আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইপিএলের ইতিহাস যেন দুই মহীরুহের গল্প—একদিকে চেন্নাই সুপার কিংস, অন্যদিকে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। শিরোপার মুকুটে দু’দলেরই সমান দীপ্তি—পাঁচটি করে ট্রফি। তবু সংখ্যার সরল হিসাবের বাইরে, এই লড়াইয়ের ভেতরে লুকিয়ে আছে ভিন্ন এক ব্যাখ্যা, ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গি।
চেন্নাইয়ের গল্প শুরু ধারাবাহিকতার মহিমায়। ২০১০ আর ২০১১—দুটি বছর যেন সোনালি অক্ষরে লেখা, টানা দুইবার শিরোপা জিতে তারা প্রথম গড়েছিল রাজত্বের ছন্দ। নিষেধাজ্ঞার অন্ধকার পেরিয়েও তারা ফিরে এসেছে দৃপ্ত পদক্ষেপে, বারবার পৌঁছেছে ফাইনালের মঞ্চে, প্লে-অফে নিজেদের উপস্থিতি করেছে অবধারিত। সংখ্যার ভাষায়, স্থিরতা আর স্থায়িত্বের প্রতীক যেন চেন্নাই।
অন্যদিকে মুম্বই—তাদের উত্থান একটু দেরিতে, কিন্তু ঝলকানিতে কম নয়। ২০১৩ থেকে শুরু, তারপর যেন ছন্দময় ব্যবধানে শিরোপা জয়। ২০১৯ ও ২০২০-এ টানা সাফল্য তাদের শক্তির আরেক প্রমাণ। তারা হয়তো কমবার ফাইনাল খেলেছে, কিন্তু যখন জিতেছে, তখন যেন নির্দ্বিধায় নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে।
তবু ইরফান পাঠানের চোখে এই লড়াইয়ের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে অন্যত্র। তার কাছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স কেবল একটি সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি নয়, বরং ভারতীয় ক্রিকেটের এক উর্বর ক্ষেত্র। এখান থেকেই উঠে এসেছে নেতৃত্বের বীজ, প্রতিভার আলো—রোহিত, সূর্যকুমার, হার্দিকদের মতো ক্রিকেটাররা শুধু দলের নয়, দেশেরও ভরসা হয়ে উঠেছেন।
চেন্নাই যেখানে স্থিরতার প্রতীক, মুম্বাই সেখানে বিকাশের। একদল সময়কে জয় করেছে ধারাবাহিকতায়, অন্যদল সময়কে গড়েছে প্রতিভা দিয়ে। পাঠান বলছেন, ''আইপিএলের শ্রেষ্ঠ দল হিসেবে চেন্নাই ও মুম্বইয়ের একটিকে বেছে নেওয়ার ব্যাপারটি সবসময়ই বিতর্কের ব্যাপার। চেন্নাই জিততে শুরু করেছে ২০১০ থেকে। ২০১০ ও ২০১১ সালে তারা ধারবাহিকভাবে ট্রফি জিতেছে এবং টানা শিরোপা জয়ের প্রথম নজির গড়েছে। মুম্বই জিততে শুরু করেছে ২০১৩ সাল থেকে এবং এরপর তারা এক মরশুম পরপরই জিততে থাকে। ২০১৯ ও ২০২০ সালে টানা ট্রফি জিতেছে তারা।''
পাঠান আরও বলেন, ''মুম্বইয়ের যে ব্যাপারটা আমার ভাল লাগে, তা হল ভারতীয় ক্রিকেটে তাদের অবদান। তারা ভারতীয় দলের জন্য যে সংখ্যক ম্যাচ উইনার জোগান দিয়েছে, তা এককথায় অসাধারণ। ভাবতে পারেন, এটা কীভাবে সম্ভব!'' পাঠানের কাছে এগিয়ে মুম্বই। তবুও প্রশ্নটা কিন্তু থেকেই যায়। সেরা কে? চেন্নাই বনাম মুম্বই লড়াই চিরকালই এরকম তর্কের বীজ বুনে যাবে।
