আজকাল ওয়েবডেস্ক: পায়ের পেশির চোট এখনও পুরোপুরি না সারায় বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-এর ম্যাচে হাইতির বিরুদ্ধে ব্রাজিল দলের সঙ্গে থাকছেন না নেইমার। শুক্রবারের ম্যাচের আগে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (CBF) জানিয়েছে, দলের সবচেয়ে বড় তারকা ফুটবলারকে নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না তারা।
জানানো হয়েছে, নেইমার নিউ জার্সিতেই থেকে যাবেন এবং সেখানে ব্রাজিলের অনুশীলন শিবিরে উন্নতমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর ফিট হওয়ার শেষ পর্যায়ের কাজ চালিয়ে যাবেন। তিনি দ্য রিজ হোটেল এবং কলম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং সেন্টারে রিহ্যাব প্রক্রিয়া চালাবেন বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ মে স্যান্টোসের হয়ে করিটিবার বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে হারের ম্যাচে চোট পান নেইমার। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একাধিকবার গুরুত্বপূর্ণ চোটের কারণে মাঠে উপস্থিতি কমেছে নেইমারের।
এবারও সেই চোটের ধাক্কায় বিশ্বকাপের শুরুতে দলের বাইরে থাকতে হচ্ছে ৩৪ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ডকে। তবে নেইমারের রিহ্যাব প্রক্রিয়ায় এই সপ্তাহে অগ্রগতি দেখা গিয়েছে।
চোট পাওয়ার পর প্রথমবার মাঠে অনুশীলনে নেমেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। শুরুতে আলাদা করে ওয়ার্ম আপ করার পর ব্রাজিল সতীর্থদের সঙ্গে কিছু ড্রিলেও অংশ নেন। পরে দলের মেডিক্যাল স্টাফদের নজরদারিতে সাইডলাইনে ব্যক্তিগত অনুশীলন চালিয়ে যান তিনি।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাজিল দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পর প্রথমবার মাঠে অনুশীলন করেছিলেন নেইমার। তবে তখনও তিনি দলের মূল অনুশীলন গ্রুপের বাইরে ছিলেন।
এতদিন পর্যন্ত ব্রাজিলের ট্রেনিং বেসে ফিজিওথেরাপিস্ট ও ফিটনেস কোচদের সঙ্গে মূলত ইনডোর রিহ্যাবিলিটেশন সেশনেই সীমাবদ্ধ ছিলেন প্রাক্তন বার্সেলোনা ও পিএসজি তারকা।
ব্রাজিলের লক্ষ্য, নেইমারকে পুরোপুরি ফিট অবস্থায় ফেরানো। নক আউটে নামার আগে তাঁর চোট থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে দল।
ক্রীড়া বিষয়ক এক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের পরবর্তী দুটি ম্যাচ রয়েছে ২০ জুন হাইতির বিরুদ্ধে এবং ২৫ জুন স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে। দুটো ম্যাচের কোনওটিতেই খেলার মতো অবস্থায় থাকবেন না নেইমার। ফলে গ্রুপ পর্বের পুরোটা সময়ই তাঁকে মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে।
আমেরিকায় দলের সঙ্গে যাওয়া চিকিৎসকরা নতুন করে নেইমারের মেডিক্যাল পরীক্ষা নিয়েছেন। তবে এখনও পরীক্ষার ফল আসেনি। ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনও জানায়নি সেই রেজাল্ট।
এদিকে সোমবার অনুশীলনে ফেরার কথা থাকলেও মাঠে না গিয়ে হাসপাতালে পরীক্ষা করাতে যান নেইমার। এতে তাঁর চোট নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
ব্রাজিলের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, দলের চিকিৎসকরা নকআউট পর্বের আগে নেইমারকে পুরোপুরি ফিট করে তোলার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছেন।
প্রথম ম্যাচে নেইমারকে ছাড়া ব্রাজিলের আক্রমণে সেই পরিচিত ধার দেখা যায়নি, খেলাও ছিল না খুব একটা দৃষ্টিনন্দন। মরক্কোর বিরুদ্ধে পয়েন্ট হারানোর পর গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে দলকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে নেইমার ছাড়াই। আর ব্রাজিল সমর্থকদের অপেক্ষা করতে হবে, নকআউট পর্বে আদৌ দলের সবচেয়ে বড় তারকাকে মাঠে দেখা যাবে কি না, সেই উত্তর পাওয়ার জন্য।















