ইস্টবেঙ্গল - ৭ (আনোয়ার-২, এজেজারি-২, ক্রেসপো-পেনাল্টি, বিষ্ণু, নন্দকুমার)
মহমেডান স্পোর্টিং - ০
সম্পূর্ণা চক্রবর্তী: অবশেষে স্বস্তি। তিন ম্যাচ পরে জয়ে ফিরল ইস্টবেঙ্গল। সোমবার যুবভারতীতে মিনি ডার্বিতে মহমেডান স্পোর্টিংকে সাত গোলে উড়িয়ে দিল লাল হলুদ। ম্যাচের স্কোর ৭-০। জোড়া গোল আনোয়ার আলি এবং ইউসেফ এজেজারির। তারমধ্যে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডের দুটোই পেনাল্টি থেকে। বাকি চার গোল সল ক্রেসপো, পিভি বিষ্ণু এবং নন্দকুমারের। তারমধ্যে প্রথমজনেরও স্পট কিক থেকে। প্রথমার্ধে তিন গোল, বিরতির পর আরও চার। ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট ইস্টবেঙ্গলের। চার নম্বরে উঠে এল অস্কারের দল। রেকর্ড গোলে জয়। ২০১৫ আইএসএলে মুম্বই সিটি এফসিকে ৭-০ গোলে হারায় এফসি গোয়া। সেই রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলল ইস্টবেঙ্গল। সঙ্গে সর্বোচ্চ কর্নারের রেকর্ড।
মোহনবাগানের বিরুদ্ধে শুরুতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিল মেহরাজউদ্দিন ওয়াডুর দল। এক গোল এগিয়েও যায়। কিন্তু সোমবার রাতে প্রথম মিনিট থেকেই ইস্টবেঙ্গলের কাছে আত্মসমর্পণ। ৩৫ মিনিটে জোসেফ লালমুয়ানামা লালকার্ড দেখায় বাকি ৫৫ মিনিট দশজনে খেলে সাদা কালো ব্রিগেড। সুযোগের পূর্ণ ফায়দা তোলে অস্কার ব্রুজোর দল। এক ম্যাচে ১৭টি কর্নারের রেকর্ড ছিল মোহনবাগানের। সেটাকে ছাপিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। এদিন মাঝমাঠে অনবদ্য রশিদ। মাঠ জুড়ে খেলেন। ধারাবাহিকতা অব্যাহত মিগুয়েলেরও।
ধারে-ভারে ইস্টবেঙ্গলের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে মহমেডান। তবে অন্তত রক্ষণ জমাট করে প্রতি আক্রমণে খেলার আশা করা গিয়েছিল মেহরাজের দলের থেকে। কিন্তু পরিকল্পনাহীন ফুটবল সাদা কালো ব্রিগেডের। যেমন মাঝমাঠ, তেমনই রক্ষণ। চলতি আইএসএলে সবচেয়ে জঘন্য ম্যাচ মহমেডানের। মিগুয়েল, এজেজারিকে রুখতে হিমশিম খায় সাদা কালোর ডিফেন্ডাররা। গোল সংখ্যা এক ডজন হলেও অবাক হওয়ায় কিছু ছিল না। একাই পাঁচ গোল মিস করেন এজেজারি। এছাড়াও গোটা ম্যাচে গোল মিসের বন্যা। মিস করেন মিগুয়েল এবং এডমুন্ড। তথাকথিত মিনি ডার্বি। কিন্তু অসম লড়াই। পুরো একতরফা ম্যাচ।
কেরল ম্যাচে জঘন্য ফুটবলের পর 'গো ব্যাক' স্লোগান শুনতে হয়েছিল অস্কারকে। এদিন হাফ ছেড়ে বাঁচবেন। বুক ফুলিয়ে মাঠ ছাড়বেন বললেও হয়ত ভুল হবে না। দলে কোনও পরিবর্তন করেননি অস্কার। কেরলের বিরুদ্ধে নাস্তানাবুদ হওয়া দলই এদিন সাত গোল দিল। আইএসএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয় ইস্টবেঙ্গলের। তবে চুলচেরা বিশ্লেষণ করলে, আদৌ খুব কি খুশি হতে পারবেন ব্রুজো? নব্বই মিনিটে মোট ২১টি কর্নার পায় ইসইবেঙ্গল। কিন্তু সেট পিস থেকে গোল মাত্র দুটো। যদিও নব্বই মিনিট আক্রমণের ঝড় তোলে ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের ৬ মিনিটে এগিয়ে যায় লাল হলুদ। রশিদের থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের দূরপাল্লার শটে গোল আনোয়ার আলির। