আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ড্র করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে এখনও টিকে রয়েছে ইরান। রবিবার সোফাই স্টেডিয়ামে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে ইরান।

তবে ম্যাচের শেষে ড্রেসিংরুমে হাতে লেখা একটি চিঠি রেখে গিয়েছে ইরান ফুটবল দল। সেই চিঠিতে লস অ্যাঞ্জেলেসের আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ফুটবলাররা। পাশাপাশি ‘মর্যাদা নিয়ে’ শহর ছাড়ার কথা জানান।

ম্যাচের পর ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের তরফে এই চিঠিটা প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে একদিকে যেমন দলের গর্ব ও লড়াইয়ের কথা উঠে এসেছে, তেমনই যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতির মধ্যেও শান্তির আহ্বান জানানো হয়েছে।

গ্রুপ ‘জি’-তে শেষ ম্যাচে সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে ইরান। সেই ম্যাচে মো.সালাহর দলকে হারাতে পারলে ইতিহাস গড়ে নকআউট পর্বে পৌঁছতে পারে তারা। ইরানের ফুটবলারদের তরফে চিঠিতে লেখা হয়, ‘হাজার বছরের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের আধুনিক ইরান। ইরানের আত্মা এখনও জীবন্ত ও অটুট।’

এরপর লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দাদের উদ্দেশে লেখা হয়, ‘আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ। আমরা গর্ব নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছিলাম, সম্মানের সঙ্গে খেলেছি এবং মর্যাদা নিয়েই বিদায় নিচ্ছি।’

গ্রুপ লিগের দুটি ম্যাচে ৯০ মিনিট ধরে সমর্থন জানানো ইরানের সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ফুটবলাররা। বার্তায় বলা হয়, ‘এই ১৮০ মিনিটে যাঁরা হৃদয়, কণ্ঠস্বর এবং আত্মা দিয়ে ইরানকে সমর্থন করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ।’

চিঠির শেষে শান্তির বার্তাও দেওয়া হয়। সেখানে লেখা ছিল, ‘সব দেশের মধ্যে শান্তি, পারস্পরিক সম্মান ও বন্ধুত্ব বজায় থাকুক।’ এই চিঠির সঙ্গে ছিল #168 এবং #Minab হ্যাশট্যাগ।

সম্প্রতি, মার্কিন-ইরান সংঘাতের সময় ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে বোমা হামলার ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত হিসেবেই এই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য সামনে এলেও ঘটনাটি যুদ্ধের অন্যতম মর্মান্তিক অধ্যায়।

লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজেদের দুটি গ্রুপ ম্যাচ খেলেছে ইরান। মেক্সিকোর তিজুয়ানায় থাকা নিজেদের বেস ক্যাম্প থাকলেও প্রতিবারই সীমান্ত পেরিয়ে ম্যাচ খেলতে এসেছে দলটি। প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ ড্র করার পর রবিবার বেলজিয়ামের বিরুদ্ধেও গোলশূন্য ড্র করেছে ইরান।

ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ম্যাচ শেষের আধঘণ্টার মধ্যে আমেরিকা ছাড়তে হবে ইরানকে। ইরানি সম্প্রদায়ের বহু মানুষ লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকেন।

ফলে দুই ম্যাচেই গ্যালারির পরিবেশ অনেকটা ‘ঘরের মাঠের’ মতো ছিল ইরানের জন্য। যদিও সমর্থকদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজনের ছবিও স্পষ্ট ছিল। কেউ ইসলামিক রিপাবলিকের পতাকা বহন করেছেন, আবার কেউ ১৯৭৯ সালের বিপ্লব-পূর্ব ‘লায়ন অ্যান্ড সান’ পতাকা প্রদর্শন করেছেন। যা বর্তমানে বিরোধী গোষ্ঠীর প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বিশ্বকাপ চলাকালীন ইরানের যাতায়াত ব্যবস্থাও আলোচনায় রয়েছে। বিধিনিষেধের কারণে ৪৮ ঘণ্টার বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি নেই ইরানের। দলের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সাপোর্ট স্টাফ ভিসা সমস্যার মুখে পড়েছেন।

এমনকী উইঙ্গার মেহদি তোরাবিকেও নিউজিল্যান্ড ম্যাচের পর তাঁর সিঙ্গল-এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তিজুয়ানায় মার্কিন কনস্যুলেট থেকে নতুন ভিসা নিতে হয়।

এই পরিস্থিতি নিয়ে একাধিকবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কোচ আমির গালেনোই। তাঁর দাবি, বিশ্বকাপের অন্য কোনও দলকে এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়নি।

বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর গালেনোই বলেন, ‘পুরো বিশ্বকাপে আমরাই সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত দল।’ একইসঙ্গে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ফুটবলারদের লড়াইয়ের প্রশংসা করেন তিনি। আপাতত সব নজর সিয়াটলে মিশরের বিরুদ্ধে শেষ গ্রুপ ম্যাচে। সেই ম্যাচে ভালো ফল করতে পারলেই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে ইরানের কাছে।