আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইংল্যান্ডের হেড কোচের পদ এখনও বহাল থাকলেও, অ্যাশেজ সিরিজ চলাকালীন দলের সংস্কৃতি নিয়ে ওঠা গুরুতর অভিযোগে চাপে পড়ে গিয়েছেন ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম।

দলের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব এবং পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ইসিবির রিভিউ মিটিংয়ে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ায় গতবছর অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের ৪-১ ব্যবধানে হারকে ‘ম্যানেজমেন্টের ব্যর্থতা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, দুর্বল প্রস্তুতি এবং আগ্রাসী ‘বাজবল’ কৌশল কাজে না লাগতেই দলের কঙ্কালসার চেহারা সামনে আসে। অ্যাশেজে পরাজয়ের পর কোচ ম্যাককালামের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

সেই সময় অধিনায়ক বেন স্টোকস একটি রিপোর্ট জমা দেন। সেখানে অ্যাশেজে হারের জন্য টিম ম্যানেজমেন্টকে দায়ী করা হয়। ইসিবির রিভিউ বৈঠকে ম্যাককালাম ও স্টোকস একে অপরের দিকে দোষারোপ করেছেন বলেও জানা গেছে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, অ্যাশেজে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন ম্যাককালাম এবং পরবর্তীতে স্টোকসের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সমঝোতায় পৌঁছান তিনি।

আর্থিক ব্যয়ের কথা বিবেচনা করে ইসিবি আপাতত তাঁকে বরখাস্ত করেনি। কারণ, প্রাক্তন নিউজিল্যান্ড অধিনায়কের সঙ্গে এখনও প্রায় ১৮ মাসের চুক্তি বাকি রয়েছে। জানা গিয়েছে, অ্যাশেজ সিরিজের পর নাকি একটি রিভিউ বৈঠক হয়েছিল।

সেখানেই নাকি জানা গিয়েছিল কোচ ও অধিনায়ক পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নন। দু’‌জনে নাকি সিরিজ চলাকালীন সেভাবে কথাও বলেননি। স্টোকসের দাবি ছিল, বাজবল কীভাবে আটকাতে হবে তা ধরে ফেলেছে বিপক্ষ দলগুলি। সেই দৃষ্টিভঙ্গি এবার বদলাতে হবে।

ম্যাকালাম আবার অভিযোগ করেছিলেন, স্টোকসের নেতৃত্বে কোনও ধারাবাহিকতা নেই। তিনি কোচের দর্শন মেনে চলেন না। ওই রিভিউ বৈঠকে ম্যাকালাম বলেছিলেন, অ্যাশেজের মাঝে অধিনায়কের ভুল বার্তা পেয়ে দলের ক্রিকেটাররা আরও বেশি সমস্যায় পড়ে গিয়েছিলেন।

নিজেদের কাজটা নাকি ক্রিকেটাররা বুঝতেই পারেননি। এই কারণেই সিরিজ হারতে হয়েছে। ক্রিকেটারদের থেকে সেরাটা পাওয়া যায়নি। স্টোকসের আবার অভিযোগ ছিল, ক্রিকেটারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে নাকি ছোট করে দেখার চেষ্টা করেন ম্যাকালাম।

যদিও এখন নাকি সব ঠিকঠাক আছে। অ্যাশে‌জের পর প্রকাশ্যে এসেছিল হ্যারি ব্রুকের মদ্যপান এবং বারে গিয়ে মারামারির ঘটনা। সেই ঘটনা যেভাবে ম্যাকালাম সামলেছেন তার প্রশংসা করেছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড।

এর পাশাপাশি, ম্যাকালাম দলে গঠনগত পরিবর্তন আনতেও রাজি হয়েছেন। ইসিবির নজরদারিতেও তাঁর আপত্তি নেই। পারফরম্যান্স ডিরেক্টর এড বার্নের কাজ বাড়ানো হয়েছে।

সাপোর্ট স্টাফ বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রিকেটারদের ফিটনেসের দিকেও বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। যদিও তারপরেও সাফল্য আসছে না। যার প্রমাণ দারুণ শুরু করেও টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে ছিটকে যায় ইংল্যান্ড।