স্পেন ৪ (ওয়াখাবাল ২, ইয়ামাল, হাসান আত্মঘাতী)

সৌদি আরব ০

আজকাল ওয়েবডেস্ক: কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে গোটা ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল সৌদি আরব। পরে গিয়ে অবশ্য বিশ্বকাপ জিতেছিল সেই আর্জেন্টিনাই। এদিন স্পেনের বিরুদ্ধে সেরকম পারফরম্যান্স হল না এশীয় দেশের।

অন্যদিকে, কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র-এর পর কথা তো কম হয়নি স্পেনকে নিয়ে। ডে লা ফন্তের ছেলেরা এদিন তেতে ফুঁড়ে নেমেছিলেন আটলান্টায়। সেই ছাপ দেখা গেল গোটা দলের খেলাতেই। স্প্যানিশ আর্মাডার গোলাবারুদে ছারখার হয়ে গেল সৌদি আরব।

গত ম্যাচের গোলের হিসাবটাও মনে হয় এদিন একসঙ্গে মিটিয়ে নিতে চেয়েছিল স্পেন। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই সৌদি আরবের গোল লক্ষ্য করে শুরু হয় স্প্যানিশ আর্মাডার আক্রমণ।

দু’মিনিটও হয়নি বাঁদিক থেকে কাট ইন করে লং রেঞ্জার রাখেন অ্যালেক্স বায়েনা। গত ম্যাচে ৯০ মিনিটে গোল আসেনি। এদিন ১০ মিনিটে ডেডলক ভেঙে দিলেন লামিন ইয়ামাল।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে পেলের পরেই সবথেকে কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে ইয়ামাল বিশ্বকাপে গোল করলেন। ইয়ামালের বয়স ১৮ বছর ৩৪৩ দিন। তারপরেই তৃতীয় স্থানে রয়েছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন তারকা নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেছিলেন ১৪ বছর ৩৫৭ দিনে। 

এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করে ফেললেন লামিন ইয়ামাল। বাঁ দিক থেকে মিকেল ওয়াখাবালের মাইনাস বক্সের মধ্যে পৌঁছলে, ইয়ামাল সঠিক সময়ে জায়গায় পৌঁছে বল জালে পাঠান।

বিশ্বকাপে ২৯৪ মিনিট পর গোলের খরা কাটাল স্পেন। দ্বিতীয় গোল পেতেও বেশি সময় নেয়নি স্পেন। কর্নার থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে ড্যানি অলমোর শট প্রথমে আটকায় সৌদি রক্ষণ।

পরে বল ফের ভেসে এলে অ্যামেরিক লাপোর্তে হেড করে নামিয়ে দেন, আর সেই বল থেকে মিকেল ওয়াখাবাল সুযোগ হাতছাড়া করেননি। গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন তিনি।

এরপর মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই তৃতীয় গোল। একেবারে ছবির মতো। ডান দিক থেকে পেদ্রো পোরোর ক্রস, বক্সে উঠে আসা মার্ক কুকুরেলার হেড, ভাসানো বলে ফের ড্যানি অলমোর হেড থেকে ফার পোস্টে দাঁড়ানো ওয়াখাবাল ট্যাপ ইন করে ৩-০ করেন।

প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিকের সুযোগ এসেছিল ওইয়ারসাবালের সামনে। সৌদি কিপারের ভুলে বল সোজা গিয়ে পড়ে ওয়াখাবালের পায়ে। সেখান থেকে বাঁ পায়ের ট্রিভেলা শট নিলেও বল ক্রসবারে লেগে বেরিয়া যায়।

ফন্তে হয়তো বুঝে গিয়েছিলেন তাঁর কাজ হয়ে গিয়েছে অনেকটাই। সে কারণে ইয়ামালকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাননি। বিরতিতে লামিন ইয়ামাল এবং মিকেল ওয়াখাবালকে বসিয়ে তিনি নামান ফেরান তোরেস জেরেমি পিনোকে।

দ্বিতীয়ার্ধেও ছবিটা একই রকম। ৪৯ মিনিটে সৌদির আত্মঘাতী গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০। বাঁদিক থেকে অ্যালেক্স বায়েনার কর্নার ফ্লিক করেন ফেরান তোরেস। মার্ক কুকুরেলার শট সৌদি কিপার সেভ দিলেও হাসান আলতামবক্তির পায়ে লেগে বল গোলে ঢুকে যায়।

খেলার শেষ দশ মিনিটে বেশ কয়েকবার স্পেনের বক্সে ঢুকে, লং রেঞ্জারে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেছিল সৌদি আরব। কিন্তু স্প্যানিশ ডিফেন্স আর উনাই সিমনের গ্লাভস পেরোতে পারেনি তারা।

খেলার অতিরিক্ত সময়ে ৫-০ করে দিয়েছিলেন পরিবর্ত হিসেবে নামা ফেরান তোরেস। কিন্তু পরে ভার চেকে দেখা যায় তোরেস অফসাইডে ছিলেন। গ্রুপ পর্বে স্পেনের শেষ ম্যাচ শক্তিশালী উরুগুয়ের সঙ্গে। তার আগে এদিন কাজ অনেকটাই এগিয়ে রাখলেন ফন্তের ছেলেরা।