আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে বহুল আলোচিত ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয়েছে। 

২০২৬ মরশুম শেষে এই নিয়ম পর্যালোচনা করবে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড। বিসিসিআই  সচিব দেবজিৎ সইকিয়া জানিয়েছেন, গত দুই বছর ধরেই এই নিয়ম নিয়ে আলোচনা চলছে।

২০২৩ সালে আইপিএলে চালু হওয়া ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার অনুযায়ী, কোনও দল ম্যাচ চলাকালীন একজন খেলোয়াড়কে বদলে অন্য একজনকে নামাতে পারে। এর ফলে দলগুলি প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটিং বা বোলিং শক্তি বাড়িয়ে নিতে পারছে। অনেক ক্ষেত্রেই দলগুলি অতিরিক্ত ব্যাটার খেলিয়ে পরে তাঁকে বদলে বোলার নামাচ্ছে, যার ফলে ব্যাটিং আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

এই নিয়ম চালুর পর থেকেই আইপিএলে বড় স্কোরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২৫০-র বেশি রান এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি মরশুমে পাঞ্জাব কিংস বনাম দিল্লি ক্যাপিটালস ম্যাচে দিল্লি ২৬৪ রান করেও ম্যাচ হেরে যায়। পাঞ্জাব কিংস ১৯ ওভারের আগেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে, যা টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড।

এছাড়া মুম্বই ইন্ডিয়ান্সও নিজেদের মাঠে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ২৪৪ রান করেও হার স্বীকার করে। প্রতিপক্ষ দল মাত্র ১৮.৪ ওভারেই লক্ষ্য পূরণ করে ফেলে।

তবে এই নিয়মের ফলে অলরাউন্ডারদের ভূমিকা কমে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। কারণ দলগুলি এখন বিশেষজ্ঞ ব্যাটার বা বোলার ব্যবহারেই বেশি ঝুঁকছে। সমালোচকদের মতে, এই প্রবণতা ভবিষ্যতে ভারতীয় জাতীয় দলের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই ধরনের নিয়ম নেই।
যদিও এই সমালোচনার মধ্যে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সইকিয়া জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত কোনও দল আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায়নি।

তিনি বলেন, ''কখনও কম স্কোর, কখনও ২৬০ রান তাড়া করা হচ্ছে। দর্শকরা উপভোগ করছেন। এটা একেবারে কমপ্লিট  প্যাকেজ।'' 

তিনি আরও বলেন, ''মরশুম চলাকালীন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। টুর্নামেন্ট শেষে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। যদি দলগুলির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়, তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'' 

চলতি আইপিএলের ফাইনাল ৩১ মে। এরপরই এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে বিসিসিআই।