আজকাল ওয়েবডেস্ক: সময় এগিয়ে চলে, ঋতু বদলায়, জার্সির রং বদলে যায় কিন্তু কিছু ভালোবাসা কখনও বদলায় না। কিছু নাম থেকে যায় স্মৃতির পাতায়, কিছু মানুষ জায়গা করে নেন হৃদয়ের অ্যালবামে। অতীতে যেমন সোনি নর্দি, ব্যারেটো, ওডাফারা তাঁদের কীর্তির আলোয় এক অমর গল্প লিখে গিয়েছিলেন মোহনবাগানে, তেমনই এক অধ্যায়ের নাম হয়ে উঠেছিলেন দিমিত্রি পেত্রাতোস।

সবুজ-মেরুন জনতার কাছে তিনি শুধু একজন বিদেশি ফুটবলার ছিলেন না, তিনি ছিলেন আবেগের আরেক নাম। তিনি ছিলেন সেই শিল্পী,যাঁর দূরপাল্লার শটে জেগে উঠত গ্যালারি, যাঁর গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের গোল হয়ে উঠত লক্ষ সমর্থকের আনন্দের কারণ।

‘দিমি গড’—এই নাম শুধু একটি ডাকনাম নয়, এটি ছিল সমর্থকদের ভালোবাসার স্বীকৃতি। মোহনবাগানের জার্সি গায়ে চাপিয়ে তিনি শুধু মাঠে লড়াই করেননি, তিনি মিশে গিয়েছিলেন ক্লাবের আবেগ, ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সঙ্গে।

সেই অধ্যায় শেষ হল। সবুজ-মেরুন জার্সিতে আর দেখা যাবে না সেই পরিচিত হাসি, সেই উদযাপন, সেই জাদুকরী মুহূর্ত। কিন্তু কিছু বিদায় কখনও শেষ হয় না, তারা থেকে যায় স্মৃতির গ্যালারিতে।

বিদায়বেলায় দিমির কণ্ঠেও ছিল সেই গভীর আবেগ,“এই রংগুলো পরা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানের বিষয় ছিল। এই ক্লাবের প্রতীকের জন্য লড়াই করা এবং প্রতিদিন আপনাদের ভালবাসা অনুভব করা, এগুলো আমার কাছে চিরকাল অমূল্য হয়ে থাকবে। প্রতিটি উল্লাস, প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি স্মৃতির জন্য ধন্যবাদ। এই ভালবাসা সারাজীবন আমার সঙ্গে থাকবে।”

একজন মেরিনার এসেছিলেন, একজন মেরিনার হয়েই থেকে গেলেন।

সময় হয়তো তাঁকে অন্য জার্সিতে দেখবে, কিন্তু মোহনবাগানের হৃদয়ে দিমিত্রি পেত্রাতোসের নাম লেখা থাকবে চিরকাল। একজন যোদ্ধা হিসেবে, একজন শিল্পী হিসেবে।