আজকাল ওয়েবডেস্ক: টানা দু'বার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন শেষ লিওনেল মেসির। রবিবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে খেতাব জেতে স্পেন।
৩৯-এর লিওনেল মেসি গোটা টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ৮টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করেন। তবে ফাইনালে স্পেনের শক্ত রক্ষণভাগের বিরুদ্ধে নিজের সেরাটা দিতে পারেননি এলএম ১০।
ফাইনালের আগে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের (গোল্ডেন বল) দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন মেসি। পাশাপাশি সর্বোচ্চ গোলদাতার (গোল্ডেন বুট) লড়াইয়েও ছিলেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে।
তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে এমবাপে মোট ১০ গোল নিয়ে জিতে নেন গোল্ডেন বুট। অন্যদিকে গোল্ডেন বলের পুরস্কার ওঠে স্পেনের অধিনায়ক রদ্রির হাতে। মেসিকে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম। টিওয়াইসি স্পোর্টসের সাংবাদিক আন্তোনিও সেরপা বলেন, ''রদ্রিকে গোল্ডেন বল দেওয়া প্রায় অপমানের শামিল। বিষয়টি সংবেদনশীলতার সম্পূর্ণ অভাবের পরিচয় দেয়। রদ্রি খারাপ খেলোয়াড় নন, কিন্তু এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা ছিলেন লিওনেল মেসি।”
তিনি আরও বলেন, “৩৯ বছর বয়সে মেসি নিজের নৈপুণ্য, গোল এবং আবেগ দিয়ে পুরো বিশ্বকে মুগ্ধ করেছেন। যদি শুধু চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়দের পুরস্কার দেওয়াই মানদণ্ড হয়, তাহলে মনে রাখতে হবে ফুটবল জেতানো হয় গোল দিয়ে, শুধু পাস দিয়ে নয়।”
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের দাবি, পুরো টুর্নামেন্টে রদ্রি কোনও গোল বা অ্যাসিস্ট করতে পারেননি। অন্যদিকে ২০২২ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়ে গোল্ডেন বল জিতেছিলেন মেসি।
এদিকে এমবাপের গোল্ডেন বুট নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোল বিবেচনায় তিনি সুবিধা পেয়েছেন। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়ারার বলেন, “মেসি যেখানে ফাইনালে স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলেছেন, সেখানে এমবাপে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দু'টি গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন।”
একই মত প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক ওয়েন রুনি। তাঁর মতে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোল এই পুরস্কারের হিসাবে ধরা উচিত নয় এবং এতে মেসির প্রতি অবিচার হয়েছে।
এদিকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন এমবাপে। তাঁর বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা এখন ২২, যেখানে মেসির গোল ২১টি।
ফাইনালে পরাজয়ের পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মেসি। ম্যাচ শেষে তাঁকে চোখের জল ফেলতে দেখা যায়। ফলে অনেকের ধারণা, স্পেনের বিরুদ্ধে এই ফাইনালই হয়তো ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টাইন মহাতারকার শেষ ম্যাচ।
















