আজকাল ওয়েবডেস্ক: নববর্ষের দিন ময়দান সরগরম। রীতি মেনে বাংলার নতুন বছরের প্রথম দিন বারপুজো হল ইস্টবেঙ্গলে। তবে আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক ফিকে। সংকল্প করেন ক্লাব সচিব রূপক সাহা। ছিলেন না ইস্টবেঙ্গলের সিনিয়র দলের কোচ, ফুটবলাররা। বৃহস্পতিবার ঘরের মাঠে বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। তাই এদিন তারই প্রস্তুতিতে ছিলেন অস্কার ব্রুজো এবং তাঁর দল। তবে ক্লাবের বারপুজোয় উপস্থিত ছিল ইস্টবেঙ্গলের মেয়েদের ফুটবল দল এবং ডেভেলপমেন্ট টিম। বছর দুয়েক আগে ইস্টবেঙ্গল সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, বছরের প্রথম দিন ক্লাব চত্বরে উপচে পড়েছিল ভিড়। কিন্তু এদিন সদস্য, সমর্থকদের উপস্থিতি বড়ই কম। প্রাক্তনদের মধ্যে ছিলেন আলোক মুখার্জি, মেহতাব হোসেন, রহিম নবি, দীপঙ্কর রায়রা।

লাল হলুদে ট্রফির খরার জন্যই কি এমন হাল? তেমন মনে করেন না শীর্ষকর্তা। দেবব্রত সরকার বলেন, 'আগে কোনও যন্ত্র ছিল না। এখন এত যন্ত্র চলে এসেছে, মোবাইলে সবকিছু দেখে নেওয়া সহজ হয়ে গিয়েছে। মানুষকে জমায়েত হতে যেমন সাহায্য করে, তেমন বিপরীতও হয়।' নতুন বছরে কি আইএসএল জেতার অঙ্গীকার নিল ইস্টবেঙ্গল? ক্লাবে ঢুকবে দেশের সেরা লিগের ট্রফি? দেবব্রত সরকার বলেন, 'আমাদের দল ভাল, কোচ ভাল। চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করছে। সাফল্য আনতে হলে একসঙ্গে পারফর্ম করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য পরিকাঠামোর উন্নতি করা। স্কুল অফ এক্সেলেন্স করে ট্যালেন্ট হান্ট নিয়ে দেশের কাছে পৌঁছতে চাইছি। সার্বিকভাবে ফুটবলের উন্নতি চাই। খেলাটা আরও উন্নতমানের হলে, ইনভেস্টররা মুখ ঘুরিয়ে নেবে না। সেটা করতে গেলে প্রত্যেক আইএসএলের দলকে অ্যাকাডেমি করতে হবে। আমরা ইউথ নিয়ে আরও বেশি কাজ করতে চাই।' 

ইস্টবেঙ্গলকে কি চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে দেখছেন প্রাক্তনরা? ছোট ফরম্যাটের লিগে কতটা সুযোগ আছে অস্কারের দলের? নবি বলেন, 'ইস্টবেঙ্গল বড় নাম। যে টুর্নামেন্টে খেলুক না কেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য খেলে। এবারের লিগটা এমন, যে টপে থাকবে সেই চ্যাম্পিয়ন। তাই আশা ছাড়া যাবে না। ম্যাচ প্রতি এগোতে হবে। প্রত্যেক ম্যাচেই অলআউট যেতে হবে।' মেহতাব নির্দিষ্ট কোনও দল বেছে নিতে চান না। জানান, সুযোগ তৈরি করে নিতে হবে ব্রুজোর দলকে। মেহতাব বলেন, 'যে দলগুলো ওপরের দিকে আছে তাঁরা সুযোগ দিচ্ছে। আগের দিন মুম্বই ড্র করেছে, বেঙ্গালুরু হেরেছে। এই সুযোগগুলো নিতে হবে। আর একটা, দুটো ম্যাচ জিতলে টপে চলে যাবে। যারা চ্যাম্পিয়নশিপে আছে, তাঁদের ধরে ফেলবে। কোচ এবং প্লেয়ারদের এতেই ফোকাস করা উচিত।'

দীপঙ্কর কোনও রাখঢাক করলেন না। লাল হলুদকেই চ্যাম্পিয়ন দেখছেন। দীপঙ্কর বলেন, 'এবছর যা দল করেছে, তাতে চ্যাম্পিয়ন হতেই হবে। অনেক বছর ধরে ইস্টবেঙ্গলের অবস্থা খারাপ। এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল আছে। দুটো ম্যাচ জেতার পর একটু সমস্যায় পড়েছিল। কিন্তু অ্যাওয়ে ম্যাচ জিতে ফেরায় মনোবল বাড়বে। প্লেয়ারদের বুঝতে হবে ইস্টবেঙ্গলের জার্সি পরে খেলছে।' 

আইএসএল শেষ হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই শুরু হয়ে যাবে কলকাতা লিগ। এবার ঘরোয়া লিগের ম্যাচ নিজেদের মাঠে খেলবে ইস্টবেঙ্গল। কয়েকটি ম্যাচ ফ্লাডলাইটে করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের অধিনায়ক মহম্মদ রাকিপ। সহ অধিনায়ক লালচুংনুঙ্গা। বুধবার, বাঙালির  নতুন বছরের প্রথমদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয় নতুন মরশুমের অধিনায়কের নাম। এদিন সবাইকে অবাক করে বারপুজোর শেষ বেলায় লাল হলুদ তাঁবুতে পা রাখেন হোসে রামিরেজ ব্যারেটো। বারপুজোর অনুষ্ঠানে শামিল হন সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে। তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করতে দেখা যায় দেবব্রত সরকারকে। কিন্তু তার খোলসা করতে চাননি ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা। তবে জানা গিয়েছে, আগামী মরশুমে আইএসএলের ম্যাচ নিজেদের মাঠে আয়োজনের আর্জি জানান ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা। এদিন মাঠ দেখে খুশি ফেডারেশনের সভাপতি। তবে আইএসএল করতে লাগবে হসপিটালিটি বক্স। যা নেই ইস্টবেঙ্গলে। বাকি সবকিছু মজুত আছে।