আজকাল ওয়েবডেস্ক: পঞ্চবাণে বিদ্ধ ইস্টবেঙ্গল। আইএসএলের শুরুতেই টানা পাঁচ হার। ৫ ম্যাচে পয়েন্টের খাতা শূন্য। যা এর আগে কখনও হয়নি। ২০২২-২৩ মরশুমে একবার টানা চার ম্যাচ হেরেছিল লাল হলুদ। গতবছর টানা তিনের বেশি হারেনি। ক্লাবের আইএসএলের ইতিহাসে এবার সেরা দল করেছে ইস্টবেঙ্গল। তারপরও সবচেয়ে খারাপ শুরু। তবে আশা ছাড়ছেন না লাল হলুদের নবাগত কোচ। এরপরও প্রত্যাবর্তনের আশা করছেন অস্কার ব্রুজো। দাবি, এখনও সুপার সিক্সের আশা শেষ হয়ে যায়নি। অস্কার বলেন, 'আমাদের এখনও প্রত্যাবর্তন করার ক্ষমতা আছে। আমাদের সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি। টপ সিক্স এখনও খোলা আছে। আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আমার বিশ্বাস, আমরা এখনও প্লে অফের যোগ্যতা অর্জন করতে পারি। দলের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে।' 

ডার্বির ভোরে শহরে পা রেখেছেন। টেকনিক্যালি এদিনের ম্যাচে তাঁর কিছুই করার ছিল না। ডাগআউটে না বসে গ্যালারিতে থাকাই শ্রেয় ছিল। কিন্তু কেন এসেই বেঞ্চে বসার সিদ্ধান্ত নিলেন? অস্কার বলেন, 'ক্লাবের সঙ্গে কয়েকদিন আগেই কথাবার্তা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। তারপর বিনোর সঙ্গে কথা বলি। ম্যাচ নিয়ে আলোচনা হয়। ইস্টবেঙ্গলের সবগুলো ম্যাচ আমি দেখেছি। মনে হয়েছিল আমি থাকলে হয়তো মানসিকভাবে সাপোর্ট পাবে প্লেয়াররা। মনে হয়েছিল দলের নতুন কিছু দরকার। ভেবেছিলাম আমার উপস্থিতিতে নতুন চিন্তাধারার সঞ্চার হবে। প্রথমদিকে আমরা ভালই খেলছিলাম। কিন্তু গোল হজম করার পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারিনি।' এদিন মোহনবাগান যে তাঁদের থেকে অনেক ভাল খেলেছে, সরাসরি মেনে নিলেন। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রতিপক্ষের সঙ্গে টক্কর দেওয়ার ক্ষমতা তাঁদের ছিল না। অস্কার বলেন, 'আমাদের দলে তীব্রতার অভাব রয়েছে। মাঝমাঠ ছন্নছাড়া। একাধিক ভুল হচ্ছে। বল ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আমি কোনও অজুহাত দিতে চাই না। তবে মোহনবাগান অনেক ভাল খেলেছে।' 

দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। এই জায়গা থেকে মানসিকভাবেও ঘুরে দাঁড়াতে হবে। তবে সেটা প্র্যাকটিসে মজার খেলার ছলে করবেন, না পেশাদার কারোর সাহায্য নেবেন সেই বিষয়ে কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন অস্কার। দু'দিন পরই আবার ম্যাচ। মঙ্গলবার ভুবনেশ্বরে ওড়িশার মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল। তার আগে হাতে বিশেষ সময় নেই। তার পরের ম্যাচ মহমেডানের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচকেই ঘুরে দাঁড়ানোর মঞ্চ হিসেবে বাছলেন কুয়াদ্রাতের উত্তরসূরি। শনিবার রাতে ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম ছাড়ার আগে ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা করতে দেখা যায় অস্কারকে। সঙ্গে ছিলেন বিনো জর্জও।