আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রায় তিন দশক পর ফিফা বিশ্বকাপে ফিরেছে স্কটল্যান্ড। আর দেশের এই প্রত্যাবর্তন শুধু ফুটবল উন্মাদনাই নয়, আমেরিকার বস্টন শহরে তৈরি করেছে এক অদ্ভুত ‘বিয়ার সঙ্কট’।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মজা করে এমনটাই বলছেন। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রেখেছে স্কটল্যান্ড। ইউরোপের দেশটির হাজার হাজার সমর্থক, যাঁদের সম্মিলিতভাবে ‘টার্টান আর্মি’ বলা হয়, হাজির হয়েছেন ম্যাসাচুসেটসের বস্টনে।
প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ড হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়েছে। মাঠে এবং রাস্তায় উচ্ছ্বাস তো হয়েছেই। পাশাপাশি, ম্যাচের পর সমর্থকদের উদযাপনে সমস্যায় পড়ে বস্টনের একাধিক বার ও পাব।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, স্কটিশ সমর্থকদের বিয়ারের চাহিদা এতটাই বেশি যে অনেক পাব বা বারে বিয়ার প্রায় শেষ ইতিমধ্যেই। পরিস্থিতি সামলাতে কয়েকটি পানশালাকে জরুরি ভিত্তিতে নতুন করে বিয়ার আনতে হয়।
একটি জনপ্রিয় ট্যাপরুমে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে, সময়মতো বিয়ারের সরবরাহ না এলে ক্যান বিয়ার বিক্রি করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। বস্টনের স্যাম অ্যাডামস ট্যাপ রুমের জেনারেল ম্যানেজার বিলি ডিকেন বলেন, ‘৩০ বছরের বেশি সময় ধরে এই ব্যবসায় আছি, কিন্তু এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখিনি।’
স্কটল্যান্ডের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে সমর্থকদের ঢল দেখে রীতিমত অবাক হয়ে যান অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরাও। বস্টন বিয়ার কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, স্কটিশ সমর্থকরা মাত্র চার দিনে যতটা বস্টন ল্যাগার পান করেছেন, তা আমেরিকায় ৪ জুলাইয়ের মত ছুটির সময়ের বিক্রিরও চার গুণ বেশি।
বিয়ারের সরবরাহ ধরে রাখতে একাধিক জরুরি ডেলিভারি করতে হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ডিকেন বলেন, ‘কোনওরকমে সামলেছি। জরুরি সরবরাহ না এলে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে যেত।’
বস্টন বিয়ার কোম্পানির তরফে জানানো হয়েছে, চার দিনে চার হাজারের বেশি পিন্ট বস্টন ল্যাগার বিক্রি হয়েছে। প্রায় ৯০টি খালি কেগ জমেছে। একাধিকবার জরুরি ভিত্তিতে নতুন সরবরাহ আনতে হয়েছে।
শুধু একটি জায়গাতেই নয়, শহরের বিভিন্ন বারেও একই ছবি দেখা গিয়েছে। অন্য একটি বারের প্রতিনিধি পল মরিস বলেন, ‘প্রায় সবকিছুই শেষ হয়ে গিয়েছিল। জনপ্রিয় প্রায় সব পানীয়ই ফুরিয়ে গিয়েছিল।’
তবে বিয়ারের সঙ্কট তৈরি করলেও বস্টনের মানুষের মন জয় করেছেন স্কটিশ সমর্থকরা। শহরের মেয়র মিশেল উ সমর্থকদের উচ্ছ্বাস এবং স্থানীয় ব্যবসায় তাঁদের অবদানের প্রশংসা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরাও বিশ্বের অন্যতম উন্মাদ ও আবেগপ্রবণ ক্রীড়াপ্রেমী শহর। তাই একই রকম আবেগ ও নিষ্ঠা দেখলে তার প্রতি সম্মান তৈরি হয়।’ ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে স্কটিশ সমর্থকদের উদযাপন ছড়িয়ে পড়েছে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে।
ব্যাগপাইপ বাজিয়ে তাঁরা ফ্যান মার্চ করেন এবং পরে বস্টন রেড সক্সের ঘরের মাঠ ফ্যানপার্কে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানেও অংশ নেন। প্রায় ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা স্কটল্যান্ডের জন্য এটি যেমন বড় উৎসব, তেমনই বস্টনের জন্যও এটা এক নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা।















