আজকাল ওয়েবডেস্ক: সপ্তাহ দুয়েক আগে বাড়িতে টিভির পর্দার সামনে বসে সতীর্থদের জন্য গলা ফাটাতেন। সে আজ মেয়েদের বিশ্বকাপ ফাইনালে ম্যাচের সেরা। আচমকাই ভাগ্যের দরজা খুলে যাবে স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি।  প্রতিকা রাওয়াল চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ায় শেষ দুই ম্যাচে তাঁর জায়গায় সুযোগ পান শেফালি। সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল খেলেন। তাতেই বাজিমাত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ফাইনালে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ রানের পর বল হাতে জোড়া উইকেট। স্বভাবতই ম্যাচের সেরা। 
শেফালির গল্প সকলের জানা। তবে তাঁকে সম্পূর্ণভাবে জানতে ফিরে যেতে হবে কোভিডের আগে ২০১৯ সালে রোহটকে। তখন মাত্র ১৫ বছর বয়স ছিল তাঁর। কোচ অশ্বিনি কুমারের তত্ত্বাবধানে শ্রী রাম নারাইন ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে তাঁকে কঠোর পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়। হরিয়ানার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে খেলা পুরুষ পেসারদের পেস বোলিংয়ের মুখোমুখি হতে হয়। যারা শেফালির বয়সের দ্বিগুণ। আশিস হুডাকে বল করতে বলেন শেফালির কোচ। প্রথমে তিনি কিছুটা হকচকিয়ে যান। হুডা বলেন, 'আমি চাইনি ও চোট পাক। কারণ ও খুবই ছোট ছিল।' প্রথম বলেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে বোলারের মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান। পরের বল ১৩০ কিলোমিটার ঘণ্টা বেগে করা হয়, কিন্তু একই পরিণতি। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই আগ্রাসন ছিল তাঁর। পরবর্তীতে নতুন পরীক্ষার মুখে পড়েন। কিন্তু তাঁকে কেউ দমাতে পারেনি। 

২০২৪ সালে কেরিয়ারের সবচেয়ে খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যান শেফালি। খারাপ ফর্মের জন্য দল থেকে বাদ পড়েন। হতাশ না হয়ে আবার নতুন করে শুরু করেন। গুরুগ্রামে সূর্যাস্তের আগে দিন শুরু হয়ে যেত তাঁর। দুই ঘণ্টার ব্যাটিং সেশনের পর কড়া ওয়েট ট্রেনিং। সেই জায়গা থেকে আবার ফেরেন ভারতীয় দলে। প্রতিকার চোট ভাগ্য খুলে দেয়। বাকিটা ইতিহাস। শেফালি জানান, শচীন তেন্ডুলকরকে স্ট্যান্ডে দেখে আরও বেশি উদ্দীপ্ত হয়ে যান তিনি। ছেলে এবং মেয়েদের বিশ্বকাপ মিলিয়ে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে সর্বকনিষ্ঠ প্লেয়ার হিসেবে ম্যাচের সেরা হওয়ার নজির গড়েন। রবিবার মুম্বইয়ের ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারতের মেয়েরা। ৮৭ রানের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ দুটো উইকেট নেন শেফালি। 

ভারতীয় অলরাউন্ডারের দাবি, ভগবান তাঁকে ভাল কিছু করার জন্যই পাঠিয়েছিল। তারওপর গ্যালারিতে শচীনের উপস্থিতি তাঁকে বাড়তি মোটিভেশন যোগায়। শেফালি বলেন, 'আমি ম্যাচের শুরুতেই বলেছিলাম, ঈশ্বর আমাকে ভাল কিছু করার জন্যই পাঠিয়েছে। সেটাই প্রতিফলিত হয়েছে। জিতে দারুণ লাগছে। কথায় ব্যাখ্যা করতে পারব না। পথটা কঠিন ছিল। কিন্তু আমার নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস ছিল। জানতাম, মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারলে, অনেক কিছু অর্জন করতে পারি। আমার পরিবার, আমার বন্ধুবান্ধব, আমার ভাই, সবাই আমাকে সমর্থন করেছে। এটা আমার এবং আমার দলের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি যেভাবেই হোক দলকে জেতাতে চাইছিলাম।' বুধবার মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দল।