু একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে এমন একটি বড় টুর্নামেন্টে এ ধরনের পরিস্থিতি মেনে নেওয়া কঠিন।'' 

ইরানের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারেমি। তিনি বলেন,''অত্যন্ত অন্যায়। আমাদের কাছে এটি চরম অবিচার। ফিফার কাছে কি এটি ন্যায়সঙ্গত বলে মনে হয়? যদি তারা চায় আমরা টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে যাই, তাহলে সেটাই হোক।''