আজকাল ওয়েবডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে নোভাক জকোভিচ। শুক্রবার সেমিফাইনালে পাঁচ সেটের লড়াইয়ে ইয়ানিক সিনারকে হারান সার্বিয়ান তারকা। ম্যাচের ফলাফল ৩-৬, ৬-৩, ৪-৬, ৬-৪, ৬-৪। কেরিয়ারের ১১তম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে জোকার। দশবারের চ্যাম্পিয়ন দু'বার এক সেটে পিছিয়ে থেকেও দারুণ প্রত্যাবর্তন করেন। বিশ্বের দু'নম্বর প্রথম এবং তৃতীয় সেট জেতেন। বাকি দুটো সেট জিতে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ পঞ্চম সেটে নিয়ে যান জকোভিচ। তারপর দেখান বুড়ো হাড়ে ভেলকি। ৩৮ বছর বয়সেও অপ্রতিরোধ্য। কথায় আছে, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট। এদিন এই প্রবাদ আরও একবার প্রমাণ করলেন সার্বিয়ান। হারালেন ২৪ বছরের প্রতিপক্ষকে। গত দুই বছরে সিনারের বিরুদ্ধে জকোরের প্রথম জয়। ফাইনালে কার্লোস আলকারাজের মুখোমুখি হবেন জকোভিচ। এদিন চোট উপেক্ষা করে প্রথম সেমিফাইনালে অ্যালেক্সজান্ডার জাভারেভকে হারান বিশ্বের একনম্বর টেনিস তারকা।
২০২৪ সালের উইম্বলডনের পর আবার কোনও গ্র্যান্ডস্লামের ফাইনালে উঠলেন জকো। প্রথম সেটের পর অনেকেই হয়ত ম্যাচের দেওয়াল লিখন পড়ে ফেলেছিল। তাঁদের চমক দিলেন সার্বিয়ান তারকা। ৩৮ বছরের জকোভিচের কোর্টে চার ঘন্টার বেশি লড়াই। এককথায়, অবিশ্বাস্য। ২৪টি গ্র্যান্ডস্লামের মালিকের প্রথম সার্ভিস গেম ব্রেক। তারপর প্রথম সেটে হার। দ্বিতীয় সেটে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। ১৪ বছরের ছোট প্রতিপক্ষকে গোটা কোর্টে ছুটতে বাধ্য করেন। তৃতীয় সেটে আবার হার। এই বয়সে এই জায়গা থেকে ফিরে আশা কঠিন। কিন্তু দাঁতে দাঁত চেপে লড়লেন জোকার। সিনারের কাছে শেষ পাঁচ ম্যাচ হেরেছেন। পরিসংখ্যানের বিচারে কিছুটা পিছিয়ে থেকেই শুরু করেছিলেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত বদলে দিলেন যাবতীয় হিসেব-নিকেশ। ২০২৩ সালে শেষ গ্র্যান্ডস্লাম জয়। জিতেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ওপেন। তারপর থেকে অপেক্ষা ক্রমশ দীর্ঘায়িত হয়। চোট-আঘাত, হার তাঁর জীবনের অঙ্গ হয়ে যায়। কিন্তু হাল ছাড়েননি। ৪ ঘণ্টা ৯ মিনিটের লড়াইয়ের শেষে ২৫তম গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ের হাতছানি জকোভিচের সামনে। জয়ের পর রাফায়েল নাদালের কথা মনে পড়ে তাঁর। সেবার ৬ ঘণ্টার ফাইনাল হয়েছিল। রবিবার ২২ বছরের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আরও একটি রুদ্ধশ্বাস লড়াই উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সার্বিয়ানের।
