আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইএসএলে বেশ ভাল জায়গায় রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। লিগের বাকি ম্যাচগুলো এখন কার্যত ফাইনাল লাল-হলুদ ব্রিগেডের কাছে। এর মধ্যেই বড় সড় খবর লেসলি ক্লডিয়াস সরণীর ক্লাবে। সূত্রের খবর, চলতি মরশুমের শেষে ইস্টবেঙ্গল ছাড়ছেন অস্কার ব্রুজোঁ। 

লাল-হলুদের রিমোট কন্ট্রোল অস্কার হাতে তুলে নেওয়ার পরে হাল ফেরে ইস্টবেঙ্গলের। কার্লেস কুয়াদ্রাত লাল-হলুদের কফিনে পেরেক ঠুকে দিয়ে চলে গিয়েছিলেন। সেই অবস্থায় অস্কার ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ময়দানে কান পাতলেই শোনা যায়, এখনও তিনি ঘনিষ্ঠমহলে গত মরশুমের ফলাফলের জন্য হাহুতাশ করেন। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, কুয়াদ্রাত জমানায় প্রথম সাত ম্যাচ থেকে ইস্টবেঙ্গল যদি কিছু পয়েন্ট পেত, তাহলে লাল-হলুদকে এতটা হতশ্রী দেখাত না। 

যদিও অস্কার আসার পরেই ইস্টবেঙ্গল সীমিত ক্ষমতা নিয়ে লড়ে যায়। প্রতিপক্ষকে কামড় দেয়। তখনই বোঝা গিয়েছিল অস্কার ব্রুজোঁকে মরশুমের শুরু থেকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি ইস্টবেঙ্গলকে বহুদূরে পৌঁছে দিতে পারবেন। সমর্থকদের মুখেও হাসির ঝিলিক ফেরাতে পারবেন। 

?ref_src=twsrc%5Etfw">May 1, 2026

চলতি মরশুমে অস্কার শুরু থেকেই ইস্টবেঙ্গলকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। যে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে নামলেই হার ছিল দস্তুর, অস্কার জমানায় চাকা বদলায়। মোহনবাগানকে ডুরান্ড কাপে হারায় ইস্টবেঙ্গল।

সুপার কাপে সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের সঙ্গে ড্র করে হোসে মোলিনার দলকে ছিটকে দেয় ইস্টবেঙ্গল। আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে উঠে টাইব্রেকারে মোহনবাগানের কাছেই হার মানে ইস্টবেঙ্গল। সুপার কাপে এফসি গোয়ার কাছে ফাইনালে সেই টাইব্রেকারেই স্বপ্ন ভাঙে ইস্টবেঙ্গলের।

চলতি আইএসএলে প্রবল ভাবে চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। মিগুয়েল কার্ড সমস্যায় নেই, চোট আঘাতের লাল চোখে একাধিক খেলোয়াড় রিজার্ভ বেঞ্চে। তবুও অস্কারের দল কিন্তু জিতে চলেছে। ৫ মে মুম্বই সিটির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ইস্টবেঙ্গলের।

সেই ম্যাচের আগে এক্স প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া টুইটে খবর,  অস্কার আর নতুন মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের রিমোট কন্ট্রোল হাতে নেবেন না। তাঁর কাছে অন্য দেশের নামী ক্লাব থেকে ভাল প্রস্তাব রয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে। এফসি গোয়াও অস্কারকে পাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী।

উল্লেখ্য ভারতের মাটিতে অস্কারের শুরু কিন্তু গোয়াতেই। এফসি গোয়ার কোচ হিসেবে তিনি পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন। এছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ডের নামী ক্লাবগুলো অস্কারকে ইতিমধ্যেই প্রস্তাব দিয়েছে বলে খবর। কেবল ইস্টবেঙ্গলের তরফ থেকেই পরের মরশুম নিয়ে কথাবার্তা হয়নি বলেই সূত্রের খবর। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সেই খবর অনুযায়ী,ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে ক্লাবের দৃষ্টিভঙ্গি ও  লক্ষ্য, দলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের সঙ্গে এখনও নতুন মরশুমের চুক্তি নিয়ে কথাবার্তা না এগোনো অস্কার বিদায়ের সম্ভাব্য কারণ। ময়দানে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে এই পরিস্থিতিতে অস্কার নিজেও মনে করছেন তাঁর পক্ষে নতুন মরশুমে কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণেই তিনি হয়তো ইস্টবেঙ্গল ছাড়বেন। 

অস্কার জমানায় ইস্টবেঙ্গল কিন্তু গোটা দেশকে দেখিয়ে দিয়েছে তারাও প্রবল শক্তিশালী একটা দল। গত কয়েকবছরে লাল-হলুদ ব্রিগেড ক্রমশ পিছিয়েই পড়েছিল। অস্কারের হাতে পড়ে সেই ইস্টবেঙ্গল এখন সব দলের কাছেই ভীতিপ্রদ হয়ে উঠেছে। 

এতকিছুর পরেও কোচ অস্কার ও দলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের সঙ্গে নতুন বছরের চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়নি। মিগুয়েল, রশিদ, কেভিন সিবিয়েরাও চিন্তিত তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বলেই সূত্রের খবর। কোচের ইস্টবেঙ্গল ছাড়ার খবর তাঁদেরকে নাড়া দেবে, একথা  বলাই বাহুল্য। তবে আইএসএলে চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে থাকার মধ্যেই অস্কারকে নিয়ে যে খবর ছড়িয়ে পড়ল সোশ্যাল মিডিয়ায়, তা লাল-হলুদ সমর্থকদেরও চিন্তাতেই ফেলবে একথা বলে দেওয়াই যায়।