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে শট নেন ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্ডার। অপ্রস্তুত ছিলেন মহমেডান গোলকিপার পদম ছেত্রী। তাঁর হাতের তলা দিয়ে বল গলে যায়। তার তিন মিনিটের মধ্যে আবার সুযোগ। ম্যাচের ৯ মিনিটে মিগুয়েলের কর্নার থেকে আনোয়ারের হেড বাঁচায় পদম ছেত্রী। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই লকগেট খুলে যায়।
ম্যাচের ১৩ মিনিটে পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। বক্সের মধ্যে মিগুয়েলকে ফেলে দেন সাজাদ। ১৪ মিনিটে স্পট কিক থেকে ব্যবধান বাড়ান এজেজারি। লাল হলুদ জার্সিতে ছয় নম্বর গোল তুলে নেন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। তবে এদিন হ্যাটট্রিক করে ফেলতে পারতেন। ম্যাচের ২২ মিনিটের মধ্যে গোলের তিনটে সুযোগ মিস এজেজারির। ফাঁকায় মহমেডান কিপারকে পেয়েও হাতে মারেন।
মহমেডানের প্রথম সুযোগ ২৯ মিনিটে। ভাল জায়গায় ফ্রিকিক পায়। কিন্তু সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারেননি ফরদিন আলি মোল্লা। এদিন দলে একটাই পরিবর্তন করেন মেহরাজ। ইসরাফিলের জায়গায় প্রথম একাদশে ফেরেন ফারদিন। কিন্তু তাতে ফেরেনি ছন্দ। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন জোসেফ। মাত্র দু'মিনিটের মধ্যে জোড়া হলুদ কার্ড দেখেন মহমেডানের ডিফেন্ডার। ৩৩ মিনিটে প্রথমে মিগুয়েলকে ফাউল করেন জোসেফ। তার দু'মিনিটের মধ্যে বক্সে এডমুন্ডের জার্সি টেনে ফেলে দেন। নিশ্চিত পেনাল্টি। প্রথম সুযোগে গোল করলেও, আবার পেনাল্টি মারতে হয় সল ক্রেসপোকে। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায়ও গোল।
বিরতির পরও তেড়েফুঁড়ে শুরু করে লাল হলুদ ব্রিগেড। কার্যত এক অর্ধেই খেলা হয়। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে মিগুয়েলকে ফেলে দেন পদম ছেত্রী। নিশ্চিত পেনাল্টি। গোল করতে ভুল করেননি এজেজারি। নওরেম মহেশ, নন্দকুমাররা নামার পর আক্রমণ আরও বাড়ে ইস্টবেঙ্গলের। আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ে মহমেডান। নওরেম, ডেভিডের নিশ্চিত গোল বাঁচায় সাদা কালোর কিপার। কিন্তু গোল সংখ্যা আটকে রাখতে পারেননি। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে ৫-০। মিগুয়েলের কর্নার থেকে বিষ্ণুর গোল। চার মিনিটের মধ্যে ষষ্ঠ গোল ইস্টবেঙ্গলের। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে মহেশের কর্নার থেকে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন আনোয়ার। খেলার সংযুক্তি মিনিটে মহমেডানের কফিনে শেষ পেরেক পোঁতেন পরিবর্ত ফুটবলার নন্দকুমার। ম্যাচের সেরা গোল এটাই। ম্যাচ শেষে ক্ষিপ্ত মহমেডান সমর্থকরা। খেলা চলাকালীনই রেফারিকে চোর উপাধি দেওয়া হয়। গ্যালারি থেকে মাঠে দু'তিনটে চেয়ারও পড়ে।
