আজকাল ওয়েবডেস্ক: নতুন বছরের শুরুতে ফের শিরোনামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তন তারকা ওপেনার ক্রিস গেইল। তবে ২২ গজের পারফরম্যান্সের জন্য নয়। তিনি চর্চায় উঠে এসেছেন মাঠের বাইরের এক রঙিন মুহূর্তের কারণে। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেন ‘ইউনিভার্স বস’।
সেখানে তাঁকে দেখা যায় ক্যারিবিয়ান কার্নিভালের আমেজে নাচতে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটির সঙ্গে গেইল লিখেছেন, Phuckry Gwan! 2026।
এই শব্দটি ক্যারিবিয়ান চলতি কথা থেকে এসেছে। এর বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় বিশৃঙ্খলা বা অগোছালো পরিস্থিতি। তবে স্থানীয় ক্যারিবিয়ান ভাষায় এর অর্থ দাঁড়ায় ‘কী চলছে?’।
তার সঙ্গে ২০২৬ সাল যুক্ত করে গেইল যেন ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে খানিকটা ব্যঙ্গাত্মক বার্তাই দিয়েছেন বলে মনে করছেন অনুরাগীরা। সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই শব্দবন্ধটি বিশৃঙ্খলা বা একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বোঝাতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যা আবারও প্রমাণ করে ট্রেন্ড ধরতে গেইলের দক্ষতা।
প্রাণবন্ত এই ভিডিও গেইলের মাঠের বাইরেও জনপ্রিয়তা ও ক্যারিশমারই তুলে ধরেছে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গেইলের শেষ উপস্থিতি ছিল ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আবুধাবিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে। তারপর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর দেখা যায়নি তাঁকে।
যদিও এখনও পর্যন্ত তিনি অবসর নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেননি। ফলে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।
তবে মাঠে না খেললেও মাঝেমধ্যেই ২২ গজের বাইরে প্রকাশ্যে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর উপস্থিতি সেই জল্পনা আরও বাড়িয়ে তোলে। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কেরিয়ারে ক্রিস গেইল নিজেকে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ওপেনার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
একদিনের ক্রিকেটে তাঁর রান ১০,৪৮০, টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১,৮৯৯ রান, আর ১০৩টি টেস্টে ৭,২১৪ রান, যেখানে তাঁর টেস্ট গড় ৪২.১৮।
আগ্রাসী ব্যাটিং ও ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাই তাঁকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের অন্যতম বড় ম্যাচ-উইনারে পরিণত করেছে। তবে ‘ইউনিভার্স বস ডাকনামটাই গেইলের ব্যক্তিত্বকে সংক্ষেপে তুলে ধরে।
মাঠে যেমন আত্মবিশ্বাস ও দাপট, তেমনই মাঠের বাইরেও রঙিন উপস্থিতি ও বিনোদনমূলক চরিত্রে তিনি অনন্য। ক্রিকেট না খেললেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে গেইলের কোনও সমস্যাই হয় না।
অনুরাগীদের কাছে এই পোস্ট গেইলের প্রাণোচ্ছল স্বভাব ও ক্যারিবিয়ান সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর গভীর যোগসূত্রের স্মারক। ক্রিকেটে তাঁর ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত হলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় গেইলের উপস্থিতি প্রমাণ করে দেয় সংস্কৃতি ও বিনোদনের ক্ষেত্রেও তিনি আজও এক প্রভাবশালী নাম।
