আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজ নিজের আন্তর্জাতিক কেরিয়ার নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। ৩৩ বছর বয়সী এই গোলকিপার আর্জেন্টিনার হয়ে ৬৭-তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন। ২০২২ সালের বিশ্বকাপের খেতাব ধরে রাখার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় লিওনেল স্কালোনির দলের।
আর্জেন্টিনার পুরো বিশ্বকাপ অভিযানে প্রতিটি মিনিট মাঠে ছিলেন এমি মার্টিনেজ। এবারের আসরে তিনি দু'টি ম্যাচে ক্লিন শিটও রেখেছেন। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ জয়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সেই আসরে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য তিনি জিতেছিলেন গোল্ডেন গ্লাভস, যা বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার।
বিশ্বকাপ ধরে রাখতে না পারার হতাশা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন মার্টিনেজ। তিনি লিখেছেন, “আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম আমরা আবারও বিশ্বকাপ জিতব। স্বপ্ন দেখেছিলাম ট্রফিটি আবার আর্জেন্টিনায় ফিরিয়ে নিয়ে যাব এবং আরও একবার ইতিহাস গড়ব। সত্যি বলতে, এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। অনেক বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে, কীভাবে সামনে এগোব সেটাও ঠিক করতে হবে। আর যদি সরে দাঁড়ানোর সময় এসে থাকে, সেটাও ভাবতে হবে। আমি দুঃখিত। নিজের দেশ ও সতীর্থদের সাহায্য করতে আমি সত্যিই সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।”
২০২৩ ও ২০২৪ সালে ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে বিশ্বের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার ইয়াসিন ট্রফি জিতেছিলেন মার্টিনেজ। ২০২০ সালে আর্সেনাল থেকে অ্যাস্টন ভিলায় যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি ক্লাবটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন। গত মে মাসে ভিলার ইউরোপা লিগ জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।
অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে মার্টিনেজের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত। তবে চলতি গ্রীষ্মে ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। যদিও এখনও পর্যন্ত জুভেন্টাস তাঁকে সরকারি কোনও প্রস্তাব দেয়নি।
আর্জেন্টিনা দলের ড্রেসিংরুমে মার্টিনেজ এখন একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। লিওনেল মেসি, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নিকোলাস ওতামেন্দির মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে তিনিও দলের নেতৃত্বের অংশ। মেসি যদি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেন, তাহলে মার্টিনেজের বিদায় আর্জেন্টিনার জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
এদিকে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের শেষে তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে এবং তিনি দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা দু'টি কোপা আমেরিকা ও একবার বিশ্বকাপ জিতেছে।
















